থাইল্যান্ডে সরাসরি জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্ত

থাইল্যান্ডে সরাসরি জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্ত

88
0
SHARE

হোমঅর্থনীতি
প্রিণ্ট সংস্করণ | প্রকাশ : ০৩ মার্চ, ২০১৬ ১০:৪৩:০৫ প্রিন্টঅঅ-অ+
থাইল্যান্ডে সরাসরি জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্ত
বাড়বে আমদানি রফতানি
থাইল্যান্ডে সরাসরি জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্ত
সমুদ্রপথে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে থাইল্যান্ডের রেনং বন্দরের দূরত্ব ১ হাজার ২২০ নটিক্যাল মাইল। জাহাজে করে এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগতে পারে ৪ থেকে ৫ দিন। কিন্তু দু’দেশের মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় সিঙ্গাপুর হয়ে যে কোনো পণ্য আমদানি-রফতানি করতে হয়। থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ও লেমচেবাং বন্দর থেকে মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং কিংবা সিঙ্গাপুর বন্দর হয়ে বছরে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য বাংলাদেশে আমদানি হয়। পণ্যবাহী জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছতে ১২ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে। অথচ সরাসরি জাহাজ সার্ভিস চালু হলে ৪ থেকে ৫ দিনে পণ্য নিয়ে আসা সম্ভব। এতে সময় কমে আসার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অর্থও সাশ্রয় হবে। বাড়বে দু’দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছোট জাহাজ সমুদ্র উপকূল দিয়ে একই জাহাজে চট্টগ্রাম, মংলা কিংবা পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালের মতো ছোট নৌবন্দরগুলোতে ভিড়তে পারবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড নৌ-রুটে কোস্টাল জাহাজ চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড। থাইল্যান্ডের রেনং প্রদেশের গভর্নরের নেতৃত্বে বাণিজ্য প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম সফরকালে রেনং বন্দরের বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও ব্যবসায়ীদের অবহিত করে। এ বন্দর ব্যবহারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরে। বৈঠকে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা প্রস্তাবটি লুফে নেন এবং খুব শিগগির এই নৌ-রুট চালুর আহ্বান জানান। বৈঠকে এই দুই বন্দর ব্যবহার করে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা উপকৃত হতে পারেন এবং বিভিন্ন সেক্টরে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আন্দামান উপকূল থেকে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ব্যবসা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ২০০৩ সালের ২৫ মার্চ থাইল্যান্ড পোর্ট অথরিটি রেনং বন্দর পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথম ধাপে ৫০০ গ্রস টনের কার্গো শিপ এবং দ্বিতীয় ধাপে ১২ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ ভেড়ার ব্যবস্থা করেন। দ্বিতীয় ধাপের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৬ সালে। মিয়ানমারের কাছাকাছি থাইল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলের ছোট বন্দর রেনং একটি আঞ্চলিক বন্দর। সেখানে জেটি রয়েছে দুটি এবং সর্বোচ্চ ৮ মিটার গভীরতার জাহাজ প্রবেশ করতে পারে। রেনং বন্দরের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মাহবুবুল আলম। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, থাইল্যান্ড থেকে এখন পণ্যবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে কমপক্ষে ১৫ দিন প্রয়োজন হচ্ছে। ৪-৫ দিনেও যদি চট্টগ্রাম পৌঁছে সে ক্ষেত্রে অনেক ভালো হবে। ব্যবসায়ীরা থাইল্যান্ডের প্রস্তাব লুফে নিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড রুটে সরাসরি কোস্টাল জাহাজ চালানোর বিষয়ে ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখছেন। লাভজনক হলে ব্যবসায়ীরা অবশ্যই এগিয়ে আসবেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (এডমিন অ্যান্ড প্ল্যানিং) মো. জাফর আলম বলেন, থাইল্যান্ড থেকে পণ্যবাহী জাহাজ উল্টো প্রথমে মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং কিংবা সিঙ্গাপুর বন্দরে যায়। সেখান থেকে পণ্য নামিয়ে অন্য জাহাজে স্থানান্তর করে আবার চট্টগ্রাম বন্দরমুখী জাহাজে তুলে দেয়া হয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY