মেয়েরা শূকর, মুসলমানরা সন্ত্রাসী : ট্রাম্প

মেয়েরা শূকর, মুসলমানরা সন্ত্রাসী : ট্রাম্প

94
0
SHARE

সুপার টিউজডের নির্বাচনের পর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে রিপাবলিকান দলে অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়ে উঠেছেন ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিভিন্ন বেফাঁস মন্তব্যে বিতর্কিত ট্রাম্পের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া ঠেকাতে উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তৃণমূলেও নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও একের পর এক ঝাণ্ডা উড়িয়ে যাচ্ছেন এই ক্যাসিনো ব্যবসায়ী। বিশ্লেষকরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত যদি ট্রাম্প রিপাবলিকান মনোনয়ন পেয়েই যান, তবে তাকে ঠেকাতে সমর্থ হবেন একমাত্র হিলারি ক্লিনটন। ডেমোক্রেট দলের মনোনয়ন লড়াইয়ে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারির প্রার্থিতার আশা ক্রমেই বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। তবে শেষ লড়াই কি হিলারি-ট্রাম্পের মধ্যেই হবে?
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভক্স নিউজের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তিন কারণে রিপাবলিকানের ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঠেকানো দরকার। প্রথমত. ট্রাম্প একজন চরম বর্ণবাদী মানুষ। দ্বিতীয়ত. তার ব্যবসা রেকর্ড প্রশ্নবোধক ও বাটপারিমূলক। তৃতীয়ত. তিনি যেসব পলিসির কথা বলেন তা অত্যন্ত ভয়ংকর ও বিশ্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এখন একমাত্র সাবেক ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটনই পারেন ট্রাম্পের আগুনে পানি ঢালতে। জয়ের পর দেয়া ভাষণে হিলারি নিজেকে অনেকটা সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবেই উপস্থাপন করেছেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী বলেই বিবেচনা করতে শুরু করেছেন। ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে হিলারি বলেন, ‘নির্বাচনে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য আগে কখনও এতটা মাত্রা ছাড়ায়নি এবং তার মাত্রা আর কমবে বলেও মনে হচ্ছে না।’ যুক্তরাষ্ট্রের এখন ভালোবাসা আর মাহাত্ম্য বেশি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন হিলারি।
অন্যদিকে মনোনয়নের লড়াই বাদ দিয়ে একরকম মূল নির্বাচনী লড়াইয়ের সুর তুলেছেন ট্রাম্প। হিলারির ই-মেইল বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি যা করেছেন তা একেবারেই অপরাধ। তাকে যদি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেয়া হয় তবেই দুঃখজনক।’ আট মাস আগে ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা ঘোষণা করেন, দলে খুব কম লোকই ছিলেন, যারা তাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিলেন। গর্ভপাত থেকে সমকামী বিয়েসহ অধিকাংশ উদারনৈতিক ‘পারিবারিক মূল্যবোধ’ প্রশ্নে তার সমর্থন সুবিদিত। এমন লোক কীভাবে রক্ষণশীল ও ধর্মবিশ্বাসী রিপাবলিকান সমর্থকদের মন ভোলাবেন? অথচ সেই ঘটনাই ঘটেছে। আগের চারটি অঙ্গরাজ্যের তিনটিতে জয়সহ সুপার টিউজডের দারুণ সাফল্যের পর রিপাবলিকানের অন্যদের মাথায় হাত উঠেছে।
ট্রাম্পকে নিয়ে ভয়ের কারণ হল, নিম্ন আয়ের ও স্বল্পশিক্ষিত শ্বেতকায় ছাড়া অধিকাংশ নির্বাচক গ্রুপকে তিনি খেপিয়ে তুলেছেন। মেয়েদের তিনি শূকরের সঙ্গে তুলনা করেছেন, মেক্সিকানদের ধর্ষক ও মাদক ব্যবসায়ী বলে তিরস্কার করেছেন, মুসলমানদের ঢালাওভাবে সন্ত্রাসী বলে গাল দিয়েছেন।
সুপার টিউজডের আগেই ফ্লোরিডার সিনেটর ও রিপাবলিকান এস্টাবলিশমেন্টের ‘পছন্দের’ মার্কো রুবিও হুমকি দিয়েছেন, জুলাই মাসে দলের কনভেনশনে, যেখানে প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থী চূড়ান্ত হবে, তিনি কোনো একক প্রার্থী বাছাইয়ের বিরোধিতা করবেন। রুবিও বলেছেন, ‘যে কোনো মূল্যে ট্রাম্পকে ঠেকাতে হবে, লিঙ্কন ও রিগানের দলের হয়ে এমন ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হতে পারেন না।’ গত কয়েক মাস ধরেই দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ট্রাম্পকে ঠেকানোর রণকৌশল নিয়ে দেনদরবার চালিয়েছেন। রক্ষণশীল নেতা পল লেপেজ বিভিন্ন রাজ্যের রিপাবলিকান নেতাদের অনুরোধ করেছিলেন, তারা যেন অবিলম্বে তাদের রাজ্যের নাগরিকদের উদ্দেশে এক খোলা চিঠিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার ক্ষতিকর রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রত্যাখ্যান করার আবেদন রাখেন। কিন্তু সেসব কিছুই কাজে লাগেনি। এখন জাতীয় পর্যায়ে হিলারিই পারেন ট্রাম্পকে ঠেকাতে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY