নেপথ্যে পরকীয়া ও সম্পত্তির বিরোধ বনশ্রীর দুই শিশুকে হত্যা করেছে মা :...

নেপথ্যে পরকীয়া ও সম্পত্তির বিরোধ বনশ্রীর দুই শিশুকে হত্যা করেছে মা : র‌্যাব

70
0
SHARE

রামপুরার বনশ্রীর দুই শিশু বোন নুসরাত জাহান অরুনী (১২) ও ভাই আলভী আমানকে (৬) তাদের মা মাহফুজা মালেক জেসমিন হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, দুই শিশুর মা জেসমিন পরকীয়া, মানসিক অবসাদ ও জায়গাজমি নিয়ে বিরোধের জেরে তার দুই সন্তানকে হত্যা করেন। সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টায় নিজ বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

এর আগে বুধবার বেলা ১১টায় জামালপুর শহরের নতুন হাইস্কুল মোড় এলাকার একটি বাসা থেকে মৃত্যুর ঘটনায় মৃত্যুর শিকার দুই শিশুর মা জেসমিন ও বাবা আমান উল্লাহ এবং খালা মিলিকে আটক করে র‌্যাব।

পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

গত সোমবার বনশ্রীর বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় দুই শিশুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সেসময় খাবারের বিষক্রিয়ায় দুইশিশু মারা গেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। তবে, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা এটাকে হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছেন।

ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসকরা বলেন, দুই ভাইবোন নুসরাত জাহান অরুনী (১২) ও আলভী আমানের(৬) গলায় আঙুলের ছাপ, শরীরের কয়েক স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও জখম আছে। আঘাতজনিত কারণ ও অক্সিজেনের অভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

তবে শিশু দুটির বাবা আমান উল্লাহ ও মা মাহফুজা মালেক জেসমিন হাসপতালে চিকিৎসকদের ওই সময় বলেছিলেন, বনশ্রীর এক চাইনিজ রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে সোমবার দুপুরে নুসরাত ও আলভী বাসায় ঘুমিয়ে পড়ে। এরপর আর জেগে ওঠেনি। বিষক্রিয়ায় তারা মারা গেছে।

মা-বাবা এ দাবি করলেও সোমবার রাতে হাসপাতালে তাদের আচরণ ছিল রহস্যজনক। আর মঙ্গলবার সকালে তারা হাসপাতালে সন্তানদের লাশের কাছে না গিয়ে গ্রামের বাড়ি জামালপুরে চলে যান। তারা লাশের ময়নাতদন্ত করতেও রাজি ছিলেন না। পুলিশের চাপের মুখে সম্মতি দেন।

এদিকে পরিবারের দাবির ভিত্তিতে ওই চাইনিজ রেস্টুরেন্টের তিন কর্মচারীকে সোমবার রাতে আটক করে রামপুরা থানা পুলিশ। দণ্ডবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার পুলিশ তাদের আদালতে পাঠিয়েছে। তারা হলেন- রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার মাসুদুর রহমান, বাবুর্চি আসাদুজ্জামান ওরফে রনি ও আতাউর রহমান।

এ জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবারও থানায় মামলা হয়নি। এদিকে ময়নাতদন্তে হত্যার আলামত পাওয়ার পর দুই শিশুর গৃহশিক্ষিকাসহ পাঁচজনকে র্যাব ৩-এর সিপিসি-১ (খিলগাঁও) কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, বনশ্রীর বি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাড়ির ৫/এ ফ্ল্যাটে স্ত্রী, দুই সন্তান ও মা হাসনাকে নিয়ে ভাড়া থাকেন আমান উল্লাহ। তিনি বাড্ডায় গার্মেন্ট এক্সেসরিজের ব্যবসা করেন। তার মেয়ে নুসরাত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিদ্ধেশ্বরী শাখায় ৫ম শ্রেণির ছাত্রী ও ছেলে আলভী বনশ্রীর হলি ক্রিসেন্ট স্কুলের নার্সারির ছাত্র।
সোমবার সন্ধ্যায় বাসা থেকে তাদের অচেতন অবস্থায় প্রথমে আল-রাজী হাসপাতালে ও পরে রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY