প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশে মুক্তিযোদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশে মুক্তিযোদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু

60
0
SHARE

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশে রহস্যজনকভাবে মারা গেছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। নিহতের নাম নুরুল ইসলাম (৭০)। গোপালগঞ্জ সদরের দক্ষিণ পাড়ায় বণগ্রামে তার বাড়ি।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় তেজগাঁওয়ে (এলেনবাড়ি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চার নম্বর গেটের সামনে হঠাৎ লুটিয়ে পড়েন মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম। একপর্যায় পুলিশ পৌঁছে তাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দুপুর ১২টায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিষ পানে নুরুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে। তবে তার হাতে পাওয়া একটি চিরকুট নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। চিরকুটে লেখা আছে আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। দেশের জন্য আরো কাজ করার সুযোগ চাই। আমি প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চাই। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, হাতে পাওয়া ওই চিরকুটটি তার (নুরুল ইসলাম) হাতের লেখার সাথে মিল নেই। পরিবারের দাবি, নুরুল ইসলাম তিন দিন আগে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসেন।
তবে ঢাকায় এসে তিনি কোথায় উঠেছিলেন কেউ জানতেন না। এমনকি দুই দিন ধরে তাকে মোবাইলে পাওয়া যায়নি। কী উদ্দেশ্যে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন তা-ও কাউকে জানিয়ে আসেননি। নুরুল ইসলামের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে লাশের পোস্টমর্টেম করা হয়েছে।

তেজগাঁও থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন সুরতহালে উল্লেখ করেছেন, কীটনাশক পানে নুরুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পারেন। বেলা ১১টায় এলেন বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের সামনে কীটনাশক পান করে অজ্ঞান হন নুরুল ইসলাম। সেখান থেকে ডিউটিরত অফিসার এএসআই ফিরোজ শাহ তাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ১২টায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ দিকে নিহতের ছেলে লেলিন খান জানান, বাবা দুর্ঘটনায় মারা গেছেন পুলিশের মাধ্যমে এমন খবর পেয়ে তিনি থানায় ছুটে যান। পরে পুলিশ তাকে জানায়, বাবা কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করেছেন। তার দাবি বাবা আত্মহত্যা করতে পারেন না। আত্মহত্যা করার মতো তেমন কোনো কারণও নেই।

তিনি জানান, তারা তিন ভাই-বোন। তিনি ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। স্ত্রী নিয়ে বনশ্রী এলাকায় থাকেন। ছোট ভাই ঢাকায় মোহাম্মদপুরে মেসে থেকে পড়াশুনা করে। বাড়িতে বাবা-মা ও বোন থাকেন।

তিনি জানান, বাবার ঢাকায় আসার বিষয়টি তারা জানতেন না। বুধবার বাড়িতে মায়ের সাথে কথা হলে জানতে পারেন বাবা ঢাকায় এসেছেন। কিন্তু তাদের সাথে যোগাযোগ করেননি। এমনকি ঢাকায় আসার কারণও তারা জানে না। দুই দিন ধরে বাবাকে মোবাইলেও পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান।

তিনি জানান, থানায় আসার পর পুলিশ বাবার লেখা দুই পৃষ্ঠার একটি চিরকুট দেখিয়েছে। তাতে বিভিন্ন কথা লেখা আছে। সর্বশেষ লেখা রয়েছে চির বিদায়। কিন্তু ওই লেখার সাথে বাবার হাতের লেখার কোনো মিল নেই বলে দাবি করেন।

এ ছাড়া পুলিশ তাকে জানিয়েছে, বাবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাতের জন্য এসেছিলেন। ২ তারিখের একটি পাসও তারা দেখান।
তিনি বলেন, আমাদের এমন কোনো কাজ নেই যে বাবাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যেতে হবে। তার বাবা নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা পেতেন। এ ছাড়া তিনি বর্তমানে সরাসরি রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন না। তার বাবা আত্মহত্যা করতে পারেন না বলে দাবি তার।

এ দিকে নিহতের ভাতিজা আশিক জানান, পুলিশের মাধ্যমে ফোন পেয়ে তিনি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চাচার লাশ শনাক্ত করেন। পুলিশ কিভাবে তার মোবাইল নম্বর পেয়েছে তা জানেন না।

তিনি বলেন, চাচার ঢাকায় আসার খবর তার জানা ছিল না। হাসপাতালে লাশ শনাক্তের পর তিনি বাড়িতে ফোন করে চাচার মৃত্যুর খবর জানান। নুরুল ইসলামের মৃত্যু রহস্যজনক বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি জানান, তার চাচা একজন মুক্তিযোদ্ধা। বেশ কয়েক বছর বিদেশে ছিলেন। বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান সবাই রয়েছে। অর্থনৈতিকভাবেও তিনি সচ্ছল ছিলেন। কী কারণে তিনি ঢাকা এসেছিলেন পরিবারের কেউ কিছু জানাতে পারেনি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY