সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফের খালেদা জিয়াই বিএনপি চেয়ারপার্সন

সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফের খালেদা জিয়াই বিএনপি চেয়ারপার্সন

86
0
SHARE

টানা ৪র্থ বারের মত আবারও বিএনপির চেয়ারপার্সন পদে বেগম খালেদা জিয়া এবং দ্বিতীয় বার সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান পদে তার বড় ছেলে তারেক রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরবর্তী কাউন্সিল পর্যন্ত (তিন বছর)  নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল রোববার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তিনি নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময় নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব ও দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আমিনুল হক, ইসির সদস্য ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান হারুন আল রশিদ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া নির্বাচন রিটার্নিং অফিসার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুল মান্নান ও খালেদা জিয়ার নির্বাচনী এজেন্ট দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং তারেক রহমানের নির্বাচনী এজেন্ট যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান উপস্থিত ছিলেন।

জমির উদ্দিন সরকার বলেন, রিটার্নিং অফিসার নজরুল ইসলাম খানের কাছ থেকে চেয়ারম্যান পদে বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী এজেন্ট দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলের যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তাদের মনোনয়নপত্র ৪ ফেব্রুয়ারি রিটার্নিং অফিসারের নিকট জমা দেন রিজভী ও শাহজাহান।

তিনি বলেন, ৫ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করা হয়। আজ (গতকাল রোববার) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিন ছিল। প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ১৯ মার্চ ষষ্ঠ কাউন্সিলের দিন বিএনপির শীর্ষ দুই পদ চেয়ারপার্সন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। গেল ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। চেয়ারম্যান ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ৩০ (ত্রিশ) বছর এবং তাকে দলের চাঁদাদাতা সদস্য হওয়ার শর্ত ছিল। কিন্তু এই দুটি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় কাউন্সিলের আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারপার্সন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন তারা।

সূত্র মতে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শাহাদাত বরণ করলে ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি দলের নেতাকর্মীদের আহ্বানে বিএনপিতে যোগ দেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। একই বছরের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তব্য রাখেন। বিচারপতি সাত্তারের অসুস্থতায় তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে পার্টির চেয়ারপার্সন নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রথমবার বিএনপির চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। ১৯৯৩ সালে ১লা সেপ্টেম্বর দলের চতুর্থ কাউন্সিলে দ্বিতীয়বার চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ৪ ডিসেম্বর তৃতীয়বারের মত বিএনপির চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল চতুর্থবারের মত দলের চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হবার আগে তিনি টানা ৩৩ বছর বিএনপির চেয়ারপার্সনের দায়িত্বে রয়েছেন।

১৯৪৪ সালের ১৫ আগস্ট ফেনী জেলার ফুলগাজী গ্রামের বিখ্যাত মজুমদার বাড়ির সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। ন্যায়নীতি ও আদর্শের কারণে তিনি দেশে এবং বিদেশে আপোষহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বেগম খালেদা জিয়া তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেন। স্কুলে পড়াকালীন সময়েই বেগম খালেদা জিয়া তৎকালীন পাকবাহিনীর চৌকস সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সাথে ১৯৬০ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার নেতৃত্বেই স্বাধীনতা পরবর্তী দেশে সর্বোচ্চ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকে বিএনপি।

বিএনপির চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব গ্রহণ করার পরই নানা প্রতিকূলতার মধ্যে পড়েন বেগম খালেদা জিয়া। সাবেক সেনা প্রধান লে. জে. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের  স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে বেগম জিয়া তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। এরশাদের দীর্ঘ ৯ বছরের  স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে শুধু আন্দোলনই নয়, তার সাথে কোন রকম সমঝোতা না করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি আপোষহীন ভূমিকা পালন করেন। যে কারণে বেগম খালেদা জিয়া ন্যায় ও আদর্শের প্রশ্নে একজন আপোষহীন নেত্রী হিসেবে ব্যাপক খ্যাতি ও সুনাম অর্জন করেন। বেগম জিয়া তার দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে এরশাদের পতন ত্বরান্বিত করেন। ১৯৮৩ সালে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে সাত দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়। ১৯৮৩ সালের সেপ্টেম্বরে ৭ দলীয় ঐক্যজোটের মাধ্যমে এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ দফার আন্দোলন চলতে থাকে। ১৯৮৬ সালের ২১ মার্চ রাতে আ’লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবার সিদ্ধান্ত নিলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন আরো তীব্র হয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৫ দল ভেঙ্গে ৮ দল ও ৫ দল হয়। ৮ দল নির্বাচনে যায়। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দল ও ৫ দল ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের নব সূচনা করে। ১৯৮৭ সাল থেকে খালেদা জিয়া ‘এরশাদ হটাও’ এক দফার আন্দোলন শুরু করেন। একটানা নিরলস ও আপোষহীন সংগ্রামের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি। তারই সুবাদে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে প্রথমবারের মত দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এরপর ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয়বার এবং ২০০১ সালে জোটগতভাবে নির্বাচন করে তৃতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। তিনি একমাত্র নেতা যিনি এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩ বার দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া দুইবার বিরোধীদলীয় নেতার ভূমিকা পালন করেন। বেগম জিয়া দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) দুইবার চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনের ইতিহাসে খালেদা জিয়ার একটি অনন্য রেকর্ড হচ্ছে গত ৫টি সংসদ নির্বাচনে ২৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সব ক’টিতেই তিনি জয়ী হয়েছেন।

অন্যদিকে ১৯৮৮ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বগুড়া কমিটির সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। মাত্র ২২ বছর বয়সে ১৯৮৮ সালে তারেক রহমান বগুড়া জেলার গাবতলী থানা বিএনপি’র সদস্য হন। আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনে যোগ দেয়ার আগেই তারেক রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক তার মা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সহচর হিসেবে সারা দেশের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও মায়ের পাশাপাশি তারেক রহমানও দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা চালান। মূলত এ নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতির প্রথম সারিতে তারেক রহমানের সক্রিয় আগমন ঘটে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০০২ সালে তারেক রহমানকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়। এ দায়িত্ব পেয়ে জিয়াউর রহমানের ১৯ দফার আলোকে তারেক রহমান দেশব্যাপী দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেন। মূল সংগঠন ছাড়াও জাতীয়তাবাদী যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তারেক রহমান কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। এখান থেকেই তিনি মাঠ পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য শোনেন এবং তাদের মতামত গ্রহণ করেন। এ সভাগুলোতে তারেক মূলত দলের গঠনতন্ত্র, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ মতবিনিময় করেন। এই জনসংযোগের ফলে তরুণদের আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন তারেক রহমান। দলের নেতাকর্মীদের মনোবল অসামান্য বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সন্তানের পরিচিতি থেকে তিনি একজন দক্ষ রাজনৈতিক সংগঠক ও সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি অতি অল্প সময়ে বিএনপিকে তৃণমূল শক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। ৮ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তারেক রহমান সংগঠনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

তারেক রহমান রাজনীতিতে যোগ দিয়েই বিএনপিকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সক্রিয় করার দায়িত্ব নেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে তিনি সাধারণ জনতার সাথে মিশে নিজ চোখে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর তৃণমূল মানুষের সেবায় তিনি আরও এগিয়ে আসেন। দরিদ্রদের স্বাবলম্বি করতে গরু-ছাগল, সেলাই মেশিন, নগদ অর্থ প্রদানসহ নানাভাবে সহায়তা করার উদ্যোগ নেন। যা সর্বমহলে বেশ প্রশংসিত হয়। তার অভাবনীয় জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠে একটি চক্র। ওয়ান ইলেভেনের সরকার তাকে পঙ্গু করার যে গভীর চক্রান্তের নীলনক্সা এঁকেছিল তার নির্মম বলি হন আধুনিক রাজনীতির এই আইডল। ৭ মার্চ, ২০০৭ তারিখে একটি কথিত দুর্নীতি মামলার আসামী হিসেবে তারেক রহমানকে তার ঢাকা ক্যান্টনমেন্টস্থ মইনুল রোডের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আরও ১৩টি দুর্নীতির মামলা করা। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ওয়ান ইলেভেনে সেনা নিয়ন্ত্রিত সরকার তাকে গ্রেফতার করে নির্মম নির্যাতন করে। তাকে অনেক ওপর থেকে বার বার নীচে ফেলে দিয়ে হত্যা চেষ্টা করা হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে আরো অনেক মামলায় জড়িত করেছে। বর্তমানে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য স্বপরিবারে লন্ডনে যান। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট অর্থপাচার সংক্রান্ত একটি মামলায় জড়িয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর তাকে পলাতক দেখিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। কিন্তু ওই মামলায় তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। বিএনপির অভিযোগ, তাকে যেনতেনভাবে সাজা দিতে মরিয়া সরকার। এজন্য ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হচ্ছে। যদিও বিএনপি বারবার বলেছে, তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে সরকার তার বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে। ১/১১-এর  স্বৈরশাসকদের অত্যাচারের যন্ত্রণা এখনো তাকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এখনো তিনি সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হতে পারেননি। লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বর্তমানে চিকিৎসা ও পড়াশুনার পাশাপাশি বিভিন্ন ইস্যুতে দলের পক্ষ থেকে সভা-সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন।

পঞ্চাশোর্ধ এই প্রজন্মের জনপ্রিয় নেতা তারেক রহমান পিনো ১৯৬৫ সালের ২০ নবেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে পিতৃহারা তারেক রহমান দেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হন । ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবিতে পরে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষে ভর্তি হন এবং স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হন মেধাবী ছাত্র তারেক রহমান। ছাত্রজীবন শেষে ব্যবসাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগ করেন এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে ব্যবসায় সফলতা লাভ করেন। পরে তিনি নৌ-যোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ করেন এবং সাফল্য অর্জন করেন। ১৯৯৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বিমানবাহিনীর প্রাক্তন প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব হোসেনের বড় মেয়ে ডা. জোবাইদার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY