পতনের বৃত্তে ঘোরপাক খাচ্ছে পুঁজিবাজার

পতনের বৃত্তে ঘোরপাক খাচ্ছে পুঁজিবাজার

119
0
SHARE
বর্তমান প্রতিবেদক : কিছুতেই থামছে না দেশের পুঁজিবাজারে শেয়ারের দর পতন। বরং প্রতিদিনই লেনদেন কমার পাশাপাশি কমছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর। বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তায় উভয় বাজারেই ক্রমেই লেনদেনে খরা দেখা দিচ্ছে। আগের তুলনায় শেয়ারের বিক্রির আদেশ যেভাবে কমছে, প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি পর্যায়ের কিছুটা ধীরে চলো নীতির কারণেই বাজারে লেনদেন আড়াইশ কোটি টাকার নীচে চলে গেছে। তবে লেনদেন কমলেও রবিবারে বিক্রির চাপ কিছুটা কম থাকায় সূচকের সামান্য পতন ঘটেছে।
এদিকে বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রবিবার সূচকের ঊর্ধ্বগতি দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। কিন্তু শেয়ারের ক্রয়াদেশ না বাড়ার কারণে সূচকের ঊর্ধ্বগতি শেষ পর্যন্ত টেকেনি। উল্টো দিনশেষে সেখানকার সূচক আগের দিনের চেয়ে ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৭৬৯ পয়েন্টে। ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক দশমিক ৮৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ১০৬ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক দশমিক ৮৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার  ৭৬০ পয়েন্টে। ডিএসইতে ২৩২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন এ বাজারে লেনদেন হয়েছিল ২৬৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার। যা আগের দিনের তুলনায় ৩১ কোটি ৪২ লাখ টাকা বা ১২ শতাংশ কম। গত এক মাসে ডিএসইতে সূচকের সাথে লেনদেন কমেছে উল্লেখযোগ্যহারে। এসময় ডিএসই প্রধান মূল্য সূচক কমেছে ৩৫৫ পয়েন্ট। আর লেনদেন কমেছে ৫০০ কোটি ১৯ লাখ টাকার বা ৬৮ শতাংশ। গত ২ নভেম্বর ডিএসই এক্স সূচকের অবস্থান ছিল ৫ হাজার ১০৫ পয়েন্টে। আর ডিএসইতে ৭৩২ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।
ডিএসইতে মোট লেনদেনে অংশ নিয়েছে ৩০২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৯টি কোম্পানির। আর দর কমেছে ১২৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪০টির।
এছাড়া ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের শেয়ার। এরপর রয়েছে— কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড,  লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, বেক্সিমকো ফার্মা, এবি ব্যাংক, বেক্সিমকো, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, যমুনা অয়েল, এমজেএলবিডি, এবং অগ্নি সিস্টেমস।
দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো : অগ্নি সিস্টেম, ফু-ওয়াং সিরামিক, কোহিনূর কেমিক্যাল, আইসিবি ১ম এনআরবি, বিডি কম, আইসিবি, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, দেশবন্ধু, সাইফ পাওয়ার টেক ও আমরা টেক।
দর হারানোর কোম্পানিগুলো হলো : অলিম্পিক, সোনালি আঁশ, জেমিনী সী ফুড, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, মুন্নু স্টাফলারস, অ্যাটলাস বাংলাদেশ, শাহজিবাজার পাওয়ার, স্টান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, ফার্মা এইড ও ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স।
অপরদিকে রবিবার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ১৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এদিন সিএসই সার্বিক সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৪ হাজার ৬৬২ পয়েন্টে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৯৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৭০টির, কমেছে ৯২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭টির।
সিএসইর লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো— ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, অলিম্পিক, বেক্মিমকো, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, সাইফ পাওয়ার টেক, কেয়া কসমেটিকস, এবি ব্যাংক, গ্রামীণফোন, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট ও মবিল যমুনা বিডি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে টানা পতন থাকলেও লেনদেন খুব বাড়ছে না। এটি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য ভালো। কারণ এতে বুঝতে হবে বাজারে শেয়ারের বিক্রেতা কম। যেকোন সময় ক্রেতা বাড়লেও বাজার ঊর্ধ্বগতির ধারায় ফিরতে পারে। কারণ বাজার এখন বটম লাইনে অবস্থান করছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY