পাঁচ লাখ হকারকে লাইসেন্স দেবে ডিসিসি দক্ষিণ

115
0
SHARE

ঢাকা : রাজধানীর ফুটপাত অবৈধ দখল রোধ, চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য কমাতে ও ডিসিসির রাজস্ব আয় এবং হকারদের সুশৃঙ্খল করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার হকারদের শিগগিরই ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত এলাকার প্রায় পাঁচ লাখ হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে এ লাইসেন্স দেবে ডিএসসিসি।

ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার ফুটপাত দখল করে পল্টন, গুলিস্তান, মতিঝিল, দিলকুশা, চকবাজার, লালবাগ, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, সদরঘাট, চাঁদনী চক, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা কলেজের সামনে, শাহবাগ, পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানসহ কয়েকশ স্থানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই নিয়মিত হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছেন।

ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ ধারণা করছেন এদের সংখ্যা হবে পাঁচ লাখেরও বেশি। তবে আপাতত পাঁচ লাখ হকারকে লাইসেন্সের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করবে। আর এ লাইসেন্স প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বছরে ডিএসসিসি’র প্রায় ২৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে বলে জানান ডিসিসি দক্ষিণের রাজস্ব বিভাগ।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব ট্রেড লাইসেন্সের সর্বনিম্ন ফি তিনশ থেকে পাঁচশ টাকা ধার্য করে এক বছর মেয়াদে দেওয়া হবে। তবে সেখানে কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হবে। উল্লিখিত কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে তার লাইসেন্স বাতিল করা হবে এবং দ্বিতীয়বার ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হবে না। তাছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করার ক্ষেত্রে কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে এবং ওই ব্যক্তি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।

তবে লাইসেন্স পদ্ধতিতে হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের জন্য ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হবে। এতে সুফল পাওয়া গেলে এ লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছর করা হবে।

ডিএসসিসি সূত্র জানায়, বর্তমান ঠিকানার পাশাপাশি হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে তাদের গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় লাইসেন্স দেওয়া হবে। এতে ভবিষ্যতে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হলে ওই ঠিকানার ওপর নির্ভর করা হবে। এ লক্ষ্যে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণকারীকে অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে। নিয়মানুযায়ী কোনো হকার বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে লাইসেন্স দেওয়া হয় না। এ কারণে লাইসেন্স বইয়ের ‘অন্যান্য শাখা’য় এ লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আর বাংলাদেশ হকার্স সমিতির সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে হকার্স স্পট রয়েছে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি। আর এসব হকারদের দিনে প্রায় ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়। এদিকে ওসমানী উদ্যান, মুক্তাঙ্গণ, যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, মিরপুর, শাহ আলী, পান্থপথ ও আজিমপুরে মোট আটটি এলাকায় হকারদের পুনর্বাসনের প্রস্তাব করেছিলেন। পরে ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মোট ২০টি এলাকায় হকার পুনর্বাসনের প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবগুলোর কিছু বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেগুলোও আর কার্যকর নেই।

এবিষয়ে ডিএসসিসি’র নির্বাহী কর্মকর্তা আনছার আলী খান জানান, ডিএসসিসি এলাকার রাস্তাগুলোর ফুটপাতে দোকান আছে প্রায় ৭৫ হাজার। এসব ব্যবসায়ীদের একটি নিয়মের মধ্যে আনার জন্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। তাছাড়া হকারদের লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে নতুন পদ্ধতিতে ডিসিসির বার্ষিক রাজস্বও বাড়বে বলে জানান তিনি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY