ব্যাংককে আন্দোলন করছেন পার্থ!

ব্যাংককে আন্দোলন করছেন পার্থ!

131
0
SHARE

দুই মাসের বেশি সময় ধরে দেশব্যাপী হরতাল-অবরোধ পালন করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০দল। তবে বিএনপি-জামায়াত ছাড়া জোটের অন্য শরিকদের কাউকে তেমন একটা মাঠে দেখা যায়নি। যদিও শরিক দলের কেউ কেউ বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে নিজেদের উপস্থিতির জানান দিচ্ছেন। তবে কোনো কোনো দলের শীর্ষ নেতা গোটা আন্দোলনের সময়টাই বিদেশে কাটাচ্ছেন। কিন্তু বিএনপির শীর্ষ মহলের বিষয়টি হয়তো জানাই নেই।

বিএনপি জোটের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। যিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০দলের শরিক বিজেপির চেয়ারম্যান।

আন্দোলনের চলাকালে জোটের শরিক আরেক প্রভাবশালী নেতা অলি আহমেদ বীর বিক্রম আজমীর গিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে তিনি আজমীর গিয়ে ৪ মার্চ দেশে ফেরেন।

জোটের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলন শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগেই বিদেশে পাড়ি জমান পার্থ। তিনি এখনো সেখানেই অবস্থান করছেন। মাঝে নিজের ফেসবুক পেইজে সেখানকার ছবিও পোস্ট করেন তরুণ এই রাজনীতিক। কখনও লন্ডন, কখনও বা থাইল্যান্ডে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তরুণ এই নেতা।

জানা গেছে, পার্থর বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে। তাই দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার হতে পারেন এমন আশঙ্কায় আছেন তিনি। যে কারণে ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে পার্থর ভাই ব্যারিস্টার আহসানুল করিম হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন। যাতে পার্থ দেশে ফিরলে কোনো ধরনের হয়রানি বা গ্রেপ্তার করা না হয় সেজন্য আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের এক মাস পেরিয়ে গেলেও দেশে ফেরেননি আন্দালিব রহমান পার্থ।

ওইসময় আদালতের আদেশের পর তার ভাই আহসানুল করিম বলেছিলেন, “পার্থ বর্তমানে ব্যাংককে আছেন। ৩০ ডিসেম্বর তিনি দেশ ত্যাগ করেন। তার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে।”

অভিযোগ আছে, একদিকে নিজে আন্দোলনের সময় বিদেশে বসে আছেন পার্থ। অন্যদিকে নিজের মালিকানাধীন ভোলা-ঢাকা রুটের এমভি লালী ও এমভি বালিয়া নামের দুটি লঞ্চও হরতাল-অবরোধে বন্ধ রাখেননি তিনি।

‘জ্বালাময়ী’ বক্তব্য-বিবৃতি, সুন্দর-সুন্দর ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আলোচনায় থাকা পার্থর এমন ভূমিকায় জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। পার্থর নিজ জেলা ভোলার নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

তারা বলছেন, “অতীতে ভোলায় সরকারবিরোধী আন্দোলন জমজমাট থাকলেও এবার তা হচ্ছে না। চোখের সামনে পার্থের লঞ্চ অবরোধ না মেনে চলার কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে।”

এদিকে ২০ দলের শরিক দলের মহাসচিব নাম উল্লেখ না করার শর্তে বলেন, “নানা চাপের মধ্যেও সাধ্যমত কাজ করার চেষ্টা করছি। আর কেউ বিদেশে বসে আছেন। এমন নেতাদের ব্যাপারে জোটের নীতিনির্ধারকদের ভাবতে হবে।”

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY