বিএনপির কাউন্সিল : লোগো উন্মোচন, মূল প্রতিপাদ্য ‘মুক্ত করবোই গণতন্ত্র’

বিএনপির কাউন্সিল : লোগো উন্মোচন, মূল প্রতিপাদ্য ‘মুক্ত করবোই গণতন্ত্র’

166
0
SHARE

মুক্ত করবোই গণতন্ত্র’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ষষ্ঠ কাউন্সিলের লোগো ও স্লোগান উন্মোচন করেছে বিএনপি। এবারের কাউন্সিলের মূল স্লোগান হচ্ছে- ‘দুর্নীতি দুঃসময় হবেই শেষ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ’। প্রতিটি অঙ্গসংগঠনের ব্যানার পোস্টারেও থাকছে আলাদা আলাদা স্লোগান।

বৃহস্পতিবার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলের ব্যবস্থাপনা ও প্রচার উপ-কমিটির আহবায়ক গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে লোগো উম্মোচন করেন।
বৃত্তাকার লোগোতে আছে-এক যুবকের মুষ্টিতে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা, মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক জাতীয় স্মৃতি সৌধ এবং বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ।

গয়েশ্বর রায় সাংবাদিকদের বলেন, আমরা অন্ধকারে আছি, আলোতে যেতে চাই। কোথাও কোনো গণতন্ত্র নেই। আমরা এবারের কাউন্সিলের মাধ্যমে নিখোঁজ গণতন্ত্র ফিরে পেতে চাই।

তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা এই কাউন্সিলের মাধ্যমে ত্যাগী, পরীক্ষিত যোগ্য ও পোড় খাওয়া নেতারা যোগ্যতা অনুযায়ী পদ পাবেন এবং অতীতে যারা ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের অবশ্যই সেই পদ থেকে অপরাসরণ করে যথাযোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হবে। তাহলে আগামী দিনে নিখোঁজ গণতন্ত্রের পথ চলা শেষ হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার থেকে জাতীয় কাউন্সিলের প্রচার-প্রচারণা শুরু হবে। এর অংশ হিসেবে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকও ব্যবহার করা হবে।

প্রচার উপ-কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ বলেন, আমরা আজ থেকে ফেসবুক পেজ খুলেছি। ১৯ মার্চের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সর্বশেষ তথ্য এই পেজে পাওয়া যাবে। পেজের ঠিকানা– https://www.facebook.com/bnpcouncil/

অনুষ্ঠানে প্রজেক্টরের মাধ্যমে কাউন্সিলের লোগো ও পোস্টার এবং উদ্দেশ্যগুলো উপস্থাপন করা হয়। এতে একদলীয় গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অসমতা, দুর্নীতি, দুঃশাসন প্রভৃতির অবসানে তৈরি স্লোগান ও পোস্টার প্রদর্শন করা হয়।

কাউন্সিল উপলক্ষে তৈরি করা হয়েছে সাদা টি-শার্ট। এগুলো কাউন্সিলররা পরিধান করবেন। এই টি শার্টের ডানদিকে আসন্ন কাউন্সিলের লোগো এবং বাম দিকে ২০১৩ সালের প্রস্তাবিত লোগো রয়েছে।

গয়েশ্বর রায় জানান, প্রতি তিন বছর অন্তর দলের কাউন্সিল হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও আমরা ২০১৩ সালে সকল প্রস্তুতি নিয়েও কাউন্সিল করতে পারিনি। ওই সময়ে কাউন্সিলের ঠিক পূর্ব মূহুর্তে নয়া পল্টন কার্যালয়ে পুলিশ রাতের অন্ধকারের তল্লাশি চালিয়ে ১৫৬জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। ওই কাউন্সিল আমাদের করতে দেয়া হয়নি। সেসময়ে কাউন্সিলের জন্য তৈরি লোগো সম্বলিত টি-শার্ট প্রস্তত করা হয়েছিলে, যা আমরা এবার ব্যবহার করছি ২০১৬ সালে কাউন্সিলের লোগো পাশে রেখে।

কাউন্সিল উপলক্ষে দলের ১১টি অঙ্গ সংগঠনের জন্য আলাদা পোস্টার ও শ্লোগান তৈরি করা হয়েছে। যুব দল-‘তারুণ্যে যারা অকুতোভয়, তারাই আনবে সুর্যোদয়’, কৃষক দল- ‘ফলাবো ফসল, গড়বো দেশ, গণতন্ত্রে বাংলাদেশ’, মুক্তিযোদ্ধা দল- ‘মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র, মুক্ত করো গণতন্ত্র’, শ্রমিক দল- ‘শ্রম দিয়ে শিল্প গড়বো, দেশের আঁধার ঘুচিয়ে দেবো’, মহিলা দল –‘চেতনায় নারী, বিপ্লবে নারী, গণতন্ত্র ফেরাতে আমরাই পারি’, ছাত্র দল ‘বাঁচতে চাই, পড়তে চাই, দুর্নীতি মুক্ত দেশ চাই’, স্বেচ্ছাসেবক দল- ‘আলোর দিন দূরে নয়, করতে হবে আঁধার জয়’, জাসাস-‘গাইবো মোরা গণতন্ত্রের গান, দুঃশাসনের হবেই অবসান,’ তাঁতী দল- ‘শক্ত হতে বাঁধো তাঁত, কাটাতে হবে আঁধার রাত, এবং মৎস্যজীবী দল-‘জালের টানে ঘুচবে আঁধার, বাংলাদেশ সবার’ এবং উলামা দল- ‘জিয়ার আর্দশে দেশ গড়বো, ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রাখবো’।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, মো: শাহজাদা মিয়া, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, শিরিন সুলতানা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, বেলাল আহমেদ, মুনির হোসেন, আনোয়ার হোসাইন, মনির খান, রাজীব আহসান, আবদুল কালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান, খন্দকার মাশুকুর রহমান, মিজানুর রহমান লিটু, মাহবুবুল হক নান্না, মীর রবিউল ইসলাম লাবলু, খান রবিউল ইসলাম রবি, আমীনুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হাওলাদার প্রমুখ।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY