পুরান ঢাকার গ্যাস সমস্যা যাচ্ছে না

পুরান ঢাকার গ্যাস সমস্যা যাচ্ছে না

101
0
SHARE

শীত গেল। কিন্তু পুরান ঢাকায় গ্যাসের সমস্যা যাচ্ছে না। গত ডিসেম্বরে শীতের শুরুতে পুরান ঢাকার রাজার দেউড়ির কয়েকজন বাসিন্দা তিতাস গ্যাস কোম্পানির স্থানীয় কার্যালয়ে গ্যাস না থাকার বিষয়ে অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন। ওই কার্যালয় থেকে বলা হয়েছিল, শীতের কারণে স্বল্প চাপ। শীত কাটলে সমস্যাও কেটে যাবে। গ্যাস সরবরাহ ভালো হবে।
গত বুধবার রাজার দেউড়ির ব্যবসায়ী তরুণ ঘোষসহ কয়েকজন বাসিন্দা বিষয়টি উল্লেখ করে প্রথম আলোকে বলেন, শীত চলে গেছে। রীতিমতো গরম পড়ছে। কিন্তু গ্যাসের সমস্যা কাটেনি। দিনের বেলায় বেশির ভাগ সময় চুলায় আঁচ থাকে না। তিতাস কার্যালয়ে অভিযোগ করে কোনো লাভ নেই।
এলাকাবাসী বলেন, প্রতিবছরই শীত মৌসুমে গ্যাসের তীব্র সমস্যা থাকে। কিন্তু এবার কিছু সমস্যা ছিল অপ্রত্যাশিত। স্বল্প চাপজনিত সমস্যা ছাড়াও এবার নানা কারণে পুরান ঢাকায় গ্যাসের সমস্যা ছিল। টানা দিনরাত চুলা না জ্বলার প্রথম ধাক্কা আসে গত ২৫ নভেম্বর। ওই দিন রাজার দেউড়ি, তাঁতীবাজার ও আশপাশের এলাকা এবং নাজিমউদ্দিন রোড, বংশাল, উর্দু রোড, বেগম বাজার—এসব এলাকায় প্রায় ২০ ঘণ্টা গ্যাস ছিল না। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সূত্র জানায়, ওই দিন ওসমানী উদ্যানে অবস্থিত গ্যাস সিটি সেন্টারে যান্ত্রিক ও কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয় এবং একটি সরবরাহ রেগুলেটর বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিকল্প উপায়ে গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
২৬ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, কোতোয়ালি, গেন্ডারিয়া, ওয়ারী থানা এলাকায় গ্যাসের পাইপলাইন সংস্কারের জন্য ঘোষণা দিয়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল। চার দিন কষ্ট সহ্য করেছিল এলাকার বাসিন্দারা। কিন্তু পাইপলাইন সংস্কার করার পরও তারা তেমন সুফল পায়নি।
বুধবার সকালে রাধিকা মোহন বসাক লেন ও পচা গলিতে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পারের খাবার হোটেলগুলোয় তিতাসের গ্যাসলাইন থাকার পরও তারা সিলিন্ডার ব্যবহার করছে। হাজি বাবুল হোটেলের একজন কর্মী বলেন, তিতাস গ্যাসের ওপর নির্ভর করে থাকলে এবার হোটেলই বন্ধ করে দিতে হতো।
সিলিন্ডার ব্যবহার করছে, এ রকম হোটেল দেখা যায় অন্তত নয়টি। এসব হোটেলে ভাত, পরোটা, ডাল, মাছ, মাংস, ডিম, সুপ—সবই পাওয়া যায়। সবুজ বাংলা হোটেল থেকে জানানো হয়, এলাকার বাসাবাড়ির লোকেরাও এখন হোটেল থেকে খাবার নিয়ে যায়।
তিনটি হোটেলে সিলিন্ডার দেখা যায়নি। এসব হোটেলের লোকজন জানান, যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ মোটামুটি ভালো, সেখানকার বাসাবাড়ি থেকে রান্না করে হোটেলে আনা হয়।
রাজার দেউড়ির গৃহিণী সুমনা পাল বলেন, দিনে গ্যাসের চাপ থাকে না। গভীর রাতে অথবা ভোরে উঠে রান্না করাটা এখন নিয়ম হয়ে গেছে।
রাখাল চন্দ্র বসাক লেনের বাসিন্দা আবদুল কুদ্দুস বলেন, চুলা না জ্বললেও গ্যাসের বিল দিতে দেরি হলে তিতাসের লোক লাইন কেটে দেওয়ার ভয় দেখান।
এসব এলাকার কিছু বাসিন্দা আছেন যাঁরা মোটামুটি সচ্ছল। তাঁরা গ্যাস সমস্যার বিকল্প হিসেবে রাইসকুকার, ইলেকট্রিক হিটার ব্যবহার করছেন। তবে এর জন্য গুনতে হচ্ছে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল।
অনেকে নয়াবাজার ও বাদামতলী থেকে ফল রাখার পুরোনো কাঠের বাক্স কিনে এনে মাটির চুলায় রান্না করছেন। রাখাল চন্দ্র বসাক লেনে কিছু পরিবারকে দেখা যায় মাটির চুলায় লাকড়িতে রান্না করতে।
গরম পড়ে গেছে, তবু পুরান ঢাকায় গ্যাসের সমস্যা কেন—জানতে চাইলে তিতাস গ্যাসের জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে জানানো নয়, পুরান ঢাকায় সরু পাইপের কারণে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। কারণ, পাইপ সংস্কার করা হলেও সব এলাকায় তা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া বাখরাবাদ-সিদ্ধিরগঞ্জ ৩০ ইঞ্চি পাইপলাইনে ময়লা জমে থাকার সমস্যাটির পুরোপুরি সমাধান এখনো সম্ভব হয়নি। যার প্রভাব পুরান ঢাকার বাইরেও রয়েছে। কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে, তা তাঁরা বলতে পারেননি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY