কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ চুরির তদন্ত নিয়ে এফবিআই-সিআইডি বসছে আজ তথ্যপ্রযুক্তিবিদ জোহা নিখোঁজ...

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ চুরির তদন্ত নিয়ে এফবিআই-সিআইডি বসছে আজ তথ্যপ্রযুক্তিবিদ জোহা নিখোঁজ ॥ থানায় থানায় ঘুরছেন স্বজনরা

67
0
SHARE

# আমার স্বামী কোথায় জানতে চাই —জোহার স্ত্রী
# আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিলে আদালতে সোপর্দ করা হবে — স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তোফাজ্জল হোগেণ কামাল : বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) রিজার্ভ হ্যাকের পর সেটিকে ‘হ্যাক’ না বলে ‘চুরি’র ঘটনা বলে অভিহিত করা তথ্য প্রযুক্তিবিদ তানভীর হাসান জোহাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই ঘটনার পর নানামুখী তদন্তের মধ্যে সাম্প্রতিক দেশজুড়ে বহুল আলোচনায় উঠে আসা জোহার খোঁজ না পেয়ে পুলিশের কাছে গিয়েও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত তথ্যপ্রযুক্তিবিদ তানভির হাসান জোহা গত বুধবার রাত থেকে নিখোঁজ বলে তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন। আর নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন আগে তিনি এক সাক্ষাৎকারে একাধিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরির আসল ঘটনা আমি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছি, এ কারণে আমাকে চাপ দেয়া হচ্ছে। আমাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে পুরো ঘটনা জানাতে চাই। ’
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গণমাধ্যমকে বলেছেন, জোহাকে যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনও দল নিয়ে থাকে, তাহলে তাকে আদালতেই সোপর্দ করা হবে। জোহাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে গেছে কি না, জানতে চাইলে গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এ কথা বলেন।
জোহার স্ত্রী ডা. কামরুন নাহার সাংবাদিকদের কাছে তার স্বামীর সন্ধানের দাবি জানিয়ে বলেছেন, ‘জোহা সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে দেশের জন্য কাজ করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার কাছে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে যখনই কোনও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে, তখনই সে তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে। ’ জোহা যাতে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারেন, সেজন্য তিনি প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সরকারের আইসিটি বিভাগের সাইবার সিকিউরিটি ফোকাল পয়েন্টের কর্মকর্তা পরিচয়ে সম্প্রতি রিজার্ভ চুরির তদন্তের নানা বিষয়ে তানভীর জোহা গণমাধ্যমে কথা বলছিলেন। এরপর আইসিটি বিভাগ থেকে জানানো হয়, তানভীর জোহার সঙ্গে বিভাগের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। তখন তানভীর গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, তিনি আগে এই বিভাগের কাজে যুক্ত ছিলেন।
এ দিকে, রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির একটি প্রতিনিধি দল গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক ২য় দিনের মতো পরিদর্শন করেন। এরপরই সিআইডির উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এই ঘটনার তদন্তে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের বাংলাদেশ কার্যালয়ের কর্মকর্তার সঙ্গে আজ শুক্রবার আলোচনায় বসবে এ মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ছাড়া ইন্টারপোলের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করবে তদন্ত সংস্থাটি।
তথ্যপ্রযুক্তিবিদ জোহা নিখোঁজ!
তানভীরের পরিবার জানিয়েছে, গত বুধবার মধ্যরাত থেকে তার কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না তারা। জোহার স্ত্রী ডা. কামরুন নাহার গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, “গতকাল (বুধবার) রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছে। তখন বলেছিল, বাসায় ফিরছে। কিন্তু রাত ১২টার পর থেকে মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।”
ইয়ামিন নামে তানভীরের এক বন্ধু জানিয়েছেন, তাকেসহ তানভীরকে অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিরা তুলে নিয়েছিল। পরে তাকে ছেড়ে দিলেও তানভীরকে নিয়ে চলে যায়।
তানভীরের চাচা বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মহাপরিচালক মাহবুবুল আলম বলেন, “রাত ২টার দিকে ইয়ামিন এসে বলে, তানভীর তাকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ডেকে নিয়েছিল। পরে তারা একসাথে বাসায় ফেরার জন্য একটি সিএনজি অটোরিকশায় ওঠে। হঠাৎ করেই এটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই একটি জিপ তাদের সামনে এসে থামে এবং কিছু না বলার আগে দুজনকে আলাদা করে ফেলে। এরপরেই ইয়ামিনকে একটি গাড়িতে করে মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় নামিয়ে দেয়া হয়।”
ইয়ামিনের কাছে খবরটি প্রথমে কলাবাগান থানায় যান তানভীরের পরিবারের সদস্যরা। ‘তাদের এলাকা নয়’ বলে তাদের কাফরুল থানায় যেতে বলা হয়। সেখানে গেলে তারা ক্যান্টনমেন্ট থানায় যেতে বলে। “সেখানে গেলে তারা বলে আবার কাফরুল থানায় যেতে। কাফরুলে আবার গেলে তারা বলে, এলাকাটি ভাষানটেক থানা এলাকায়। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত পুলিশের সাহায্য না পেয়ে হতাশ হয়ে ভাষানটেক থানায় আর যাইনি”, বলেন মাহবুবুল আলম।
কামরুন নাহার বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন জায়গায় বলা হলেও কেউ তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি।
কাফরুল থানার ওসি শিকদার মো. শামীম হোসেন বলেন, “ওরা মৌখিকভাবে আমাদের বলার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখেছি, এটা ভাষানটেক থানা এলাকায় পড়েছে। তাদের ওই থানায় যেতে পরামর্শ দেয়া হয়।”
ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, তাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।
ভাষানটেক থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, “কাফরুল থানার ওসি এ ব্যাপারে আমাকে ফোন করেছিলেন। তবে অপহরণ সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে কেউ থানায় আসেনি। “কেউ এলে আমরা ঘটনাস্থল যাচাই করে বলতে পারব যে কোন থানায় পড়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
তানভীর বলেছিলেন, হ্যাকিংয়ে মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লোপাটের ঘটনায় একটি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ‘ছায়া তদন্তকারী’ হিসেবে কাজ করছেন তিনি। তবে ওই গোয়েন্দা সংস্থার নাম প্রকাশ করেননি তিনি। কোনো সংস্থার পক্ষ থেকেও বলা হয়নি যে তানভীর তাদের সঙ্গে কাজ করছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তানভীরের কলাবাগানের বাসায় গেলে স্বজনরা জানান, সরকারের প্রতিটি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছেন তানভীর। “মূলত সাইবার ক্রাইম নিয়ে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং দেশের স্বার্থে সে তাদের সহযোগিতা করে আসছিল,” বলেন চাচা মাহবুবুল আলম।
জোহার পরিচিতরা জানান, বুধবার (১৬ মার্চ) অফিস থেকে বাসায় ফেরার সময় রাত ১২টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা হয় তার। এর আগে দুদিন তিনি বাসায় ফেরেননি। অফিস থেকে বের হওয়ার পর সিএনজিতে ওঠেন জোহা। কচুক্ষেত এলাকায় দুই-তিনটি গাড়ি তার সিএনজিকে ঘিরে ধরে। এরপরই অপহৃত হন তিনি।
তানভির হাসান জোহা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের ডিরেক্টর (অপারেশন)। তবে এই প্রকল্পটি গত দুই মাস ধরে স্থগিত আছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিভার্জ থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ডলার সরিয়ে নেয়ার ঘটনায় তদন্তের কাজে তাকে নেয়া হয়।
আমার স্বামী কোথায় জানতে চাই : জোহার স্ত্রী
তথ্যপ্রযুক্তিবিদ তানভীর হাসান জোহার সন্ধান চেয়েছেন তার স্ত্রী ডা. কামরুন নাহার। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কলাবাগানের বাসায় গেলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে স্বামীর সন্ধানের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘জোহা সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে দেশের জন্য কাজ করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার কাছে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে যখনই কোনও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে, তখনই সে তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে।’ জোহা যাতে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারেন, সেজন্য তিনি প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
জোহার স্ত্রী ডা. কামরুন নাহার জানান, বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে জোহার সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার সর্বশেষ কথা হয়। জোহা তাকে জানিয়েছিলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় ফিরছেন। ওই সময় তিনি ক্যান্টনমেন্টের পার্শ্ববর্তী কচুক্ষেত এলাকায় তাদের অবস্থান বলেও জানান। জোহার সঙ্গে থাকা বন্ধুর নাম ইয়ামিন আহমেদ। রাত দেড়টার দিকে ওই বন্ধু তাদের ফোনে জানান, জোহা অপহৃত হয়েছেন। এরপরই তারা কলাবাগান থানায় যান জোহার অপহৃত হওয়ার বিষয়টি অবহিত করে সাধারণ ডায়েরি করতে। কিন্তু থানা কর্তৃপক্ষ তাদের জানায়, যেহেতু তিনি সর্বশেষ কচুক্ষেত এলাকা থেকে কথা বলেছেন, এজন্য কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জোহার চাচা মাহবুবুল আলম সাধারণ ডায়েরি করতে কাফরুল থানায় যান। কাফরুল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাদের জানান, এটি ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় পড়েছে। সেখান থেকে ক্যান্টমেন্ট থানায় যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ঘটনাস্থল ভাষানটেক থানায় পড়েছে। পরে ওই থানায়ও যোগাযোগ করেন মাহবুবুল আলম। সেখান থেকেও বলা হয় ঘটনাস্থল তাদের এলাকায় পড়েনি। তার প্রশ্ন, তাহলে ঘটনাস্থল কোথায় পড়েছে? হতাশ হয়ে দুপুরে কলাবাগানের বাসায় ফিরে আসেন মাহবুবুল আলম।
নিখোঁজ হওয়ার ৩ দিন আগে যা বলেন জোহা
রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত তথ্যপ্রযুক্তিবিদ তানভির হাসান জোহা গত বুধবার রাত থেকে নিখোঁজ বলে তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন। আর নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন আগে তিনি এক সাক্ষাৎকারে একাধিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরির আসল ঘটনা আমি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছি, এ কারণে আমাকে চাপ দেয়া হচ্ছে। আমাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে পুরো ঘটনা জানাতে চাই।’
‘তানভির হাসান জোহা তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কেউ নয়’ টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এমন এক বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতেই ১৪ মার্চ একাধিক গণমাধ্যম তার বক্তব্য জানতে চায়। তখন জোহা বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা নিয়ে তদন্তকারীরা কেউ কথা বলেননি। আমি বলেছি। আমি আমার দায়িত্ব থেকেই বলেছি। এটা প্রকাশ করা প্রয়োজন।’ তিনি দাবি করেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরি নিয়ে প্রকৃত তথ্য সংবাদ মাধ্যমের কাছে প্রকাশ করায় একটি মহল আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে। তাই তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। তারা তদন্ত সহায়তা থেকে আমাকে সরিয়ে দিতে চাইছেন। কারণ, আমি অনেক বিষয়েই প্রশ্ন তুলছি।’
জোহা আরও বলেন, ‘আমি বিদেশী নাগরিকদের তদন্তে রাখা নিয়ে আপত্তি করেছি। কারণ, আমি মনে করি, হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি হোল (গর্ত) তৈরি করেছেন, আর এখন বিদেশী বিশেষজ্ঞদের হাতে তদন্তের নামে তথ্য তুলে দিলে আরও বড় হোল তৈরি হবে। আমি পুরো বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকেও জানাতে চাই।’
তার পরিচয় নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে তানভির হাসান জোহা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের ডিরেক্টর (অপারেশন)। এটা নিয়ে কোনও বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। এটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি প্রকল্প। প্রকল্পটি নতুন অর্থ বরাদ্দের জন্য দুমাস ধরে স্থগিত আছে।’
জোহাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিলে আদালতে সোপর্দ করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রযুক্তিবিদ তানভীর হাসান জোহাকে যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনও দল নিয়ে থাকে, তাহলে তাকে আদালতেই সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। জোহাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে গেছে কি না, বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এ কথা বলেন।
এদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, গত বুধবার রাতে তানভীর হাসান জোহার সঙ্গে ডিবি পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) শেখ নাজমুল আলমের কথা হয়েছে। তবে, কী কথা হয়েছিল, সে বিষয়ে কিছুই জানাননি তিনি।
‘ইনসাইড ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ নামের প্রতিষ্ঠানের পরিচালক তিনি। গত বুধবার রাতে মিরপুরের নিজ অফিস থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় বাসায় ফেরার পথে কচুক্ষেত এলাকা থেকে অপহৃত হন তিনি।
এফবিআইয়ের সঙ্গে বসছে সিআইডি
রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের বাংলাদেশ কার্যালয়ের কর্মকর্তার সঙ্গে আজ শুক্রবার আলোচনায় বসবে এ মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ছাড়া ইন্টারপোলের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করবে তদন্ত সংস্থাটি। গতকাল বৃহস্পতিবার সিআইডির উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সাইফুল ইসলাম এসব কথা জানান।
রিজার্ভের অর্থ চুরি যাওয়ার ৪০ দিন পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে গত মঙ্গলবার মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে ওই মামলা করা হয়। মতিঝিল থানার ১৫ নম্বর মামলাটির তদন্তের ভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। রিজার্ভের অর্থ চুরি যাওয়ার ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তকাজ শুরুর পরই গত বুধবার সিআইডির একটি তদন্ত দল দিনভর বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে সেখানকার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনের বার্তা আদান-প্রদানকারী আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সুইফটের বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা নেয়। গতকালও সিআইডির দলটি বাংলাদেশ ব্যাংকে যায়।
এরপরই সিআইডির উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সাংবাদিক এ সময় জানতে চান, আজ (বৃহস্পতিবার) আপনারা কি করলেন। এর জবাবে তিনি বলেন, ফরেন এক্সচেঞ্জ এবং সিকিউরিটি সার্ভিল্যান্স ইকুইপমেন্ট আমরা জব্দ করেছি।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সঙ্গে আপনাদের কথা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে ডিআইজি সাইফুল ইসলাম বলেন, এফবিআইয়ের সঙ্গে আমরা আলোচনা চালাবো। এফবিআইয়ের বাংলাদেশ কার্যালয়ের যিনি প্রধান তার সঙ্গে কাল আলোচনায় বসবো। এ ছাড়া ইন্টারপোলের সঙ্গেও এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য সাবেক গবর্নর আতিউর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে সাইফুল ইসলাম বলেন, তদন্তের স্বার্থে আতিউর রহমানকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
অর্থ চুরির মামলার এজাহারে বলা হয়, ৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিলিং রুমের (যেখান থেকে লেনদেনের পরামর্শ আদান-প্রদান করা হয়) সুইফট সিস্টেমের ত্রুটি ধরা পড়ে। তবে প্রথমে সেটিকে স্বাভাবিক সমস্যা হিসেবে মনে করা হয়। ৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকল্প পদ্ধতিতে সুইফট সফটওয়্যার চালু করে কিছু অননুমোদিত বার্তার বিষয়টি নিশ্চিত হন ডিলিং রুমের কর্মকর্তারা। ওই দিন দুপুরেই ই-মেইল ও ফ্যাক্সের মাধ্যমে অননুমোদিত লেনদেনগুলো স্থগিত রাখার অনুরোধ পাঠানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকের কাছে। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনসহ মোট ছয়টি ব্যাংকের কাছে ‘স্টপ পেমেন্ট বা অর্থ পরিশোধ বন্ধ’ অনুরোধ বার্তা পাঠানো হয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY