স্বাধীনতা দিবসে বিএনপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার শপথ নিতে হবে :...

স্বাধীনতা দিবসে বিএনপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার শপথ নিতে হবে : মির্জা ফখরুল

100
0
SHARE

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে  শনিবার বর্ণাঢ্য র‌্যালি করেছে জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি। বিকেলে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে র‌্যালির উদ্বোধন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। র‌্যালিটি নয়া পল্টনে শুরু হয়ে নাইটেঙ্গেল, কাকরাইল, শান্তিনগর মোড় প্রদক্ষিণ করে মালিবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

র‌্যালির উদ্বোধনপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা, ইনসাফ ও ন্যায়বিচার ভিত্তিক রাষ্ট্র পাব বলে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। কিন্ত দুর্ভাগ্য, স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরেও আমাদেরকে সেই গণতন্ত্রের জন্য সোচ্চার হতে হচ্ছে, চিৎকার করতে হচ্ছে। গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য প্রাণ দিতে হচ্ছে আমাদের ছেলেদের।

তিনি বলেন, আজকে আমাদের মা-বোনেদের নিরাপত্তা নেই। গোটা সমাজে কোনো মানুষেরই কোনো নিরাপত্তা নেই। আমাদের বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হচ্ছে। দেশের অর্থনীতিকে বর্গিদের মতো লুট করে নেয়া হচ্ছে। এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে আমরা স্বাধীনতা দিবস পালন করছি।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, বিজয় র‌্যালির মধ্য দিয়ে আমরা সমগ্র পৃথিবীকে এই বার্তা পৌঁছাতে চাই যে, একাত্তর সালে আমরা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করেছিলাম। অথচ আজকে সেই গণতন্ত্র দেশে অনুপস্থিত।

তিনি বলেন, আমরা একাত্তর সালে যে চেতনা নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম, সেই চেতনাকে বাস্তবায়ন এবং গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারসহ আমাদের অধিকারগুলোকে ফিরিয়ে আনার জন্য আজকে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের ছোটো-খাটো বিভেদগুলো ভুলে গিয়ে আমরা যখন ঐক্যবদ্ধ হব, তখন দেশের সব মানুষকেও আমরা ঐক্যবদ্ধ করতে পারব। সব রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্রপ্রেমী সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা আমাদের অধিকারগুলোকে ফিরিয়ে নিয়ে আসব, ইনশাল্লাহ।

দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, তিনি আমাদেরকে বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছিলেন। এ ছাড়া বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ নয় বছর আন্দোলন করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং এখনো তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছেন। আসুন, তাদের আদর্শ অনুসরণ করে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার সংগ্রামে আমরা সবাই শরিক হই। একই সাথে আমাদের বন্দি মানুষগুলোকে মুক্ত করি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা দেখছি যে, আমাদের তরুণ-উদীয়মান নেতা তারেক রহমান, যিনি ভবিষ্যতে আমাদেরকে নেতৃত্ব দেবেন এবং সম্মিলিত বাংলাদেশে প্রতিনিধিত্ব করবেন, তিনি আমাদের মাঝে আসতে পারেননি। তিনি নির্বাসিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। আসুন, তার মুক্তি ও তাকে ফিরে পাওয়ার জন্য আমরা আন্দোলন শুরু করি।

বিকেলে আড়াইটায় র‌্যালি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হয় ৪০ মিনিট পরে। এর আগে থেকেই ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড এবং বিভিন্ন ইউনিট থেকে বিএনপি, মুক্তিযোদ্ধা দল, ছাত্রদল, যুবদল, ওলামা দল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, তাঁতী দল, জাসাসসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নয়া পল্টনে এসে ভিড় জমান। মুহূর্তের মধ্যেই লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে চারদিক। র‌্যালিতে দলের নেতা-কর্মীরা জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা, পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি, সুসজ্জিত পিকআপ ভ্যান, রং-বেরংয়ের বেলুন, জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়া-তারেক-আরাফাত রহমান কোকোর ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড-ব্যানার-ফেস্টুন এবং কেন্দ্রীয়, মহানগর ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের ছবি সম্বলিত ব্যানার বহন করেন। এ সময় নেতা-কর্মীরা বাদক দলের বাজনার তালে তালে রাজপথে আনন্দে মেতে ওঠেন। লাল-সবুজ রঙয়ের পোশাকে দলের মহিলা নেতা-কর্মীদের র‌্যালির অগ্রভাগে সরব উপস্থিতি ছিল। সেইসাথে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহবায়ক মির্জা আব্বাসের মুক্তি চেয়ে শ্লোগান দেন মহানগরীর নেতাকর্মীরা।

বিকেল সোয়া ৩ টার দিকে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে র‌্যালিটি শুরু হয়। এরপর সেটি কাকরাইল মোড় ও শান্তিনগর হয়ে মালিবাগ মোড়ে গিয়ে ৪টা ২৫ মিনিটে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।

মিছিলের অগ্রভাগে ও শেষ অংশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।

র‌্যালিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও বিএনপি নেতাদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আব্দুল্লাহ আল নোমান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, ডা, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, জয়নুল আবদিন ফারুক, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নাজিম উদ্দিন আলম, ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুল লতিফ জনি, রফিক সিকদার, অঙ্গসংগঠনের মুনির হোসেন, হাফেজ আব্দুল মালেক, নূরী আরা সাফা, শিরিন সুলতানা, আ ক ম মোজাম্মেল হক, কামাল আনোয়ার আহাম্মেদ, রাজিব আহসান, আকরামুল হাসান, ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক, মহিলা নেত্রী ফারহানা জাহান নিপা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জিয়ার মাজারে খালেদার শ্রদ্ধা
এদিকে আজ সকালে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা জানান তিনি। এরপর সেখানেই ওলামা দল আয়োজিত দোয়া মাহফিলে যোগ দিন বেগম জিয়া। এর আগে পৌনে নয়টার দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মহান শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

এ সময় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মওদুদ আহমদ, লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়াসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়াও বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, রক্তদান কর্মসূচিসহ দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY