সাংবাদিক শফিক রেহমানকে চোরের মতো মিথ্যা নাটক সাজিয়ে গ্রেফতার করেছে হাসিনার পুলিশ

সাংবাদিক শফিক রেহমানকে চোরের মতো মিথ্যা নাটক সাজিয়ে গ্রেফতার করেছে হাসিনার পুলিশ

176
0
SHARE

প্রথিতযশা সাংবাদিক শফিক রেহমানকে চোরের মতো মিথ্যা নাটক সাজিয়ে গ্রেফতার করেছে হাসিনার পুলিশ। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কাপুরুষের মতো ঘরে ঢুকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। হঠাৎ করেই রাজনৈতিকভাবে শান্ত পরিবেশে ২০১৩ সালের পুরনো বিষয়ে তাকে জড়িয়ে কেন গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হলো? কেন আবার পরিবেশ উত্তপ্ত করছে সরকার সে বিষয়ে এখন সর্বত্র বিশ্লেষণ চলছে।

বিশ্লেষণে বের হয়ে এসেছে ভয়াবহ কয়েকটি কারণ। প্রথমত, সাগর রুনি যে কারনে হত্যা হলো সেরকম অন্য একটি কারণেই গ্রেফতার হলেন শফিক রেহমান। শফিক রেহমানের দোষ হলো তার কাছে জয়ের দুর্নীতি ও কুকর্মের নথিগুলো ছিল। সে নথি ফাঁস হলে সরকার ও শেখ পরিবারের মুখোশ খুলে যেত সে ভয়েই গ্রেফতার করা হলো বরেণ্য এই সম্পাদককে। জয়ের বিভিন্ন কুকীর্তির নথির মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআই’র এক এজেন্টের কাছ থেকে পাওয়া নথি। যে মামলায় সিজার নামের একজন যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে রয়েছেন। সিজার জয়ের দূর্নীতির প্রমাণপত্রগুলো ঘুষ দিয়ে সংগ্রহ করার কারণে তাকে ঘুষের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত গ্রেফতার করে। কিন্তু, জয়ের দুর্নীতির তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। সে তদন্তের প্রমাণপত্র বা নথি শফিক রেহমানের কাছেও ছিল। এফবিআই এজেন্ট রবার্ট লাস্টিক এর কাছ থেকে এ নথিপত্রগুলো যোগাড় করে তিনি নিজের সংরক্ষণে রেখেছিলেন। আর এ গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই জয় অপহরণ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। কারণ এসব নথি ফাঁস হলে জয়ের সমস্ত দুর্নীতির মুখোশ উন্মোচন হয়ে যেত। জারজ সরকার বড়ই আহাম্মক!
হাসিনা পুত্র জয়ের আমেরিকার ব্যাংকে রাখা মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের ব্যাংক ডকুমেন্টের কপি আছে শফিক রেহমানের কাছে, এটা অবৈধ সরকার জানার পরেই তাকে এরেস্ট করে। ওরা ভয় পেয়েছে, কখন না আবার পত্রিকায় দিয়ে দেয় শফিক রেহমান।
এ সব কাগজ রিজভি আহমেদ সিজার যোগার করেছিলেন। আর সিজারের সাথে যোগাযোগ থাকার অযুহাত দিয়ে শফিক রেহমানকে এরেস্ট করা হয়। তবে সরকার বলছে, জয়কে অপহরণ ও খুন করতে গিয়েছিল শফিক সাহেব। আসলে তো রিজভি জয়ের চুরির টাকার রেকর্ড যোগাড় করেছিল। আর বেকুব সরকার মনে করে কেবল শফিক রেহমানকে ধরলেই বুঝি তা বন্ধ হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় কারণ, বাংলাদেশ কেন্দ্রিয় ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা যে হ্যাক হয়নি; সে টাকা হাসিনা পুত্র জয় এর নির্দেশে এবং ভারতের পরিকল্পনায় ডাকাতি হয়েছে সেটা প্রমাণ হয়ে গেছে। আর এ ডাকাতির ঘটনায় জয়ের ইমেজ ডাস্টবিনে পতিত হয়েছে। জয়ের ডাস্টবিনে পতিত হওয়া ইমেজকে পুনরুদ্ধার করতে জয়কে অপহরণ ও হত্যার মিথ্যা নাটক বাজারে চাওর করা হলো। কারণ জয় থাকে আমেরিকায়। আর শফিক রেহমান থাকেন বাংলাদেশে। এটা যে সম্পূর্ণ ভাওতাবাজী তা প্রমাণ হয়ে যায়, মাহমুদুর রহমানকে এই মামলায় জড়ানোয়। মাহমুদুর রহমান ৩ বছর ধরে কারাগারে। এখনও তিনি কারাগারে। কারাগারে থেকে তিনি কিভাবে জয়কে হত্যা করবে? তারমানে ব্যাংক ডাকাত শেখ কামালের ভাইগ্না ডিজিটাল ব্যাংক ডাকাত জয়ের লুটের ইস্যুটি ধামাচাপা দিতেই শফিক রেহমানকে গ্রেফতার আর মাহমুদুর রহমানকে শ্যোন এরেস্ট ও রিমান্ডের আবেদন।

তৃতীয়ত, বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসনে অসংখ্য ভারতীয় নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারতের সেই স্পেশাল বাহিনীই দেশজুড়ে বিরোধীজোটের নেতাকর্মীদের বিনাবিচারে হত্যা ও গুম করছে। তনু হত্যাকান্ডটিও এই বাহিনীই করেছে। সেনাবাহিনীসহ সবগুলো বাহিনী ও প্রশাসনে ভারতের নাগরিক ও র’য়ের এজেন্টদের ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। এদেরকে দিয়েই ক্রসফায়ার দেয়া হয়। এদেরকে দিয়ে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের বৈতরিণী পার হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। আর এসব তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়াও চাপে রয়েছে সরকার। আর এসব তথ্যের প্রমাণপত্র ছিল শফিক রেহমানের কাছেও। আর সে কারণেও শফিক রেহমানের সরকারের টার্গেটে পরিণত হয়েছে।

বাস্তবতা হলো, জয় হাসিনার অটিস্টিক পুত্র। জয়কে অপহরণ বা হত্যা করা হবে কেন? জয়তো ভবিষ্যৎ লীগের দায়িত্ব নিলে বিএনপির জন্যই ভাল। কারণ, জয় হলো রাজনৈতিকভাবে অপদার্থ। কখন কী বলে নিজেই জানে না। কখন কী তথ্য দেয় তাও জানে না। রাজনৈতিকভাবে জয় কোন ফিগার নয়। যেভাবে তারেক রহমান প্রতিষ্ঠিত। জয়কে মানুষ চিনে অটিস্টিক রোগী ও তথ্যবাবা হিসেবে। আর এখন চিনে ব্যাংক ডাকাত হিসেবে। আর জয় যদি হত্যাও হয় তাহলে কী হাসিনার পতন হবে? তাতো হবে না। তাহলেকেন জয়কে হত্যার পরিকল্পনা করবে বিএনপিপন্থীরা? হত্যার পরিকল্পনাতো হাসিনার বিরুদ্ধেই করতে পারতো।

এদিকে, সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তারের ইস্যুতে গনজাগরণ মঞ্চের মুখপত্র ইমরান এইচ সরকার তার সর্বশেষ প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ফেসবুক ভেরিফাইড পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ইমরান এইচ সরকার বলেন :

”যারা শফিক রেহমানকে অপরাধী অপরাধী করছেন, তাদের কাছে প্রশ্ন, উনি কতো বড় অপরাধী? নিশ্চয়ই বিরাট বড় ক্রিমিনাল, তাইনা? মহা আয়োজন করে তো গ্রেফতার করা হলো!

আচ্ছা, দেশে একেরপর এক যে মানুষ খুন হচ্ছে খুনিদের ধরা হচ্ছে না কেন? এই যে ব্যাংক থেকে এতোগুলো টাকা লুট হলো, কই কাউকে তো ধরা হলো না! তনুসহ একটার পর একটা খুন-ধর্ষণ চলছে, খুনি-ধর্ষকদের ধরছে না কেন? ও আচ্ছা, শফিক রেহমান তো তার চেয়েও বড় ক্রিমিনাল, তাইনা? আজব ব্যাপার! ফাজলামির একটা সীমা আছে!”

তবে, বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও টকশো ব্যক্তিত্ব ড আসিফ নজরুল সাবধান করে ফেসবুকে লিখেছে ইমরান সরকার ও শেখ হাসিনাপুত্র সজীব জয়ের মধ্য সাম্প্রতিক বিরোধ পুরোটাই নাটক! আসিফ নজরুল ফেসবুকে লিখেছেন,
Imran Sorkar key diye NOTUN KHELA?
Imran ja ichchey boltey parey. kintu tai boley Joy er birudhdhey sorasori kotha?
Imran H Shorkar-er eto shahosh! Biswas hoy na.
Mone hochchey puratai natok!
Imran key diye notun political party khulanor chinta thaktey parey! Ai chinta ta somvoboto Bangadesh key jara pechon theke chalay tader!
Be aware!!
(ইমরান সরকারকে নিয়ে নতুন খেলা? ইমরান যা ইচ্ছা বলতে পারে, কিন্তু তাই বলে জয়কে নিয়ে যা ইচ্ছে বলবে, এতো বড় সাহস! বিশ্বাস হয় না। মনে হচ্ছে পুরাই নাটক। ইমরানকে দিয়ে নতুন পলিটিক্যাল পার্টি করার চিন্তা আছে। এই চিন্তা সম্ভবত বাংলাদেশকে পেছন থেকে যারা চালায় তাদের। সাবধান ! )
এছাড়াও, ইমরান এইচ সরকারকে দিয়ে গণাজাগরণ মঞ্চকে যারা বসিয়েছিলেন ভারতের পরিকল্পনায় তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ উল আলম লেনিন।

তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘শফিক রেহমানের গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়ে ইমরান এইচ সরকারের ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ফেসবুকে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাকে আমি সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং গ্রহণযোগ্য বলে মনে করি।’

সজীব ওয়াজেদ জয়কে ‘অপহরণের বায়বীয় অভিযোগে’ শফিক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ইমরান যে মন্তব্য করেছেন, তা কেবল একজন অপরাধীর পক্ষে সাফাই গাওয়াই নয়, চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণও বটে। ইমরান কী করে জানলেন, শফিক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগটি ‘বায়বীয়’? আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী সাকা (সালাউদ্দিন কাদের) চৌধুরীর ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের কথা দেশবাসী নিশ্চয়ই ভুলে যাননি। জামায়াত, সাকা ও খালেদা জিয়া সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভিন্নমত দমনের’ অভিযোগ বহুবার উচ্চারণ করেছে। ইমরান এখন যুদ্ধাপরাধী ও খালেদা জিয়ার ভাষায় বর্তমান সরকারকে আক্রমণ করে কেবল নিজের স্বরূপ উন্মোচন করেননি; কার সুতার টানে পুতুল নাচ হচ্ছে, তা-ও কিন্তু চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।

রাজনৈতিক শিক্ষা ও অভিজ্ঞতায় অপরিপক্ক তরুণ ইমরান, ইতিহাসের একটি বিশেষ মুহূর্তে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করে দেশব্যাপী পরিচিতি অর্জন করে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যে অভূতপূর্ব গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল তা’ কোনো ব্যক্তি-বিশেষের একক কৃতিত্ব ছিল না। ওই সময়ে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, ১৪-দলীয় জোট, সংস্কৃতিসেবী, পেশাজীবী, কবি, শিল্পী-সাহিত্যিক ও নারী সমাজসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি একাট্টা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলেই, বাংলাদেশে এক অভিনব শান্তিপূর্ণ ‘গণউত্থান’ সৃষ্টি হয়েছিল। এই বিপুল গণজাগরণের সাথে সম্পৃক্ত থেকে আমরা চেষ্টা করেছিলাম, আন্দোলনটি যাতে কারো ভুল বা হঠকারিতার জন্য বিপথগামী না হয়। আমরা ভরসা করেছিলাম, এককালের ছাত্রলীগ কর্মী ডা. ইমরানের ওপর।

কিন্তু অচিরেই আমরা দেখতে পেলাম, ইমরান প্রথমে গণবিচ্ছিন্ন বামদের খপ্পড়ে পড়ে। পরে মানুষের ঢল দেখে নিজেকে অতিমূল্যায়ন করতে শুরু করে। তার ‘আমি কি হনুরে ভাব’ পরীক্ষিত সহকর্মীদের কাছ থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে। সবশেষে সর্বসম্মত আন্দোলনকে মহল বিশেষের এজেন্ডা বাস্তবায়নের ফাঁদে টেনে নেয়। ইমরান ও বামদের হঠকারি কর্মকাণ্ডের ফলে মূলধারার ছাত্র সংগঠন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক শক্তি গণজাগরণ মঞ্চ থেকে দূরে সরে আসে। অনিবার্যভাবে জনগণ ও তরুণ সমাজও নিজেদের গুটিয়ে নেয়। লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাবেশ ও মিছিল পরিণত হয় গুটি কয়েক মানুষের সমাবেশে। ২০১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারির সমাবেশে ইমরান সকল রাখঢাক খুলে ফেলে শেখ হাসিনার সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বসে।

পরবর্তীকালে আনুষ্ঠানিকভাবেই গণজাগরণ মঞ্চ ভেঙে পড়ে। একটি বিশাল সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঘটে। ইমরান এখন ‘জাতির বিবেকের’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। দেশের সকল ইস্যুতেই ইমরানের এখন মতামত দেওয়া, সক্রিয় ভূমিকা পালন করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। গণজাগরণ মঞ্চের পৃষ্ঠে ছুরিকাঘাত, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও তার পুরনো রাজনৈতিক বিশ্বাস ও আনুগত্যের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা এবং ‘বনসাই’য়ে পরিণত হওয়া তথাকথিত গণজাগরণ মঞ্চকে সরকারবিরোধী মঞ্চে পরিণত করে ইমরান ও তার সহযোগীরা যে ইতোমধ্যে সার্কাসের কাউনে পরিণত হয়েছে, সম্ভবত এই কাণ্ডজ্ঞানটুকুও তারা হারিয়ে ফেলেছে।

ইমরানের এককালের ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের কাছ থেকেই শুনেছি, ইমরান কেবল বামদের নয়, দেশি-বিদেশি নানা সন্দেহভাজন শক্তি, সংস্থা ও ব্যক্তির হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছেন। তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই তার লক্ষ্য। ‘ভিন্নমতের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য তার ‘আত্মাহুতি’ দেওয়ার অঙ্গীকার বাংলাদেশের একটি প্রবচনের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়, ‘পিপীলিকার পাখা উঠে মরিবার তরে।’

লেনিনের হুঙ্কার যদি সঠিক হয় তাহলে ধরে নেয়া যায় ইমরান পরপারে চলে যাচ্ছে। আর যদি ইমরানকে দিয়ে ভারত নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের চেষ্টা করে সেটা হবে ভিন্ন চিত্র। তবে কথা হচ্ছে, আজ ইমরানকে মিথ্যবাদী বললো জয়। তাহলে এই ইমরানের নির্দেশে হাসিনা কেন মোমবাতি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল? কেন ইমরানের কথায় কাদের মোল্লার যাবজ্জীবনরায়কে মৃত্যুদন্ডে নেয়া হলো? এখন মিথ্যবাদী ইমরানের নির্দেশে কাজ করায় শেখ হাসিনাও কী শাস্তি হওয়া উচিৎ? বিচারপতিদের কী শাস্তি হওয়া উচিৎ- সে বিষয়ে কী জয় চোরা কিছু বলবেন? জয় তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ইমরানকে সুবিধাবাদী ও মিথ্যাবাদী বলেছে। বলেছে তাকে বর্জন করতে। এখন ইমরানের কথামতো যারা কাজ করেছে তাদের কী হবে? হাসিনাতো ইমরানকে নিজের ছেলে বলেছেন। তার কী হবে???

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর
বিবৃতি
প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ
জয়কে অপহরণ ও হত্যা প্রচেষ্টার হীন
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় বিশিষ্ট সাংবাদিক ও
কলামিষ্ট শফিক রেহমানকে গ্রেফতারের পর দৈনিক
আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর
রহমানকে শ্যোন এ্যরেষ্ট ও পুলিশের ১০
দিনের রিমান্ড আবেদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম
আলমগীর।

এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সম্পূর্ণ
ভিত্তিহীন মিথ্যা মামলায় আবারো দৈনিক আমার দেশ
পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে
শ্যোন এ্যারেষ্ট দেখিয়ে রিমান্ড চেয়েছে
পুলিশ। রাজকোষ কেলেংকারী সহ সরকারের
সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট ও বির্রোধী দলকে
নির্যাতনের ভয়াবহ ইস্যুকে ভিন্নখাতে নেয়ার
জন্যই নতুন নতুন ষড়যন্ত্রমূলক সাজানো মিথ্যা মামলা
দিয়ে এখন সাংবাদিক ও সম্পাদকদেরকেও গ্রেফতার
করে হয়রানী করা হচ্ছে। মানুষের কন্ঠরোধ
করে ক্ষমতাকে কিভাবে দীর্ঘস্থায়ী করা যায়
সেজন্য বর্তমান শাসকগোষ্ঠী চাপ প্রয়োগ
করে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার অপচেষ্টা
অব্যাহত রেখেছে। বিরোধী মতকে সহ্য
করতে না পেরে ইতোপূর্বে আমার দেশ সহ
বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে
দিয়েছে ভোটারবিহীন সরকার। গ্রেফতার করে
ভয়াবহ নির্যাতন-নিপীড়ণ চালানো হয়েছে বেশ
কয়েকজন সম্পাদকসহ টেলিভিশন মালিকদের। তারই
ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ তিন বছর ধরে কারাগারে বন্দী
থাকা অবস্থায় আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
মাহমুদুর রহমানকে আবারো কল্পকাহিনী তৈরী
করে মিথ্যা সাজানো মামলা দিয়ে গ্রেফতার
দেখিয়ে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। কারাবন্দী মাহমুদুর
রহমান বর্তমানে খুবই অসুস্থ। তিনি বারবার উচ্চ আদালত
থেকে জামিন পাওয়ার পরও তাঁকে কেবলমাত্র
মানসিকভাবে দুর্বল ও বিপর্যস্ত করতেই সরকার নতুন
নতুন মিথ্যা মামলা দিয়ে কারান্তরীণ করে রাখছে।
যাতে তাঁকে দীর্ঘদিন আটকে রাখা যায়। মাহমুদুর
রহমানের ওপর সরকারের এহেন নিপীড়নের
উদ্দেশ্য-তাদের লুটপাটের দু:শাসনের বিরুদ্ধে
দেশে নি:শব্দ পরিবেশ বজায় রাখা। কারন মাহমুদুর
রহমান অন্যায়, অত্যাচার আর অবিচারের এক দু:সাহসী
কলমযোদ্ধা ও উচ্চকিত কন্ঠ। আমি সরকারের
এহেন ষড়যন্ত্রমূলক মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
জানিয়ে অবিলম্বে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে
দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও রিমান্ড আবেদন
বাতিল করে নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।”

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY