এবার দুর্নীতির জেনেটিক রোগে আক্রান্ত হাসিনাপুত্র ‘জয়ে’র মুখোশ খুলে দিলেন বেগম খালেদা...

এবার দুর্নীতির জেনেটিক রোগে আক্রান্ত হাসিনাপুত্র ‘জয়ে’র মুখোশ খুলে দিলেন বেগম খালেদা জিয়া

163
0
SHARE

অবৈধ প্রধানমন্ত্রী হাসিনার অটিস্টিক পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় দুর্নীতির জেনেটিক রোগে আক্রান্ত। শেখ বংশের না হলেও মাতৃকুলের নানা এবং মামার লুটপাটের ধরন-ধারন বেশ ভালভাবেই রপ্ত করেছেন তিনি। স্বাধীন বাংলার প্রথম ব্যাংক ডাকাত মুজিব পুত্র শেখ কামালের ভাগ্নে জয় ডিজিটাল ব্যাংক ডাকাতি, লুটপাট ও চুরির ক্ষেত্রে দারুন হাত পাকিয়েছে। মা হাসিনার ছায়ার নিচে জয়ের ডাকাতির নিরাপদ হেড অফিস। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার, লুটপাট ও মানি লন্ডারিং করেই যাচ্ছে জয়। বাংলাদেশ যেন জয়ের লুণ্ঠনের অভয়াশ্রম। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আঠারো শতকের লুণ্ঠন, ১৯৭১ এর পরবর্তী ভারতের লুণ্ঠনের পরই জয়ের লুণ্ঠনের রেকোর্ড। বাংলাদেশকে লুণ্ঠনের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জয়। আধুনিক ব্যাংক ডাকাতি ও দুর্নীতির জনক জয় মা, মামা এবং নানার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছেন। ইতোমধ্যে যোগ্য উত্তরসুরী হিসেবে জয় বেশ কুখ্যাত হয়েছেন। দেশে বিদেশে জয়ের নাম ছড়িয়ে পড়েছে। দেশি বিদেশি পত্র- পত্রিকা খুললেই দেখা যায় দুর্ধর্ষ ডাকাত জয়ের লুটপাটের খবর। মুজিবের আমলে শেখ কামালদের কারনে মুজিবের নিজের কম্বলটাই চুরি হয়ে গিয়েছিল আর এখন হাসিনার আমলে কেন্দ্রিয় ব্যাংকসহ সরকারি সব ব্যাংক শূন্য কোষাগারে পরিণত হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে যুক্তরাষ্ট্রে, ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায়। আধুনিক অর্থপাচার তত্ত্বের জনক জয়ের যুক্তরাষ্ট্রে পাচারকৃত অর্থের তদন্ত করছে দেশটি। সেই তদন্তের কাগজপত্র সংগ্রহ করেছিল সিজার নামের একজন দেশপ্রেমিক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক। সেসব কাগজপত্র বাংলাদেশের প্রথিতযশা সম্পাদক শফিক রেহমানের কাছেও সংরক্ষিত ছিল। আর সেকারনেই অশীতিপর বরেণ্য এই সম্পাদককে রাতের অন্ধকারে চোরের মতো ঘরে ঢুকে গ্রেফতার করেন হাসিনার পালিত আধুনিক রক্ষীবাহিনী (পুলিশ)।

এদিকে, জয়ের ২৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের কাগজপত্র থাকায় শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বেগম খালেদা জিয়া।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘(অবৈধ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ২৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের কাগজপত্র শফিক রেহমানের কাছে ছিল, এজন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ আর এই অভিযোগে (দুর্নীতিবাজ, ব্যাংক ডাকাত) জয়কে ভেতরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।

আজ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহান মে দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমাবেশে এ দাবি জানান খালেদা জিয়া।

‘গুম-খুন, হয়রানী নির্যাতন বন্ধের’ দাবিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপি নেত্রী কারাগারে আটক সাংবাকিক শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমান, শওকত মাহমুদ ও মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ সকল নেতাকর্মীকে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, ‘আর যদি তাদের মুক্তি না দেন তাহলে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে কি যেন নাম…? জয় কে ভেতরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করুন। তাহলে সমতা আসবে।’

বেগম জিয়া বলেন, আজীবন ক্ষমতায় থাকতে আওয়ামী লীগ সংবিধান সংশোধন ও নতুন নতুন আইন করছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের নামে তারা (আওয়ামী লীগ) ভোট কেন্দ্র দখল করে নিজেদের প্রার্থীদের বিজয়ী করছে। আর তাদের সহযোগিতা করছে আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গত সাত বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। জোর করে ক্ষমতায় থেকে বর্তমান সরকার লুটপাট করছে বলেও অভিযোগ করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগকে মানুষ বিশ্বাস করে না। তারা যত উন্নয়ন করে তার চেয়ে বেশি চুরি করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে তারা মনে করে পৈত্রিক সম্পত্তি। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা দখলবাজি করছে। আর মানুষ আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করে না বলেই ক্ষমতায় থেকে তারা নির্বাচন করতে চায়।

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, এ দেশের শ্রমিকরা আজ ভালো নেই। তাঁদের ওপর নানা নির্যাতন-অত্যাচার হচ্ছে। রানা প্লাজার শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে অনেক টাকা ওঠানো হয়েছে। কোথায় গেল সেই টাকা? শ্রমিকদের ভাগ্যে সেই টাকা গেল না কেন?’

ইতিহাসের ভয়াবহতম রানা প্লাজা ধসের কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগের এক নেতা দখল করা জায়গায় রানা প্লাজা গড়েছিলেন। সেই রানা প্লাজা ধসে শত শত শ্রমিক মারা গেল। অনেকে আহত হয়েছে। এখনো অনেক নিখোঁজ শ্রমিকের খোঁজ পায়নি স্বজনরা। এই সরকার আহত-নিহতদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি।’

খালেদা জিয়া বলেন, নিজ দলীয় লোক ছাড়া এই সরকারের কাছে কারো কোনো অধিকার নেই। অধিকার আদায় করে নিতে তাই সকলের আন্দোলন করতে হবে। এই সরকারের কাছে শুধু শ্রমিক কেন, কোনো মানুষেরই অধিকার নেই। তাই নিজেদের অধিকার আদায়ে সকলকে আন্দোলন করতে হবে।

এ জন্য বর্তমান ‘অবৈধ’ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান তিনি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY