অবৈধ শাসক গোষ্ঠী দেশকে অসভ্যতার অন্ধকারে ডুবিয়ে দিচ্ছে : খালেদা জিয়া

অবৈধ শাসক গোষ্ঠী দেশকে অসভ্যতার অন্ধকারে ডুবিয়ে দিচ্ছে : খালেদা জিয়া

677
0
SHARE

“ক্ষমতার অবৈধ দখলদারিত্ব যেন শাসক গোষ্ঠীকে স্বেচ্ছাচারিতার অবাধ ছাড়পত্র দিয়েছে। তারা দেশকে এক অসভ্যতার অন্ধকারে ডুবিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ২০ দলীয় জোটপ্রধান বেগম খালেদা জিয়া।
বৃহস্পতিবার বিকেলে চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।
খালেদা জিয়া বলেন, আইনের শাসনকে পদদলিত করে দেশে পেশীশক্তি-নির্ভর এক বর্বর আওয়ামী দুঃশাসন চাপিয়ে দেয়ার বেপরোয়া ও ধারাবাহিক অপপ্রয়াসে সচেতন নাগরিক সমাজ আজ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে জবরদস্তি ও অপকৌশলের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হয়েছে বর্তমান অবৈধ সরকার। এই শাসকদের সরাসরি মদত ও আস্কারায় তাদের চ্যালা চামুন্ডারা দেশজুড়ে উচ্ছৃক্সখলতা ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, নির্লজ্জ দলীয়করণ ও যথেচ্ছ অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রশাসন ও আইন-শৃংখলা বাহিনী সমূহের আইনসম্মত পন্থায় স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার কোনো অবকাশ এরা রাখেনি। তারপরেও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা প্রশাসন, পুলিশ, সীমান্তরক্ষীসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর দৈহিক হামলা ও সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, অন্যায় আবদার রক্ষা ও বেআইনি নির্দেশ পালন এবং বিধিবহির্ভূত সম্মান ও সুযোগ দিতে অস্বীকার করলেই রাষ্ট্রীয় কর্তব্য পালনে নিয়োজিত কর্মকর্তারা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হাতে হেনস্তা ও নিপ্রহের শিকার হচ্ছেন। মাঠ প্রশাসন পর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশেষ করে আমার নির্বাচনী এলাকায় ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম রকিব হায়দারকে সম্প্রতি পিটিয়ে আহত করার ঘটনাটির কথা উল্লেখ করতে চাই। স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গুরুত্ব না দেয়ার কারণে তাকে সরকারি কর্তব্য পালনরত অবস্থায় প্রকাশ্যে মারধর করে আহত করা হয়েছে। সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবাধে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন এখন কতোটা অসম্ভব ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, এই ঘটনা তার এক জ্বলন্ত প্রমাণ। সারা দেশে এই ধরণের ঘটনা অহরহ ঘটছে।
তিনি বলেন, কোনো ঘটনা নিয়ে বেশি তোলপাড় হলে চোখে ধুলা দেয়ার জন্য সাময়িক কিছু পদক্ষেপ নিয়ে ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো প্রতিকার বা সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে না। ফাঁকে-ফোঁকড়ে শাসক দলের কোনো নেতা-কর্মী আদালত থেকে দোষী সাব্যস্ত হলেও বিশেষ অনুকম্পায় তাদেরকে মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে। ফাঁসিতে মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত আওয়ামী নেতা-কর্মীরাও ছাড়া পেয়ে নতুন নতুন ভয়ংকর অপরাধ সংঘটিত করছে। অপর দিকে বিনা দোষে মিথ্যা মামলায় বিরোধীদলের অগণিত নেতা-কর্মী ও সাধারণ নাগরিকেরা দুঃসহ নিপীড়ন ভোগ করছেন।
“আমি পরশুরামের ইউএনও’র ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, যাতে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। দুর্নীতি, দুঃশাসন, স্বেচ্ছাচারিতা ও নৈরাজ্যের বর্তমান দুঃসহ পরিস্থিতির অবসান কল্পে সকলের অংশগ্রহণে একটি প্রতিদ্ব›িদ্বতামূলক জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ভোটে একটি প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।”

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY