উত্তাল বিক্ষোভের মুখে শেষ হলো অবরুদ্ধ হাসিনার লন্ডন সফর: নির্লজ্জতায় বিশ্বরেকোর্ড (ভিডিও...

উত্তাল বিক্ষোভের মুখে শেষ হলো অবরুদ্ধ হাসিনার লন্ডন সফর: নির্লজ্জতায় বিশ্বরেকোর্ড (ভিডিও সহ)

7114
0
SHARE

এবার নির্লজ্জতায় রেকোর্ড গড়লেন বাংলাদেশের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা চতুর্থদিনের তীব্র প্রতিবাদের মুখেই তার লন্ডন সফর শেষ করলেন তিনি। একরকম পালিয়েই বাঁচলেন মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা। আওয়ামিলীগ যাকে গণতন্ত্রের মানসকন্যা বলে দাবি করে সেই তিনিই গণতন্ত্র হরণের দায়ে লন্ডন সফরে এসে টানা ৪ দিন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। হোটেল থেকে বের হয়ে নির্ধারিত কোন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি তিনি। এমনকি বোনের মেয়ে টিউলিপের সদ্য জন্ম নেয়া সন্তানকেও বাসায় গিয়ে দেখতে পারেননি। অবশেষে টিউলিপ পরিবারসহ হোটেলে এসে হাসিনার সাথে দেখা করে যান। এসময় ব্রিটিশ এমপি টিউলিপও প্রতিবাদের মুখে পড়ে।

পৃথিবীর ইতিহাসে কোন প্রধানমন্ত্রীর এ ধরণের তীব্র ও টানা প্রতিবাদের মুখে পড়ার ঘটনা এটাই প্রথম। আর নিজ দেশের জনগণের এরকম তীব্র প্রতিবাদ ও অনাস্থার মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ না করার নজিরও এটিই অদ্বিতীয়।

টানা ৪ দিন ওয়েস্টমিনিস্টারের তাজ হোটেলের সামনে অবস্থান নেয় যুক্তরাজ্য বিএনপি। এসময় রবিবার হোটেলে প্রবেশের সময় হাসিনার উপর পঁচা ডিম ও জুতা নিক্ষেপ করে যুক্তরাজ্য বিএনপি। এমনকি আজ লন্ডন থেকে বুলগেরিয়া যাওয়ার পথেও পঁচা ডিম ও জুতা নিক্ষেপ করে প্রতিবাদ জানায় আন্দোলনকারীরা। লন্ডন সময় ভোর ৬ টার দিকে হাসিনা হোটেল থেকে বের হয়ে বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার সময়ও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে তাজ হোটেল প্রাঙ্গন।

এ সময় নেতাকর্মীরা ‘ডাউন ডাউন শেখ হাসিনা’, ‘শেইম শেইম শেখ হাসিনা’, ‘হাসিনা মাস্ট গো’, ‘কিলার হাসিনা গো এ ওয়ে’ ইত্যাদি নানা দাবি সম্বলিত ব্যানার নিয়ে ‘জ্বালোরে জ্বালো আগুন জ্বালো’, ‘অ্যাকশান অ্যাকশান ডাইরেক্ট এ্যাকশন’ ইত্যাদি নানা শ্লোগান দিতে থাকে। উত্তাল বিক্ষোভে পঁচা ডিম, জুতা ও ঝাড়ু নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেয় বিএনপির সহস্রাধিক নেতাকর্মী। এছাড়াও অংশগ্রহণ করেছে ভুক্তভোগী পরিবারের আত্মীয়স্বজনও। যাদের কারও ভাই বা পিতা বা সন্তান বাংলাদেশে হামলা, মামলা, খুন, গুম বা নির্যাতনের শিকার।

প্রতিবাদে অংশ নেয়া ভুক্তভোগী আত্মীয়রা জানান, ‘শেখ হাসিনা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলে রেখে একের পর এক নির্বিচার হত্যা, লুণ্ঠন ও নির্যাতন চালাচ্ছে। বাংলাদেশটাকে কারাগারে পরিণত করেছে। সেকারণে আমরা শেখ হাসিনার পতন দাবি করে আন্দোলন করেছি। আমরা দাবি করেছি শেখ হাসিনা তার অবৈধ ক্ষমতা থেকে দ্রুত সরে গিয়ে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন দিয়ে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকারের হাতে যাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে।’

প্রতিবাদকারীদের নানা দাবি সম্বলিত ব্যানার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে ও মাথায় কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। এসময় যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের উল্লেখযোগ্য তেমন কোন নেতাকর্মীদের তাদের দলীয় প্রধানের পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা যায়নি।

যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের একজন নেতা জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কড়া নির্দেশের পরও যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ সেভাবে সংবর্ধনা জানাতে উপস্থিত হয়নি। এমনকি বিএনপির অব্যাহত প্রতিবাদের মুখে শেখ হাসিনা বন্দী হয়ে পড়লেও কেউ তার পাশে এসে দাঁড়ায়নি। শেখ হাসিনার পক্ষে দলের নেতারা অবস্থান নেয়নি। যদিও দলীয় কর্মসূচি পালনের নির্দেশ ও ঘোষণা ছিল। রবিবার লন্ডনে পৌঁছলে নগণ্য কয়েকজন নেতা হোটেলের সামনে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানায়। তারপর সফর শেষে ফেরার সময় ৫/৬ নেতাকর্মীকে দেখা গেছে সংবর্ধনা জানাতে।’

আওয়ামীলীগের যুক্তরাজ্যের নেতাকর্মীরা বলছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকায় এবং অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটানোয় আমরা তাঁর পক্ষে অবস্থান নিতে বিব্রতবোধ করেছি। কারণ, নির্যাতনের শিকার অনেকেই আমাদেরও পরিচিতজন।’

শেখ হাসিনা নিরুপায় হয়ে নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করে স্থানীয় লন্ডন পুলিশ প্রশাসনের সাহায্য চায়। লন্ডন পুলিশ কঠোর নিরাপত্তা দিয়ে অবশেষে প্রতিবাদকারীদের ক্ষোভ ও আন্দোলনের হাত থেকে কোররকমে রক্ষা করে লন্ডন ত্যাগে সহযোগিতা করেন। যদিও পঁচা ডিম ও জুতা বৃষ্টির মতো বর্ষিত হয়েছে হাসিনার গাড়িবহরে। জানা গেছে শেখ হাসিনা হোটেল ত্যাগ করে এয়ারপোর্ট যাবার পথে একাধিক স্থানে ডিম জুতা নিক্ষেপ করেছে আন্দোলনকারীরা।

এদিকে, বিক্ষোভের সময় হাসিনার গাড়িবহর লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করেছেন স্বয়ং যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক। ব্রিটিশ পুলিশ তার জুতাকে জব্দ করেছে। এম এ মালিক আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশটাকে একটি কারাগারে রূপান্তরিত করেছে। বিরোধীজোটের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গুম খুন করে বাংলাদেশটাকে কারবালা বানিয়েছেন। দেশের মানুষ এখন তার কাছে জিম্মি। আমার এই জুতা নিক্ষেপটি ছিল এইসবের প্রতীকি প্রতিবাদ। আমি প্রধানমন্ত্রীকে আঘাত করার জন্য জুতা নিক্ষেপ করিনি। প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক হওয়ার জন্যই আমার এই প্রতীকি প্রতিবাদ।

এম এ মালিক একটু হেসে আরও বলেন, ‘আমার এ জুতা হ্যারোডস থেকে কেনা। যার দাম বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ লাখ।’

এসময় শেখ হাসিনার বোনপুত্রী ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য টিউলিপ সিদ্দিকীর গাড়িতে জুতা নিক্ষেপ করে যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের মহিলা নেত্রী ডালিয়া বিনতে লাকুরিয়া। তাকে ব্রিটিশ পুলিশ গ্রেফতার করে।

এর আগে শেখ হাসিনার সফরকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ ও বয়কট কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। যুক্তরাজ্য বিএনপি তীব্র প্রতিবাদের মুখে শেখ হাসিনা তাজ হোটেলে প্রবেশ করতে ব্যাগ পেতে হয়। হোটেলের চতুর্দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঝরু, জুতা, ডিম নিয়ে অবস্থান করছিল। ঘিরে অবস্থা বেগতিক দেখে শতাধিক পুলিশ এসে পুলিশ ভ্যান দিয়ে একধরনের বেরিকেট তৈরী করে শেখ হাসিনাকে হোটেলে প্রবেশ করায় পুলিশ ।

শেখ হাসিনার গাড়িবহর ওয়েস্টমিনিস্টারের তাজ হোটেলের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা হাসিনার বিরুদ্ধে মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার গাড়িবহরে পঁচা ডিম ও জুতা নিক্ষেপ করে।

বিএনপির ইউকে মিডিয়া সেল জানায়, পঁচা ডিম এবং জুতা হাসিনার গাড়িতে লাগে। হাসিনা তীব্র আন্দোলনের মুখে দ্রুত পালিয়ে যায়। হোটেলে গেইট দিয়ে চোরের মত প্রবেশ করে। হাসিনা ভারতের সমর্থনে যেভাবে চোরের মতো পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে; ঠিক সেভাবেই আন্দোলনকারীদের ধাওয়া খেয়ে চুরের মত হোটেলে প্রবেশ করেছে। একজন প্রধানমন্ত্রীর জন্য এ ঘটনা কতটা লজ্জার। অন্যকোন দেশের প্রধানমন্ত্রী হলে সাথে সাথেই পদত্যাগ করতো বলেও জানায় সেলটি।

বাংলাদেশে অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, হত্যা, হামলা, মামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ও বিচারিক হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য বিএনপি এ প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে। প্রতিবাদকারীরা হাসিনার পতন দাবি করে স্লোগান দিতে থাকে। এছাড়াও, বিভিন্ন ব্যঙ্গ বিদ্রুপপূর্ণ ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে হাসিনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী হাসিনার উপর এ জুতা ও ডিম নিক্ষেপ করা হয় বলে জানায় যুক্তরাজ্য বিএনপি।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কয়সর আহমেদসহ সহস্রাধিক নেতাকর্মীরা।

যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত বিভিন্ন বক্তারা বিরোধীজোট ও মতের নেতাকর্মীদের ওপর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী শেখ হাসিনার নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, ব্যারিস্টার এম এ সালাম, যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা শায়স্থা চৌধুরী কুদ্দুছ, সহসভাপতি আব্দুল হামিদ চৌধূরী, আবুল কালাম আজাদ, আখতার হোসেন, লুত্ফুর রহমান, মুজিবুর রহমান মুজিব, যুগ্ন সম্পাদক, ব্যারিষ্টার মৌদুদ, তাজ উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পারবেজ মল্লিক,সহসভাপতি গোলাম রাব্বানী, গোলাম রাব্বানী সুহেল, যুগ্ন সম্পাদক শামসুর রহমান মাতাব, সাবেক যুগ্নসম্পাদক শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন, নাসিম আহমেদ চৌধুরী, যুগ্ন সম্পাদক শামসুর রহমান মাতাব, সাবেক সহসভাপতি তৈমুছ আলী, যুগ্ন সম্পাদক ফেরদৌস আলম, ,সাবেক যুক্তরাজ্য যুবদলের আহ্বায়ক দেওয়ান মুকাদ্দিম চৌধুরী নিয়াজ, সাবেক যুগ্ন সম্পাদক সাদিক মিয়া, এডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল, শামিম আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামিম আহমেদ, খসরুজ্জামান খসরু, ব্যারিস্টার আবু সায়েম, এডভোকেট খলিলুর রহমান, বিএনপি নেতা আশরাফুল ইসলাম হীরা, যুবদলের সভাপতি রহিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সালেহীন করিম চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নাসির আহমেদ শাহীন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, সরফরাজ সর্ফু প্রমুখ।

উল্লেখ্য, এর আগেও যুক্তরাজ্য বিএনপি ২০১৫ সালে জুন মাসে শেখ হাসিনার উপর ডিম ও জুতা নিক্ষেপ করে। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার শেখ হাসিনা পঁচা ডিম ও জুতা নিক্ষেপের শিকার হলেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY