যে কারণে বুলগেরিয়া গেলেন প্রধানমন্রী? দেশের জন্য চরম লজ্জা !

যে কারণে বুলগেরিয়া গেলেন প্রধানমন্রী? দেশের জন্য চরম লজ্জা !

8396
0
SHARE

শেখ হাসিনা যে কারণে ৭ দিন সফরের নামে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন…

তাজউদ্দীন

বিদেশ সফরের নাম করে শেখ হাসিনা ঢাকা সফররত মার্কিন কর্মকর্তাদের এড়িয়ে চলছেন। অপ্রয়োজনীয় ও কম গুরুত্বপূর্ণ সফরের অজুহাতে তিনি মুলত পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কোনো গ্রহণযোগ্য কারন ছাড়াই হাসিনা সাত দিন যাবৎ দেশ ছেড়ে লন্ডন ও বুলগেরিয়াতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

দেশের টালমাতাল ও সঙ্কটময় অবস্থায় হাসিনার লন্ডন ও বুলগেরিয়ার সফর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কূটনৈতিক মহলে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ওআইসির মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়নি রাষ্ট্রীয় কাজের অজুহাতে; সেই তিনিই মাওলানা নিজামীসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের পর নাজুক অবস্থায় থাকা দেশ ছেড়ে ব্যক্তিগত সফরের নামে ৪ দিন লন্ডনে এবং বুলগেরিয়ায় ৩ দিন বসে আছেন। প্রধানমন্ত্রী উক্ত সফরের কোন গুরুত্ব জাতির সামনে তুলে ধরতে পারেননি। এমনকি লণ্ডনেও তিনি কোন অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। দেশের এই ভার্নারেবল সময়ে প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়ে বেড়ানোর কারণ মূলত মার্কিন চাপ থেকে দূরে থাকা।

সূত্রগুলো আরও জানায়, মুলত মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বাংলাদেশ ঘুরে যাওয়ার পরে যখন ঘোষণা দিলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সিপাল ডেপুটি এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি টেড এবং বিশাল এক টেকনিক্যাল টিম পাঠাবে, তারা বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে ঠিকঠাক শেষে হাসিনার সাথে দেখা করবে। তখনই দৌড়ে ঢাকায় আসে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জয়শংকর। তারা হাসিনাকে পরামর্শ দেয়, টেডকে এড়িয়ে যেতে, নইলে বিপদ আছে। হাসিনা তাড়াহুড়া করে বিদেশে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। উছিলা খুঁজে না পেয়ে অনলাইনে সার্চ দিয়ে পায় বুলগেরিয়ার এই বেসরকারি ২য় শ্রেণির সম্মেলন। ব্যস, এটায় রেজিস্ট্রেশন করে দাওয়াত এনে তড়িঘড়ি করে দেয় ভো দৌড়!

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক কামরুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশের বর্তমানে যে অবস্খা চলছে তাতে রেহানার নাতিন দেখতে যাওয়া তো দূরের কথা, বাপ মরলেও যাওয়ার সময় নাই হাসিনার। যেখানে কল্লা ঝুলানোর রশি দেখা যাচ্ছে, তখন এই সব ঠুনকা অযুহাতে এক সপ্তাহ দেশের বাইরে থাকা- ইমপসিবল! কেবল মার্কিন চাপের বালা এভয়েড করা যায় কি না, সেই চেষ্টায় বাইরে যাওয়া।
যাই হোক, হাসিনা না হয় অবৈধ প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু দেশের তো ইজ্জত আছে। বুলগেরিয়া গিয়ে এভাবে বাংলাদেশের ইজ্জত মারতে পারে না সে। দেশে ফিরলে ওরে জুতাইতে হবে, বান্দর বুশের মতন।

সূত্রগুলো বলছে, বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়াতে হাসিনা গেছে যে কনফারেন্সের নামে, সেটা আসলে বি-গ্রেডের একটা বেসরকারি সম্মেলন। ওখানে কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপ্রধান তো যায়ই নি, বরং কোনো দেশের কেবিনেট মন্ত্রী পর্যায়ের কেউ নাই। মূলত এনজিও কর্মী, হোটেলে ম্যানেজার, স্থানীয় মহিলা রাজনীতিক, কিছু শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশার নারীরা থাকবেন। এমনই এক কনফারেন্সে ঘটা করে যোগ দিতে গেছে বাংলাদেশের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, তাও আবার আমন্ত্রিত অতিথিদের নামের তালিকায় ইউনেস্কোর পরিচালক এবং মোবাইল ফোন কোম্পানি সিমেন্সের বুলগেরিয়া প্রধানের নামের পরে রয়েছে শেখ হাসিনার নাম। একজন সরকার প্রধানের নামের আগে অতিথি তালিকায় একটি কোম্পানির কান্ট্রি চিফের নাম ওই সরকার প্রধানের জন্য অপমানজনকই বটে। আরেকটি অবাক করা তথ্য হচ্ছে, যে কোন নারী চাইলে আয়োজকদের ওয়েবসাইটে ৩০ হাজার টাকা ফী দিয়ে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যোগ দিতে পারবেন! তো এ সম্মেলনে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদটাকে কি সে অবমূল্যায়ন করে আসলো না?

অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হাসিনা ভারতের নির্দেশে যারপরনাই নিম্নমানের আচরণ করছে। বিশেষ করে ভারতবাদে বাকি প্রায় সব রাষ্ট্র হাসিনাকে চাপের মধ্যে রেখেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের বৈধ সরকার গঠনে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। নতুনভাবে যোগ হয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। হাসিনা এখন বিশ্বকে এড়িয়ে চলার নীতি অনুসরণ করছে। যে কারণে গুরুত্বহীন সফরের নামে মূলত বিশ্বচাপকে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করছেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY