জয়ের ৩০০ মিলিয়ন ডলারের তথ্য মার্কিন সংস্থার হাতে: তারেক রহমান (ভিডিও সহ}

জয়ের ৩০০ মিলিয়ন ডলারের তথ্য মার্কিন সংস্থার হাতে: তারেক রহমান (ভিডিও সহ}

3790
0
SHARE

০.জনরায় নিয়ে উর্দু নামের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হবে
০. জয়ের ৩০০ মিলিয়ন ডলারের তথ্য মার্কিন সংস্থার হাতে: তারেক রহমান
০.বাকশালই শেখ মুজিবের একমাত্র রাজনৈতিক আদর্শ, চোরের দল বলে তিনি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন।

ওএনবি (লন্ডন) ৩১ মে ২০১৬ : বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে উর্দু নাম নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল হতে পারেনা। উর্দু নাম নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারেনা। তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের “আওয়ামী“ শব্দটি উর্দু। এই “উর্দু“ নাম ৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী। জনগনের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনে রেফারেন্ডাম দিয়ে জনমত যাচাই করা হবে। জন রায় পেলে উর্দু নামের রাজনৈতিক দল দেশে নিষিদ্ধ করা হবে। ২০১৬ সালের ৩১ মে পূর্ব লন্ডনের রয়েল রিজেন্সী অডিটরিয়ামে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে যুক্তরাজ্য বিএনপির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পূর্ব লন্ডনের দ্যা রয়েল রিজেন্সী অডিটরিয়ামে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক। সভা পরিচালনা করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ। তারেক রহমান বলেন, শেখ মুজিবুর রহসানের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের একমাত্র আদর্শ বাকশাল।
সভায় দলের নেতা কর্মী সমর্থক শুভাকাংখি সবার প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, শেখ হাসিনা ও তার দলের সন্ত্রাসীরা প্রতিদিন গুম খুন করেছে, হামলা মামলা দিয়ে নির্যাতন হয়রানী করেছে, করছে। কিন্তু গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জনগনের এই ত্যাগ কষ্ট বৃথা যেতে পারেনা। তারেক রহমান জাতীয়তাবাদী শক্তিকে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, জুলুম নির্যাতনের পাশাপাশি নানারকম অপপ্রচার শুরু হয়েছে। তিনি কোনরকমের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বিশেষ করে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান।
সভায় তারেক রহমান বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান চোরের দল চাটার দল বলে আওয়ামী লীগকে ১৯৭৫ সালে নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু কথায় বলে, “ইল্লত যায়না মইলে, খাসলত যায়না ধুইলে“। শেখ মুজিবের নিষ্দ্ধি করা চোরের দলের খাসলত পাল্টায়নি। তারা এখন শেখ কামালের মত ব্যাংক ডাকাতি করছে। তারেক রহমান আরো বলেন, ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিএফআই, এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যও বলছে, বর্তমানে শেখ হাসিনার লুটেরা সরকারের আমলে গড়ে প্রতি বছর দেশ থেকে পাচার হচ্ছে ৭২ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছরের ফেব্রƒয়ারী মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লোপাট হয়েছে আট শতাধিক কোট টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট রিপোর্টের উদ্বৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ১২ হাজার কোটি টাকার হিসাব নাই।
তারেক রহমান বলেন, শেখ কামালের ভাগিনার একাউন্টে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের হিসাব খুজে পেয়েছে অমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা। এই ৩০০ মিলিয়ন নিয়ে নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ঠিকানা পত্রিকায় রিপোর্টও প্রকাশিত হয়েছে। তারেক রহমান বলেন, দেশে দুর্ণীতির বিরুদ্ধে কিছু লিখলেই সাংবাদিকদের হামলা মামলা গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। কিন্তু আমেরিকায় প্রকাশিত ওই রিপোর্ট চ্যালেঞ্জ করার মত কোন তথ্য প্রমান শেখ কামালের ভাগিনার কাছে নেই। কারণ চাইলেই তথ্য প্রমান ছাড়া মার্কিন আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায়না। তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, অপ্রিয় হলেও সত্য, রংহেডেড শেখ হাসিনার সময় দেশে উচ্চ আদালত এবং নি¤œ আদালত রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নয়।
তারেক রহমান বলেন, শেখ হাসিনা তার ছেলের দূর্নীতি এবং নিজের অবৈধ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে একটি অপকর্ম ঢাকতে আরেকটি অপকর্ম করেন। সেই অপকর্মের ধারাবাহিকতায় মোসাদ নাটকের সৃষ্টি। তিনি বলেন, ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির যুব সংগঠনের আমন্ত্রনে বিএনপির একজন নেতা ভারতে একটি সেমিনারে অংশ নেন। সেই সেমিনারে আমন্ত্রিত ইসরায়লের একজন নাগরিকের সঙ্গে কয়েক মিনিটের সাক্ষাতের বিষয়টি নিয়ে শেখ হাসিনা বিএনপির সঙ্গে ইসরায়লের সম্পর্ক খুজছে।
তারেক রহমান বলেন, জনগন এসব বিশ্বাস করেনা, কারণ বিএনপি সব সময়ই দেশের জনগনকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী জনগনের পক্ষে। তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমন্ত্রনে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ সফর করেন ফিলিস্তিনী স্বাধীনতা আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা ইয়াসির আরাফাত। সে সময় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজে উপস্থিত থেকে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা আন্দোলনের অবিসংবাদিত এই নেতাকে বাংলাদেশে লাল গালিচা সংবর্ধনা জানিয়েছিলেন। শহীদ জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের সময়েই ১৫ সদস্যবিশিষ্ট জেরুজালেম সমন্বয় কমিটি, ছয় সদস্যবিশিষ্ট জাতিসংঘে জেরুজালেম সমন্বয় কমিটি এমনকি তিন সদস্যবিশিষ্ট আল কুদস কমিটিতে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত হয়।
তারেক রহমান আরো বলেন, জিয়াউর রহমানের সরকারের আমলেই প্রথমবারের মত ফিলিস্তিনীদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সমর্থনে বাংলাদেশে একটি স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করা হয়। “ অস্ত্র হাতে একজন ফিলিস্তিনী যোদ্ধা এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে কাঁটাতারে ঘেরা মসজিদুল আক্বসা“ এই চিত্র সম্বলিত স্মারক ডাকটিকেটটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আগ্রহেই প্রকাশ করা হয়। স্মারক ডাকটিকেটটিতে লেখা ছিলঃ ‘আমরা বীর ফিলিস্তিনী স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের সালাম জানাই’ ।


তারেক রহমান বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালালেও এখন ইসরায়লের নাগরিক মেন্দি এন সাফাদি নিজেই স্বিকার করেছেন, অনেক আগেই সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনে তার বৈঠক হয়েছিলো। তারেক রহমান বলেন, তথ্য প্রমানে দেখা যায়, ইসরায়লের সঙ্গে অনেক আগ থেকেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রং হেডেড শেখ হাসিনা এবং তার ছেলে। এই ষড়যন্ত্র হচ্ছে নিজের অবৈধ ক্ষমতা দখলে রাখতে একদিকে বিএনপিকে ঘায়েল করা অপরদিকে জয়ের টাকা পাচারের রাস্তা সুগম করা।
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তারেক রহমান একটি তথ্য উপস্থাপন করেন। সেটি হলো, ২০১০ সালে গঠিত জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, এনটিএমসি‘র সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক ইসরাইলী প্রতিষ্ঠান ভেরিন্টের কাছ থেকে ২০০ কোটি ডলার মূল্যের তথ্য প্রযুক্তি যন্ত্রপাতি কেনার চুক্তি হয়। এই চুক্তির মধ্যস্থতা করে সজীব ওয়াজেদ জয়। এই চুক্তির লক্ষ্য হচ্ছে, ইউনিট ৮২০০ প্রযুক্তি ব্যবহার করে শেখ হাসিনার অবৈধ সরকার মানুষের তথ্য আদান-প্রদান ট্র্যাক করাসহ জনগনের বিরুদ্ধে যাবতীয় গোয়েন্দা কার্যক্রম চালাবে। এই স্পর্শকাতর বিষয়টি পৃথিবীর অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পারে ২০১৫ সালে। তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে জয়ের ২শ কোটি ডলারের গোপন বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই মোসাদ নাটক তৈরী করেছে শেখ হাসিনা।
তারেক রহমান আরো বলেন, শেখ হাসিনার অবৈধ সরকারের মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পর্যন্ত বলেছেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ৪০টি আসনও পাবেনা। তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ জনবিচ্ছিন্ন, শেখ হাসিনার সরকার অবৈধ। তাদের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, কখনোই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ স্বাভাবিক নিয়মে জনগনের ভোটে ক্ষমতায় আসতে পারেনি। এ কারণেই নির্বাচনে তাদের ভয়। তারেক রহমান বলেন, যারা শেখ মুজিবের শাসনামলের দূর্নীতি ও সন্ত্রাস এবং লুটপাট দেখেনি তাদের জন্য শেখ হাসিনার শাসন একটি প্রতিচিত্র।
জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গে বক্তৃতায় তারেক রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতীক। গনতন্ত্র এবং জাতীয় সংহতির প্রতীক। শেখ মুজিবের ৪০ বছরের রাজনীতি জিয়াউর রহমানের সাড়ে চার বছরের রাজনীতি ও উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের কাছে ম্লান। তারেক রহমান বলেন, কৃষি ও শিল্প উৎপাদনে বাংলাদেশকে স্বনির্ভরকরে তুলেছিলেন জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য সবচেয়ে বড় দুটি খাত বাংলাদেশের শ্রমশক্তি এবং গার্মেন্টস শিল্প রপ্তানীও জিয়াউর রহমানেরই অবদান।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন, বিএনপির মানিবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসিরুদ্দিন অসীম সহ অনেকে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY