হাসিনার এই জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের লইয়া জাতি কী করিবে?

হাসিনার এই জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের লইয়া জাতি কী করিবে?

157
0
SHARE

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা কতটা মেরুদণ্ডহীন হয়ে পরছে তার বাস্তব প্রমাণ এখন গণমাধ্যমেই প্রকাশিত হচ্ছে। বাংলাদেশের শিক্ষা আইন, শিক্ষানীতি ও পাঠ্যসূচি এবং পাঠ্যপুস্তক সেক্যুলারিজম ও হিন্দুত্ববাদের দর্শন শাস্ত্রে পরিণত হয়েছে। ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা তুলে নেয়া হয়েছে। এখানেই ক্ষান্ত নয় এই সরকার। সরকারের আকাশচুম্বি উন্নয়নের ধারা দেখানোর জন্য পরীক্ষকদের দিয়ে নাম্বার বাড়িয়ে ফলাফল দেয়ার যে নোংরা পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে এরফলে লাখ লাখ জিপিএ- ৫ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু, মেধার দিক থেকে, জানার দিক থেকে ও শিখার দিক থেকে একদম হাস্যকর অবস্থানে চলে গিয়েছে তারা।
অভিভাবকরা খুশি তার সন্তান জিপিএ ৫ পাচ্ছে। রেজাল্ট ভাল করছে। কিন্তু তাদের সন্তানরা যথেষ্ট পড়ালেখা না করে সর্বোচ্চ ফলাফল করায় পড়ালেখায় মনোযোগী না হয়ে মনোযোগ দিচ্ছে ফেসবুকে, মোবাইল ও মাদকদ্রব্যে। যারফলে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় গিয়ে সেভাবে ভাল করতে পারছে না। লাখ লাখ জিপিএ ৫ এর জোয়ারেও তাই দেখা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ে একজন মাত্র ছাত্র ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তিনভাগের একভাগও গোল্ডেন জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাচ্ছে না। কারণ তারা অযোগ্যতা সত্ত্বেও সরকারের নাম্বার বৃদ্ধির ফলে ভাল রেজাল্ট করছে কিন্তু শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পাচ্ছে না। সত্যিকার মেধাবী ও ভাল শিক্ষার্থীদেরও আরোপিত জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য অবমূল্যায়ণ হচ্ছে।

যখন নাম্বার বাড়িয়ে ভাল ফলাফলের নেতিবাচকতার সমালোচনা সর্বত্র, যখন শিক্ষা আইন, নীতি ও সূচি নিয়ে আন্দোলন চলছে তখন মাছরাঙা টেলিভিশনের একটি সংবাদ দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একটি প্যাকেজ নিউজে উঠে এসেছে বাংলাদেশের শিক্ষার মানের ভয়ানক চিত্র। আওয়ামীলীগের বুদ্ধিজীবী জাফর ইকবাল, আনিসুজ্জামানরা পর্যন্ত সমালোচনা করতে বাধ্য হয়েছে বর্তমান শিক্ষার মান নিয়ে। লাখ লাখ জিপিএ ৫ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা কিন্তু তাদের মেধা ও জানার পরিধি এতোটাই নিম্নমানের যে ক্লাস ওয়ানের শিক্ষার্থীরাও লজ্জায় মুখ ঢাকে।

মাছরাঙার সংবাদে তুলে ধরা হয় এসএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার। যেখানে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে খুবই সহজ প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু সেসব জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের উত্তর শুনলে একজন নিরেট মূর্খ রিক্সাওয়ালাও মুখ লুকিয়ে হাসতে বাধ্য হবে। জিপিএ ৫ পাওয়া ছাত্ররা জানে না বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতির নাম কী। জানে না রণ সঙ্গীত নজরুল না রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন। জানে না এসএসসির পূর্ণরূপ, জিপিএর পূর্ণরূপ কি। জানে না শহীদ মিনার কোথায় অবস্থিত। মূখস্থনির্ভর শিক্ষাপদ্ধতি ও পরিকল্পিতভাবে ভাল ফলাফল করানোর কারণে শিক্ষার্থীদের এ অবস্থা বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা।

শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করা হয়:
প্রশ্ন: জিপিএর পূর্ণরূপ কি?
উত্তর: জানি না।
প্রশ্ন: এসএসসির পূর্ণরূপ কি?
উত্তর: একজন জানে না, আরেকজন উত্তর দেয়- জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট।
প্রশ্ন: ট্রান্সলেট কর- আমি জিপিএ ৫ পেয়েছি
উত্তর: I am GPA 5/ I keep GPA 5. I will…
প্রশ্ন: শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস কবে?
উত্তর: ১৭ আগস্ট, ১০ ডিসেম্বর
প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কবে
উত্তর: জানি না।
প্রশ্ন: স্বাধীনতা দিবস কবে?
উত্তর: ১৬ ডিসেম্বর।
প্রশ্ন: বিজয় দিবস কবে
উত্তর: ২৬ ডিসেম্বর।
প্রশ্ন: জাতীয় স্মৃতিসৌধ কোথায় অবস্থিত
উত্তর: জানি না
প্রশ্ন: জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা কে?
উত্তর: জানি না। আরেকজন- কাজী নজরুল ইসলাম।
প্রশ্ন: মাউন্টএভারেস্ট কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: লন্ডন
প্রশ্ন: নিউটনের তত্ত্বটির নাম কি?
উত্তর: গাছ থেকে আপেল পড়ে
প্রশ্ন: কয়টি সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়?
উত্তর: ৯ টি
প্রশ্ন: অপারেশন সার্চ লাইট কি?
উত্তর: অপারেশন করার সময় যে লাইট জ্বালানো হয়।
প্রশ্ন: নেপালের রাজধানী কোথায়?
উত্তর: নেপচুন
প্রশ্ন: পিথাগোরাস কে?
উত্তর: একজন ঔপন্যাসিক
প্রশ্ন: হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: জানি না।
প্রশ্ন: রণ সঙ্গীতের রচয়িতা কে?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

….এই হলো বর্তমান শিক্ষার মান। শিক্ষার গুণগত মানের কতটা অভাব চিন্তা করা যায়? রাষ্ট্রপতির নামটাতো একজন রিক্সাওয়ালাও জানে। বিজয় দিবস, ভাষা দিবসতো ক্লাস ওয়ানের শিক্ষার্থীরাও গড়গড় করে বলে দিতে পারে। কিন্তু হাসিনার ডিজিটাল জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা সেটা পারে না। নাহিদীয় বা আওয়ামীলীগীয় শিক্ষার মান নিয়ে এখন সর্বত্র সমালোচনার ঝড় চলছে। বিশেষ করে সোস্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

শেখ মুজিবীয় স্টাইলে শিক্ষার মান নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। স্বাধীনতা- উত্তর কালপ্রবাহে সরকারিভাবে নকল দিয়ে পাশ করানো হতো। আর এখন ডিজিটাল সিস্টেমে উত্তরপত্রে নাম্বার বাড়িয়ে পাশসহ ভাল রেজাল্ট করানো হয়। অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার ঘোষণা দিয়েছে- ‘যারা পরীক্ষা দিতে আসে তারা সবাই পাশ করতেই আসে।’ তারমানে আগামীতে জাতি দেখবে যে ১০০ ভাগ পাশের হার। এবার এসএসসির ফলাফলে দেখা যায় পরীক্ষা না দিয়েই গণিতে পাশ করেছে। তার আগে পরীক্ষা না দিয়েই জিপিএ ৫ পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসতো আছেই।

শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র হাতে তুলে দিয়ে, উত্তরপত্রে নাম্বার বাড়িয়ে দিয়ে এবং ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষাকে তুলে দিয়ে জাতিকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে এ সরকার? এ কারণেই আমি লিখেছিলাম- জাতির মেরুদন্ড ভাঙার আগেই হাসিনার মেরুদন্ড ভেঙে দিতে হবে। নচেৎ এ জাতি গোবর গণেশ জাতিতে পরিণত হবে।

শেখ মুজিবের অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইয়ে মুজিব নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি নকল করে পাশ করেছেন। হাসিনা বোধয় পিতার এ চেতনায় উজ্জ্বীবিত। হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা জানে না হার্ডওয়ার আর সফটওয়ারের মধ্যে পার্থক্য কী? ইতিহাস নিয়ে এতো এতো কিছু করার পরও শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলন, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, অপারেশন সার্চলাইট সম্পর্কে জানে না। যে জাতি বিজয় দিবস কবে জানে না সে জাতি কিভাবে ৭১ এর যুদ্ধাপরাদীদের ফাঁসির মধ্যদিয়ে কলঙ্কমুক্ত হওয়ার দাবি করে?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY