শেখ হাসিনাকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে: ড. মইনুল

শেখ হাসিনাকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে: ড. মইনুল

78
0
SHARE

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবহার ও গণতন্ত্রের পরিসমাপ্তি ঘটেছে বলে মনে করেন অর্থনীতির শিক্ষক ড. মইনুল ইসলাম।

শনিবার চট্টগ্রাম নগরীতে ‘বাজেটে রাষ্ট্র চরিত্রের প্রতিফলন’ শীর্ষক এক সেমিনারে মূল আলোচকের বক্তব্য এ মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যাংকারস এলাইন্স অব বাংলাদেশ (বিএবি) ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে চিটাগাং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি মিলনায়তনে এ সেমিনার আয়োজন করে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি মইনুল বলেন, “আমাদের তো নির্বাচন নেই। নির্বাচনকে আমরা কোথায় নিয়ে গেছি, নাউজুবিল্লাহ!

এই যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হচ্ছে। কত বড় ক্ষতি হয়ে গেছে তা বুঝতে সময় লাগবে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে এ জন্য ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। কীভাবে নিজ হাতে তিনি নির্বাচন ব্যবস্থাকে শেষ করে দিলেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সাংবিধানিকভাবে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না উল্লেখ করে অধ্যাপক মইনুল বলেন, “কিন্তু‘ এটা কি গণতান্ত্রিক? যতখানি গণতন্ত্র অর্জন করেছিলাম, সব তো শেষ। সরকারের মন্ত্রী বলছে- অপেক্ষা কর“ন, উন্নয়ন করছি।”

গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “উন্নয়নের পথে বাংলাদেশ যাত্রা করেছে। বাংলাদেশের ইকোনোমি টেক অফ করেছে। কিন্তু গণতন্ত্র ফিরে না এলে উন্নয়নের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছানো যাবে না।”

যত ত্রুটিপূর্ণই হোক নির্বাচনী গণতন্ত্রকে প্রতিনিধিত্বশীল এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক করে তোলাই এখন জাতির প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি।

দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) ‘সুপরিকল্পিতভাবে গলা টিপে হত্যা’ করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “এজন্যও শেখ হাসিনাকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। সেনা নিয়ন্ত্রিত সরকার অনেক কিছু খারাপ করেছিল। কিন্তু তারা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে শুর“ করেছিল।

“দুদককে গলা টিপে মেরে ফেলা হয়েছে। দুদককে শক্তিশালী করার আইন সংসদে পাস হয়নি। দুদক চেয়ারম্যানরা বলে গেছেন-এটা নখদন্তহীন বাঘ। দুর্নীতি ক্রমশ ছড়িয়ে গেছে আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে।”

দেশের উন্নয়নে ‘সর্বগ্রাসী দুর্নীতি’ সবচেয়ে বড় বাধা- একথা উল্লেখ করে অর্থনীতির শিক্ষক মইনুল বলেন, লুটপাট-দুর্নীতির লাগাম ধরলে আগামী পাঁচ বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে নেওয়া সম্ভব।

“বাংলাদেশের রাষ্ট্রচরিত্র নব্য-ঔপনিবেশিক, প্রান্তীয় পুঁজিবাদী, আমলাতান্ত্রিক এবং পুঁজি লুণ্ঠনমূলক।”

তিনি বলেন, রাজনীতির প্রয়োজনে ডেটা ডক্টরিং করে জিডিপিকে ইনফ্লেটেড’ করা হচেছ। আসলে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার বর্তমান অর্থবছরে ৭ শতাংশে পৌঁছাবে না।

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রায় সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের ৭১ শতাংশের বেশি অর্থ রাজস্ব খাত থেকে আদায়ের যে পরিকল্পনা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত উপস্থাপন করেছেন, তাকে তিনি নিজেও ‘উ”চাভিলাষী’ বলছেন।

সেমিনারে এ প্রসঙ্গ তুলে অধ্যাপক মইনুল বলেন, “বাজেটে উ”চাভিলাষী হওয়া দোষের কিছু নয়। তবে এ উ”চাভিলাষ যদি বিশ্বাসযোগ্যতার সীমা ছাড়িয়ে যায় তাহলে অর্থমন্ত্রী মহোদয় হাসির খোরাক হয়ে যেতে পারেন।”

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY