এক্সিটের শর্তে হাসিনার সৌদি সফর- শীঘ্রই নির্বাচন

এক্সিটের শর্তে হাসিনার সৌদি সফর- শীঘ্রই নির্বাচন

2096
0
SHARE

সমসাময়িক রাজনীতির ধারাতে হঠাৎ করেই পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সৌদি সফরের পরপরই হাসিনার সফর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতির পালাবদলের পট নির্মাণে।

বাংলাদেশের প্রধানতম ইসলামি দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির শীর্ষ নেতা ও আলেমদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে হত্যা করার পর সৌদির সাথে হাসিনার আওয়ামীলীগের সম্পর্ক একদম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। সৌদি বরাবরই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তাঁর সহধর্মীনি বর্তমান চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সরাসরি রাখঢাক না রেখে সমপর্ক বজায় রেখে চলেছে। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সৌদি অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। যারা সৌদিতে ছিল তাদের অধিকাংশকেই বাংলাদেশে ফিরত পাঠিয়ে দিয়েছে। আকামা পরিবর্তনের সুযোগ তুলে নিয়েছে। সৌদির মতো করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো বাংলাদেশের মানব সম্পদ আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক চেষ্টা তদবিরের পর স্বল্পবেতনে নারী গৃহকর্মীদের নেয়ার ব্যাপারে কিছুটা ছাড় দেয় সৌদি সরকার।

হাসিনার সরকারও রাশিয়া, ভারত আর ঈসরাইলকে নিয়েই খুশি ছিল। হঠাৎ করেই বিএনপি নেতা আসলামের সাথে ঈসরাইলী নাগরিক সাফাদির ছবি দেখে পিলে চমকে ওঠে হাসিনা। হাসিনা ও তার পুত্র ধরে নেয় যে, তারা যেভাবে ঈসরাইলের লবিকে দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি বোধয় সে লবিকে ম্যানেজ করে ফেলেছে। এ ভয় থেকেই হাসিনা হঠাৎ করেই ঈসরাইল বিরোধী ভূমিকায় চলে যায়। সৌদির সাথে সম্পর্ক তৈরির পরিকল্পনা আঁটে। যেহেতু ঈসরাইল ও সৌদির দা কুমড়া সম্পর্ক। সৌদিও হাসিনার এ সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টাকে স্বাগত জানায়। হাসিনা বহুচেষ্টা সাধনা করে ক্ষমতার ৮ বছরের মাথায় সৌদির সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসে। হঠাৎ করেই এতোবছর পর সৌদির সাথে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টার নেপথ্যের কূটরাজনীতি সম্পর্কে সৌদিও অবগত। তারপরও সৌদি হাসিনার সাথে আলোচনা করেছে। হাসিনার কাছ থেকে গৃহভৃত্যের মতো স্বল্পমূল্যে সেনাবাহিনীর সদস্যদের কিনছে। সিরিয়ার সংকটকে কেন্দ্র করে সৌদি যে সামরিক জোট গঠন করেছে সে জোট শক্তিশালী করতে সৌদি হাসিনার টোপ গিলেছে। আর এরমধ্যদিয়ে হাসিনার শিবিরের কলুর বলদগুলো উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছে। আওয়ামীলীগ মনে করছে, হাসিনা সৌদির সাথে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। জামায়াতের আলেমদের হত্যায় সৌদির চলমান যে অসন্তোষ তা কাটিয়ে উঠেছে। অর্থাৎ, হাসিনার অবৈধ সরকারকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় রাখতে সৌদির সমর্থন রয়েছে। হাসিনা এমনটাই প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে তার সংবাদ সম্মেলনে।

কিন্তু বাস্তবতা তার সম্পূর্ণ উল্টো। সৌদির বর্তমান বাদশা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘাড়ের উপর কাঁঠাল রেখে কাঁঠাল খাওয়ায় সিদ্ধহস্ত। হাসিনার আগেই হাসিনার ক্ষমতারক্ষাকারী ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ডেকে হাসিনার বিষয়ে সৌদির উষ্মা জানিয়ে দেয়। তারপর হাসিনাকে সৌদি সফরে আসন্ত্রণ জানিয়ে কিছু পারস্পরিক সম্পর্কের কথা বলে মধ্যবর্তী নির্বাচন দেয়ার জন্য চাপ দেয়।

আপনাদের সৌদির এ পররাষ্ট্রনীতি বুঝতে সমস্যা হচ্ছে কী? একটু চোখ কান খুলুন সব অনুধাবন করতে পারবেন। সৌদি মিসরে গিয়েছিল সিসির আমন্ত্রণে। সিসির সাথে সৌদি বাদশার সম্পর্ক দেখে মুরসি প্রেমীরা হতাশ হয়ে পড়েছিল। ইরান এ বিষয়টিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছিল সৌদির প্রতি ইসলামিস্টদের বিশ্বাস উঠিয়ে নেবার জন্য। কিন্তু সৌদি মিসরে গিয়ে সিসির আতিথেয়তায় মূলত মুরসির যেন কিছু না হয় সে চাপ দিতে গিয়েছিল। যার প্রমাণ পেলাম সৌদির সবচে ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের নেতৃত্বে ওআইসির সম্মেলনে সিসির আমন্ত্রণ না পাওয়া। বা যোগ না দেয়া। সৌদি ও তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতি এখন দারুণ কৌশলের।

এরপরও মানতে কষ্ট হচ্ছে? হাসিনা সৌদি সফর থেকে ফিরে যে কথাগুলো বলছে সে কথাগুলো কী গত ৮ বছরে একবারের জন্যও উচ্চারণ করেছিল? হাসিনার কথা শুনে মনে হচ্ছে তিনি ফ্রুটিকা খেয়ে এসেছেন। হাসিনা নিজেই স্বীকার করলেন যে, যতগুলো গুপ্তহত্যা হচ্ছে তার সব হত্যার খুনীর সম্পর্কে তিনি অবগত কারণ তিনি হেড অব দ্যা গভর্নমেন্ট। তাহলে কেন একজন খুনীও আজ পর্যন্ত গ্রেফতার হলো না? বা জনসম্মুখে সেসব খুনীদের কেন আনা হলো না? তারমানে যারা হত্যা করছে তারা হাসিনার আঁচলে আশ্রিত? এরকম একটি সত্য দায় স্বীকার কিভাবে হাসিনা পরোক্ষভাবে হলেও করলো ভেবে দেখুন।

তারপর তিনি বললেন, আমি নির্বাচনে বিশ্বাস করি। শিগগিরই নির্বাচন দিব। জনগণ তাদের রায় দিবে। হঠাৎ এ কথা বলার অর্থ কী?

আবার দেখুন, যে মাল সাহেব হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে যাওয়াকে সামান্য চুরি বলেন তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে স্বীকার করলেন এ সরকারের আমলে সাগরচুরি হয়েছে।

হঠাৎ করেই এ সরকার যেন সত্য কথা বলা শুরু করেছে। কুত্তার লেজতো আর সোজা হয় না। তাই একশোটা কথার মধ্যে মাঝেমধ্যে এক আধটা সত্য বলে ফেলে হাসিনার আওয়ামীলীগ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সৌদি আরব সফরে গিয়ে দেশটির সঙ্গে সম্পর্কের নতুন ভিত্তি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন দেশটির বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। বাদশাহ’র সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছে, যা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
কিন্তু এসব কথার বাইরেও যে চুক্তি মেনে এসেছে সেটা জনগণর সামনে প্রকাশ করলে তার অবস্থাতো বাপের মতোই হবে।

সমকালীন রাজনীতির যে চিত্র প্রতিভাসিত হচ্ছে তাতে ধরে নেয়াই যায় যে, শিগগিরই নির্বাচন দিবে হাসিনা। তার আরেকটা নমুনা হলো নির্বাচন এলেই হাসিনা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধোকা দিতে সৌদি আরবে যায়। মাথায় পট্টি পরে হাজির হয়। সৌদিতে হাসিনার সফর মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রথম পদক্ষেপ। এক্সিটের মধ্যস্থতাকারী তৃতীয় পক্ষ হতে যাচ্ছে সৌদি। কারণ হাসিনা লীগের আকাশচুম্বি অপশাসনের কারণে হাসিনার এক্সিট রুট বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই এক্সিটের জন্য এতোদিন ভারত ও পশ্চিমাদের ধর্ণা দিলেও সৌদিকেই নিরাপদ মনে করছে বামলীগ। হাসিনার ধারণা সৌদির সাথে যেহেতু বিএনপির তথা জিয়া পরিবারের গভীর সখ্যতা রয়েছে, সাথে জামায়াতেরও ঘনিষ্ঠ সখ্যতা রয়েছে সেহেতু সৌদির মধ্যস্থতায় এক্সিট হলে বিএনপি- জামায়াতের হাত থেকে বামলীগ কিছু্টা হলেও রক্ষা পাবে। আর এ কারণেই সৌদির কাছে ধর্ণা দিয়েছে হাসিনা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY