সৌদি আরবের সাথে জিয়া পরিবারের সুসম্পর্কের বিপরীতে হাসিনার মিথ্যাচার

সৌদি আরবের সাথে জিয়া পরিবারের সুসম্পর্কের বিপরীতে হাসিনার মিথ্যাচার

2432
0
SHARE

বাংলাদেশের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র কাবা শরীফসহ মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা দিতে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সৈনিকদের সৌদিতে পাঠাবে বলে মন্ত্রীসভার বৈঠকে তার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। এমন এক সময়  হাসিনা এ সিদ্ধান্তের কথা জানালেন যখন তার নিজের দেশে একের পর এক গুপ্তহত্যার ঘটনা ঘটেই চলেছে। যে গুপ্তহত্যা থেকে রেহাই পাচ্ছে না মন্দিরের পুরোহিত, মসজিদের মোয়াজ্জিন ও কূটনৈতিক ব্যক্তি থেকে শুরু করে এসপির স্ত্রী পর্যন্ত। একটার পর একটা হত্যাকাণ্ডে দেশটা মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। রক্ত আর লাশের মিছিলে ছেয়ে গেছে বাংলাদেশের জনপদ। স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টিতো দূরের কথা মানুষ এখন শুধু মরার পর লাশটা দাফনের জন্য পেতে চায়। নির্মল সেনের কলম থেমে না গেলে তিনি আজকের হাসিনার অপশাসন দেখলে কী উক্তি যে করতেন তা সহজেই বোধগম্য।

আসলে হাসিনাকে দেখলে হিটলার ও ইবলিশ শয়তানও লজ্জা পায়। হাসিনা শয়তানীতে নোবেল পাওয়ার এক       চমৎকার কাহিনী।
আমি সেসব পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলছি, আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইও নামাযে রাসূল (সাঃ) এর একদম পিছনে দাঁড়াতেন। তিনি যুদ্ধেও গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ছিলেন মুনাফিক। যিনি কাফেরদের সাথে থাকলে বলতেন আমিতো তোমাদের সাথেই রয়েছি মুসলমানদের সাথে শুধু মস্কারা করছি আর মুসলমানদের কাছে থাকলে বলতো আমিতো তোমাদের দলেই রয়েছি।

হাসিনা যখনই রাজনৈতিকভাবে মহাসঙ্কটে নিপতিত হয় তখনই ধর্মকে উপজীব্য করে রাজনীতি শুরু করে। ৯৬ সালে হ্জ্জ করে এসে মাথায় পট্টি দিয়ে মানুষকে ধোকা দিয়ে নির্বাচনে জিতেছিল। এবারও যখন দেশি বিদেশি চাপে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে বাধ্য হচ্ছে তখনই ওমরাহ হজ্জ করে মাথায় পট্টি দিয়ে জনগণের সামনে হাজির হয়েছে। হাসিনার হজ্জ আর ইনু, মেনননের মতো নাস্তিকদের হজ্জ একইসূত্রে গাঁথা।

হাসিনা এখন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে নির্বাচনে জিততে সৌদির নিরাপত্তা দেয়ার ধুয়া তুলেছে। মক্কা শরীফের নিরাপত্তা স্বয়ং আল্লাহ দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন। সেখানে হাসিনার এসব স্টান্ডবাজি ছাড়া আর কিছু নয়। আর হাসিনার দেশেই লাশের মিছিল, রক্তের সাগর আর কোটি কোটি মানুষ নিরাপত্তাহীন রাস্তা থেকে বেডরুম সর্বত্র সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা দিবে মক্কা মদিনার? তাহলে সানি লিওনতো কুমারী দাবি করতে পারে।

যে হাসিনা তার ক্ষমতা গ্রহণের ৮ বছরেও একবার সৌদির সাথে বৈঠকে বসেনি। যে হাসিনা মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সর্বোচ্চ সংস্থা ওআইসির সম্মেলনে যোগ দেয়নি, যে হাসিনা সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর পূর্ন আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দিয়ে ধর্মনিরেপক্ষ বা নাস্তিক্যবাদ বসিয়েছে, যে হাসিনা সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে, আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ) এর অবমাননাকারীদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলনরত নিরিহ হেফাজতকর্মীদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে, যে হাসিনা পাঠ্যপুস্তক থেকে ইসলামি শিক্ষা বাতিল করে হিন্দু ও নাস্তিক্যবাদী শিক্ষা চালু করেছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি বানিয়েছে একজন হিন্দুকে, প্রশাসন ব্যাংক, শিক্ষা, স্বাস্থ থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে হিন্দু অথবা নাস্তিকদের বসিয়েছে, মাদ্রাসা শিক্ষাকে বন্ধে যার সন্তান মিশন চালাচ্ছে, প্রকাশ্যে কোরআন পুড়িয়েছে যুবলীগ, পররাষ্ট্রনীতিতে ভারত ও রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক বাড়িয়ে সকল মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে চলেছে, প্রকাশনা ও গণমাধ্যমের দ্বারা নাস্তিক্যবাদী প্রচারণা চালিয়েছে, যে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ইসলাম অবমাননার নিকৃষ্ট কাজ করেছে, হজ্জ ও নবীকে নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছে, নাস্তিকদের দেশপ্রেমিক ঘোষণা দিয়েছে, বিচারিক আদালতের মাধ্যমে আলেমদের হত্যা করেছে— সে হাসিনা হঠাৎ করে ওমরাহ করতে গেলেন মাথায় পট্টি বেঁধে। সৌদির সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধিতে হঠাৎ করেই এতো তৎপরতা কেন? যিনি নিজের দেশের একজন এসপির পরিবারের নিরাপত্তা দিতে অক্ষম সেদেশের প্রধান হয়ে কিভাবে মক্কা মদিনার নিরাপত্তার কথা বলেন তিনি? কেন বলেন? মুনাফিক আব্দুল্লাহ বিন উবাই যেমনটি করতেন হাসিনা তাই করছেন।

হাসিনা জনগণকে ভুলিয়ে দিতে চাইছে তার সরকার ধর্মপ্রাণ হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা করেছে। হাসিনা ভুরিয়ে দিতে চাইছে দেশের শীর্ষ আলেমদের উপর হত্যা ও নির্যাতন চালিয়েছে। হাসিনা ভুলিয়ে দিতে চাইছে সংবিধান থেকে ইসলামকে তুলে দিয়ে নাস্তিক্যবাদকে চালু করেছে। হাসিনা ভুলিয়ে দিতে চাইছে যে হাসিনার মূল মিশন বাংলাদেশ থেকে ইসলাম ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে ধ্বংস করে দেয়া। হাসিনা ভুলিয়ে দিতে চাইছে বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ ও ইসলামি দলগুলোর উপর যে স্টিম রোলার চালিয়েছে। হাসিনা মক্কা মদিনার নিরাপত্তা কী দিবে তিনিতো বাংলাদেশে মুসলামনিত্বটুকু টিকিয়ে রাখতে দিচ্ছেন না। এই হাসিনা সেই হাসিনা যিনি কুকুর মাথায় টুপি আর জুতা পায়ে মসজিদে পুলিশকে পাঠিয়েছিল।

সর্বোপরী হাসিনা চাইছে সৌদির বাদশা পরিবারের সাথে জিয়া পরিবারের যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সেটার বিপরীতে তার ঘনিষ্ঠতার মিথ্যা কাহিনী প্রচার করতে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY