চাঁদাবাজির খবর প্রকাশের জেরে সাংবাদিক পেটালো ছাত্রলীগ

চাঁদাবাজির খবর প্রকাশের জেরে সাংবাদিক পেটালো ছাত্রলীগ

117
0
SHARE

চাঁদাবাজির খবর প্রকাশ করায় একটি জাতীয় দৈনিকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে বেধড়ক পিটিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দাশ ও তার অনুসারীরা। মারধরের সময় তারা অন্যান্য সাংবাদিকদেরও প্রাণ নাশের হুমকিও দিয়েছেন।

সোমবার (২০ জুন) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটে এই মারপিটের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে দৈনিক যুগান্তরের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাহসাব রনিকে গালিগালাজ করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে তাকে পেটাতে শুরু করেন। এতে রনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেখান থেকে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে হামলাকারীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রেক্ষিতে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি নং: ১৩৩৯) করেন মাহসাব রনি।

জিডিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দাশ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান,  মোল্লা আল মামুন,  সহ-সভাপতি শামীম আহমেদ,  গৌতম রায়(সাধারণ সম্পাদক, নবাব সিরাজ উদ-দৌলা হল ছাত্রলীগ)সহ অজ্ঞাত আরো ৬/৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়,  সাধারণ শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা তোলার জন্য গণস্বাক্ষর জাল করেন শেকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দাশের তিনজন অনুসারী। আর এ ঘটনার খবর বাংলানিউজ এবং দৈনিক যুগান্তর ও দৈনিক সমকালসহ বেশ কয়েকটি দৈনিকে প্রকাশিত হয়। এই খবরের জের ধরেই ওই পিটুনির ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসাইন বলেন,  আমরা ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। অবশ্যই আমরা অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাপারটি আমরা শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেব।

গত ৩০ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের ছাত্রলীগ সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বাবুর চিকিৎসায় সাহায্য চেয়ে উপাচার্য বরাবর আবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের তিন অনুসারী। আবেদনপত্রের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী তাদের বৃত্তির ১২০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা সাহায্য দিতে সম্মত হয়েছেন উল্লেখ করে গণস্বাক্ষর সম্বলিত একটি তালিকা দেয়া হয়।

স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাইয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুক গত ৪ জুন একটি বিজ্ঞপ্তি দেন। সেখানে স্বাক্ষরকারী শিক্ষার্থীদের নাম উল্লেখ করে তাদের সম্মতি দেওয়ার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এতেই ফাঁস হয় জালিয়াতির বিষয়টি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY