আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরেই কি লুকিয়ে জঙ্গিবাদের পরিকল্পনাকারীর !!!

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরেই কি লুকিয়ে জঙ্গিবাদের পরিকল্পনাকারীর !!!

91
0
SHARE

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘আমার মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে, সেটি হচ্ছে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত যে সাজানো ঘটনা, এটি কী তাহলে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর ভিতরেই কী লুকিয়ে আছে এমন কেউ, যারা জঙ্গিবাদের আশ্রয়দাতা, প্রশ্রয়দাতা, যারা চায় না সরকারের এই জঙ্গি নির্মূল বিরোধী অভিযান সফল হোক, যারা চায় সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং জঙ্গিবাদের পরিকল্পনাকারীদের মুখোশ যাতে উন্মোচিত না হয়, সে জন্যই কী ফাহিমকে হত্যা করা হলো? এই আশঙ্কাটি কিন্তু এখন আমাদের মনে উদিত হয়েছে।

মঙ্গলবার আমাদের সময় ডটকমকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেন। ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটছে, সেসব কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। অতি গুরুত্বসহকারের এসবকে বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে। কারা নির্দেশদাতা, কারা এর পেছনে রয়েছে, তাদেরকে জবাদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা খুব জরুরি বলে আমরা মনে করি।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় হেফাজতে যখন কোনো ব্যক্তি থাকেন, তার যদি অনাকাক্সিক্ষতভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে তাহলে তার দায় রাষ্ট্রের ওপরই বর্তায়। সেদিক থেকে একদমই ঠিক আছে। কারণ রাষ্ট্র এ ধরনের মৃত্যুর দায় কোনোভাবে এড়াতে পারে না। তবে আমরা যদি একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করি, সরকারের নীতিনির্ধারক যারা তারা নিশ্চয়ই চান না, যে জঙ্গিকে ধরে জঙ্গিবাদকে নির্মূল করে দিব, তাকে আমরা নির্মূল করে দিই।’

মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে গাপটি মেরে বসে থাকা হয়তো কেউ রয়েছেন, যারা জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং যারা নিজের হাতে আইন তুলে নিয়ে এই অপকর্মটি করেছেন সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য। এই জায়গাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেই আমি মনে করি। এখন কারা এই গাপটি মেরে বসে থাকা মানুষ তা তো আমি বলতে পারব না। সেটা তদন্তের বিষয়। আমি যা বলতে পারি, বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনাগুলোকে যেন সরকার কোনোভাবেই খাটো করে না দেখে। এসবের পুঙখানুপুঙ্খ বিচার হওয়া দরকার। তদন্ত হওয়ার দরকার। শুধুমাত্র তখনই এসব বন্দুক যুদ্ধের প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে সক্ষম হবো। কেননা, আমরা যে আশঙ্কা করছি, সেই আশঙ্কা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে তা সরকারের জন্য অতিব দুচিন্তার কারণ হওয়ার কথা।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় এখনো যায়নি উল্লেখ করে বলেন, তবে মুক্তচিন্তক, প্রকাশক, হিন্দু, বৌদ্ধ, বিদেশি, ইসলামি চিন্তাবিদ এমনকি পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী হত্যার মতো যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তার পরপর সরকার বা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে ধরনের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করেছিলাম, আশানুরূপ প্রতিক্রিয়া আমরা তাদের কাছ থেকে পাইনি। তাৎক্ষনিকভাবে যদি হত্যাকারীদের ধরবার জন্য, শনাক্ত করার জন্য, বিচারে সোপর্দ করার জন্য যদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতো, তাহলে হয়তো আমরা আজকের এই পরিস্থিতিতে উপনিত হতাম না। এটা কিন্তু সত্য। বরং তার উল্টোটা আমরা দেখেছি রাষ্ট্রের কাছ থেকে। ব্লগারদের যখন নিহত হয়, কুপিয়ে হত্যা করা হয় তখন আমরা দেখেছিÑ রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তারা এমন কিছু বক্তব্য দিয়েছেন, যা প্রকারান্তরে হত্যাকারীদের উৎসাহিত করেছে। যারা প্রগতিশীল সমাজব্যবস্থা, মুক্তচিন্তার ধারক-বাহক তাদেরকে কোনঠাসা করে ফেলেছে। এরকম আচরণ কিন্তু আমরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে আশা করিনি। আমরা চেয়েছিলাম, যারা জঘন্যতম ফৌজদারি অপরাধ করেছে, তাদের শনাক্ত করে বিচারে সোপর্দ করা হবে। এর মাধ্যমে জঙ্গিবাদীদের যে শক্ত বার্তাটা দেওয়াটা সম্ভব ছিল, সেই সুযোগটি কিন্তু আমরা হাতছাড়া করে ফেলেছি।’

তিনি বলেন, ‘সাঁড়াশি অভিযানে হাজারও মানুষকে গ্রেপ্তার পুলিশের ক্ষমতার অতি অপব্যবহার। অন্যদিকে পুলিশের দক্ষতার যে সংকট রয়েছে, তাদের অনেকেই যে অদক্ষ, তাদের যে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দরকার সেই জায়গাটিই আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। কারণ ১৯৯৪ জন যাদের আপনি মনে করছেন তারা জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত, যদিও এখনো তা প্রমাণিত হয়নি, এটা প্রমাণ সাপেক্ষ। কিন্তু আমি যদি ধরেও নিই, ১৯৯৪ জনই জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদেরকে ধরতে গিয়ে যদি আপনাকে ১৩ হাজার মানুষকে আটক করতে হয়, সঙ্গত কারণেই আপনার যোগ্যতা, দক্ষতা, পারদর্শীতাকে নিয়ে বোধ হয় আমরা প্রশ্ন করতেই পারি। কেননা, এমন আচরণ মানবাধিকারের লঙ্ঘন, এটা মানুষের হয়রানি। এরকম কর্মকা- করলে শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সাংঘাতিকভাবে ক্ষুন্ন হয় বলে আমি মনে করি।’

মিজানুর রহমান আরো বলেন, ‘কলেজ শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা করতে গেলে এক জঙ্গিকে জনগণ হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোর্প করে। পুলিশ তাকে রিমান্ডেও নেয়। আমরা ভেবেছিলাম, এখন তার কাছ থেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া যাবে। এই তথ্যের মাধ্যমে কারা জঙ্গিবাদ, গুপ্তহত্যার সঙ্গে জড়িত, কার এসব সমর্থন করছে, কারা পরিকল্পনা করছে, কে তাদের অর্থ যোগানদাতা, কারা ষড়যন্ত্রকারীÑ এসবের সূত্র ধরে আমরা জঙ্গিবাদের মূল হোতাদের বের করতে সক্ষম হবো। এবং এসব নির্মূল করাও সম্ভব হবে। কিন্তু দেখা গেল যার কাছ থেকে তথ্যগুলো সংগ্রহ করতে পারব, বন্দুকযুদ্ধের মাধ্যমে তাকেই বিদায় করে দেওয়া হলো। ফলে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ক্ষেত্রে, অভিযানের ক্ষেত্রে সফলতার মুহূর্তে যখন আমরা উপনিত, সেইসময় বড় একটি ধাক্কা খেল এই অভিযান, এই মৃত্যুর ফলে।’

নোট : জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের পুরো সাক্ষাতকারটি পড়–ন আগামীকাল বুধবার দৈনিক আমাদের অর্থনীতিতে।

উৎসঃ   আমাদের সময়

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY