ছাতকের সিংচাপইড় ইউনিয়নের ২ মেম্বার পিটানোকে কেন্দ্র করে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সাহেলের বিরুদ্ধে...

ছাতকের সিংচাপইড় ইউনিয়নের ২ মেম্বার পিটানোকে কেন্দ্র করে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সাহেলের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে ইউনিয়নবাসী

4034
0
SHARE

ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সাহেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এলাকায় সন্ত্রাসের রাজ্য কায়েম করেছে। সাহেল সন্ত্রাস ভীতিতে আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে ইউনিয়নবাসী।

গত ২রা জুলাই রোববার সিংচাপইড় ইউনিয়নের ছাতকের ২ মেম্বার করম আলী ও আজিবুর রহমান শান্তকে সিংচাপইড়ের চেয়ারম্যান কর্তৃক পিটানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সহিংস ঘটনার জন্য চেয়ারম্যান সাহেল ও তার সন্ত্রাসবাহিনী তথা কামাল গ্রুপ সমর্থকদের দায়ী করছেন এলাকার লোকজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিংচাপইর ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানান, ছাতক আওয়ামীলীগের নেতা পৌরমেয়র আবুল কালামের অন্যতম সন্ত্রাসী সাহাব উদ্দিন সাহেল যার বিরুদ্ধে এখনো একাধিক মামলা রুজু রয়েছে তার সরাসরি ইন্ধনে এ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকার নিরীহ লোকজন আতঙ্কে দিন অতিবাহিত করছে এবং চেয়ারম্যান সাহেলের নির্যাতনের শিকার হয়ে অধিকাংশ এলাকাবাসীই তার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে।

ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মোহাম্মেদ সাহেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।  শান্তিপ্রিয় এলাকায় এখন সন্ত্রাস সাহেল ভীতির আতংক সৃষ্টি হয়েছে। সাহেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই নিরীহ মানুষের উপর অত্যাচারের ষ্টিমরোলার জারি করেছে। নির্বাচনের মাত্র দুদিন পরেই পার্শবর্তী ইউনিয়ন খুরমা গ্রামের মতব মাষ্টারের ছেলে সুহেলকে তার বাড়িতে ডেকে এনে অতর্কিতভাবে বেঁধে রেখে মারধর করে। এরপর নিজ গ্রামের এক মুছল্লীকে মসজিদে হেনস্থা করে এবং মসজিদের পাশে ফাঁকা গুলি করে গ্রামবাসীর মনে ভীতি সঞ্চার করে। একের পর এক গ্রামের নিরীহ মানুষের বাড়িতে হামলা করে নিজ গ্রাম ও পার্শবর্তী গ্রামগুলোতে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এমন কি একজন নিরীহ মহিলা তার হার্টের অসুখের জন্য তার কাছে সাহায্য চাইলে সে তার লোকজনকে অর্ডার দেয় লোহার হাতুড়ি দিয়ে তার বুক পরীক্ষা করে দেখার জন্য। এভাবে দিনের পর  দিন নিরীহ মানুষকে ভয় ভীতি দেখানো কিংবা নির্যাতন করা হয়েছে তার নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। তার বড় ভাই রাসেল এবং তার চাচা আজিজুর রহমানের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা এলাকার গাড়ি চালক রিকশা চালক সহ দিনমজুরেরা। কর্ম করিয়ে মজুরি না দিয়ে লাতি কিং লাঠি মেরে বিদায় করা হচ্ছে তাদের পেশা।

চেয়ারম্যানের চাচা আজিজুর রহমান একজন দাগি ও সাজা প্রাপ্ত খুনের আসামি। খুনের দায়ে দণ্ড সাজা নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে সে। কিন্তু প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। বিদেশে পাঠাবার নামে এলাকার অগণিত লোকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সিলেট থেকে পালিয়ে গ্রামে এসে সন্ত্রাসের রাজ্য কায়েম করতে ভাতিজা সাহেলের সাথে জোটবদ্ধ হয়েছেন তিনি।

বিগত মাসে খুরমা গ্রামের আব্দুল খালিকের বন্দোবস্থের জায়গা দখল নিতে সাহেল তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মরজা গ্রামে যায়, কিন্তু আব্দুল খালিক ও তার সহযোগীরা লাঠিসোটা নিয়ে এগিয়ে এসে সাহেলকে তাড়া করলে সাহেল পালিয়ে যায়। কিন্তু পরের দিন আব্দুল খালিকের গাছের ট্রাক গহরপুর গ্রামের পাশে দিয়ে যাবার পথে তার ট্রাককে জুর পূর্বক আটক করে সাহেলের সন্ত্রাসীবাহিনী। এ ব্যাপারে আব্দুল খালিক ছাতক থানায় জিডি করলে সাহেলের সহযোগী দুজন সন্ত্রাসীকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

গত ২রা জুলাই রোববার সিংচাপইড় ইউনিয়নের ছাতকের ২ মেম্বার করম আলী ও আজিবুর রহমান শান্তকে সিংচাপইড়ের চেয়ারম্যান কর্তৃক পিটানোর ঘটনা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে  ঘটে। ভিজিএফ’র চাল বিতরণকে কেন্দ্র ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিংচাপইড় ইউপির ২নং ওয়ার্ড সদস্য আজিবুর রহমান শান্ত, ৫নং ওয়ার্ড সদস্য করম আলী ও ৮নং ওয়ার্ড সদস্য মাসুক মিয়ার চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সাহেলের সাথে সমন্বয় না থাকায় রোববার ভিজিএফের চাল ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য সফিকা খাতুনের তত্বাবধানে বিতরনের উদ্যোগ নেন। এতে ২, ৫ ও ৮নং ওয়ার্ড সদস্য বাঁধা দিয়ে বিষয়টি ইউএনওকে জানালে তিনি চেয়ারম্যানসহ ৩ সদস্যকে রাত ৮টায় বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্যে তার কার্যালয়ে ডেকে আনেন। এখানে চেয়ারম্যান আসার পর ইউপি সদস্যদের সাথে অশালীন আচরন শুরু করেন এবং তাদেরকে অফিস থেকে বের করে দেন। এ সময় অফিসের বাহিরে ওঁৎ পেতে থাকা দূর্বৃত্তরা ৩ সদস্যের উপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্যে ইউএনও ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। পুলিশ এসে আহত ৩ ইউপি সদস্যকে উদ্ধার করে এবং ইউএনওর গাড়িতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করে। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য মাসুক মিয়া জানান, অংশ মোতাবেক ভিজিএফ কার্ড না দেয়ায় চাল বিতরনে বাঁধা দিয়েছি। পরে ইউএনও কার্যালয়ে নিষ্পত্তির জন্যে গেলে চেয়ারম্যান তার দলবল নিয়ে হামলা করে আমরা ৩ সদস্যকেই গুরুতর আহত করেছে। জানা গেছে, নির্বাচনের পর থেকেই চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিরোধ চলে আসছে। সংরক্ষিত আসনের সদস্য সফিকা খাতুন বলেন, চেয়ারম্যানের সাথে মেম্বারদের সুসম্পর্ক না থাকায় ৭, ৮ ও ৯ ওয়ার্ডের ভিজিএফের চাল ইউনিয়নের পরগনা বাজারে বিতরনের সময় ৭ ও ৯নং ওয়ার্ডের চাল বিতরন করলেও ইউপি সদস্য মাসুক মিয়ার বাঁধার মূখে ৮নং ওয়ার্ডের চাল বিতরন করা যায়নি। এসময় সদস্য মাসুক মিয়ার হামলায় ভিজিএফ কমিটির সভাপতি বাবুল মিয়া, সদস্য দেলোয়ার হোসেন, নুর মিয়া, কদরিছ আলী ও তার স্বামী সামছুল হক আহত হন। এসময় সদস্য মাসুক মিয়ার লোকজন মাষ্টাররোলের কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। বিষয়টি জানাতে তিনি ইউএনও কার্যালয়ে পৌছলে ৩ ইউপি সদস্যের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান। ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সাহেলকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে থানার অফিসার্স ইনচার্জ আশেক সুজা মামুন জানান, আহত ইউপি সদস্যদের পুলিশী নিরাপত্তায় গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত পৌছে দেন এবং এখন পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিষয়টি তিনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলে জানান।

ঘটনার জের ধরে মেম্বারের এলাকার লোকজন চরম ক্ষিপ্ত হয়ে খাসগাঁও বাজারে সাহেলের চাচা কাঁচা মিয়ার উপর হামলা করেছে বলে জানা গেছে। আহত অবস্থায় কাঁচা মিয়াকে কৈতক হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। উক্ত গ্রামের লোকজন সাহেলকে এলাকায় অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন সময় ঘটে যেতে পারে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। খাসগাঁও সহ নদীর ওপারের সকল লোকজন সাহেলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে, তারা যেকোনো মূল্যে সন্ত্রাসী সাহেলকে প্রতিরোধ করতে বদ্ধপরিকর।

উল্যেখ ছাতক পৌরমেয়র কালামের ছত্রছায়ায় থাকা ছাতকের অন্যতম সন্ত্রাসী নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সাহেলের অত্যাচারে এলাকাবাসী এখন চরম অতিষ্ট। এলাকার লোকজন সন্ত্রাসী সাহেলের হাত থেকে মুক্তি চায়। সিংচাপইড় ইউনিয়নেই জনগণ চায় প্রশাসন যেন কালবিলম্ভে তদন্ত করে যথাযত ব্যবস্থা নিয়ে ইউনিয়নবাসীর মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে। তারা তাদের শান্ত ইউনিয়নে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চায় না।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY