সেবিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

সেবিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

59
0
SHARE

বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর (আরডিএ) সহকারী প্রকৌশলী আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে একই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা কেন্দ্রের সেবিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই সেবিকা বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন ( যার নং-১২২)। মামলায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর প্রকৌশল শাখার সহকারী প্রকৌশলী আবুল কাশেম (৪৫) ও উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মহিউদ্দিনকে (৪৬) অভিযুক্ত করা হয়েছে। আদালতে মামলা করায় ভুক্তভোগী ওই সেবিকা এবং তার ভাই প্রকৌশল শাখার কর্মকর্তা শাহীনুর রহমানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের হাটগাড়ি নতুনপাড়া গ্রামের নুরুন্নবী সেখের মেয়ে ছাবিনা (ছদ্মনাম) বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর চিকিৎসা কেন্দ্রে সেবিকা হিসেবে চাকরি করছেন। তার ভাই শাহীনুর রহমান প্রকৌশল শাখায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে চাকরি করেন। আরডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী কাশেম চিকিৎসা কেন্দ্রের ওই সেবিকাকে নানাভাবে উত্যক্ত করে আসছিলেন। একইসঙ্গে মুঠোফোনে ওই সেবিকাকে আপত্তিকর প্রস্তাবও দেন। তবে মান সম্মানের কথা চিন্তা করে তিনি বিষয়টি গোপন রাখেন। এতে এই প্রকৌশলী আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে গত ৬ এপ্রিল শরীরের প্রেসার মাপার অজুহাতে প্রকৌশলী কাশেম চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন এবং ওই সেবিকাকে কু-প্রস্তাব দেন। এতে অস্বীকৃতি জানানোর সঙ্গে সঙ্গে ওই প্রকৌশলী তাকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান।
ভুক্তভোগী ওই সেবিকা অভিযোগ করেন, “পরে ঘটনাটি লিখিতভাবে একাডেমীর কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানাই। এতে কাশেম আরও ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযোগটি প্রত্যাহার করার জন্য নানাভাবে হুমকি দেন। কিন্তু রাজী না হওয়ায় গত ৫জুন চিকিৎসা কেন্দ্রে এসে আবুল কাশেম আবারও শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালান। আর মহিউদ্দিন মুঠোফোনে তা ভিডিও করেন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে ওই নগ্ন ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান।” পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে ওই সেবিকা ও তার ভাইকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পল্লী উ্ন্নয়ন একাডেমীর কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল ফকির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা বৈঠক ডাকা হয়। সেই বৈঠকে প্রকৌশলী কাশেম নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চান। কিন্তু হঠাৎ করে বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এমনকি তা সংঘর্ষে রূপ নেয়ায় সমঝোতার উদ্যোগটি ভণ্ডুল হয়ে যায়।
অভিযুক্ত বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর প্রকৌশল শাখার সহকারি প্রকৌশলী আবুল কাশেম তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। একটি কুচক্রী মহল তার সম্মানহানি করার জন্য এই নাটক সাজিয়েছে।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY