ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ কলেজের সাবেক নেতৃবৃন্দের কাছে সাবেক ছাত্রদল নেতা মুজিবুর রহমান এর...

ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ কলেজের সাবেক নেতৃবৃন্দের কাছে সাবেক ছাত্রদল নেতা মুজিবুর রহমান এর খোলা চিঠি

257
0
SHARE
মুজিবুর রহমান নিজেকে গোবিন্দগঞ্জ কলেজ ছাত্রদলের প্রতিষ্টাতা আহবায়ক দাবি করে প্রাক্তন নেতাকর্মীদের উদ্যেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। তিনি চিঠিতে যা লিখেছেন পাঠকদের সুবিদার্থে তা তুলে ধরা হলো।
প্রিয় গোবিন্দগঞ্জ কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ ও আমার সহকর্মীবৃন্দকে জানাই সালাম আদাব ও শুভেচ্ছা। প্রিয় নেতৃবৃন্দ আমার জানামতে বিএনপির সহযোগি সংগঠনের মধ্যে ছাত্রদল হল বেগম জিয়ার ভ্যানগার্ড। আর আপনারা সবাই হলেন সহযোগি সংগঠনের অভিভাবক। আমি জানি রাজনীতির ময়দানে আপনারা অনেক যোগ্য ও পরিপক্ষ। গোবিন্দগঞ্জ কলেজ ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে আপনারা আমাকে সহযোগিতা করেছিলেন তাই আমি আপনাদেরকে নিয়েই গোবিন্দগঞ্জ কলেজ ও গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় ছাত্রদল প্রতিষ্টিত করতে সচেষ্ট হয়েছিলাম। এই কৃতিত্ব আমার একার নয় আপনাদের সকলের। আপনাদের রাজনৈতিক দক্ষতা ও সহযোগিতার জন্যেই আমরা বারবার বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম করেছি এবং গোবিন্দগঞ্জে ছাত্রদলের একটি শক্তিশালী ফ্লাটফর্ম তৈরী করতে সচেষ্ট হয়েছি।কিন্তু দু:খের বিষয় হলেও কথাটি সত্য যে, ইদানিং একটি স্বার্থান্বের্ষী মহল দিনের সিলেট বিভাগের মধ্যে ছাত্রদলের অন্যতম গাটি গোবিন্দগঞ্জ কলেজের ছাত্রদলের ঐতিহ্যবাহী ইতিহাসকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

আমি কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে গোবিন্দগঞ্জ কলেজ ছাত্রদলের প্রতিষ্টালগ্নের নেতৃত্ব নিয়ে আমার কিছু সহকর্মী সহ আমাদের পরবর্তী কিছু নেতৃবৃন্দ বক্তব্য ও মন্তব্য করে সামাজিক মাধ্যমকে বেশ উত্তপ্ত করে তুলেছেন। কিন্তু এই ছাত্রদলের ইতিহাসের সাথে আমাদের যাদের রক্ত শ্রম জড়িয়ে রয়েছে আমরা কি পারি সেই সত্য ইতিহাসকে বিকৃত হতে দিতে? না পারিনা ! তাই সামাজিক মাধ্যমে কিছু ভুল তথ্য দেখে আমার ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে যায়। বর্তমান ছাত্রদল নেতাকর্মীরা যাতে ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত না হয় তাই সত্য ও সঠিক তথ্য ইতিহাস তুলে ধরার প্রয়াস নিয়েই আপনাদের উদ্যেশে আমার আজকের এই খোলা চিঠি।

প্রিয় নেতৃবৃন্দ:
১৯৮৮ সালে আমি এসএসসি পাস করে গোবিন্দগঞ্জ কলেজে ভর্তি হই। তখনো গোবিন্দগঞ্জ কলেজে ছাত্রদলের কোন সংগঠন ছিলোনা। বলতে গেলে ছাত্রদল করার মত কোন পরিবেশও ছিলোনা। গোবিন্দগঞ্জ কলেজের রাজনীতি জিম্মি ছিল জাসদ ছাত্রলীগের তথা ১৫দলীয় ঐক্যের কাছে। তারা আমাকে বারবার দলে টানার চেষ্টা করেছে এমনকি হুমকি ধামকিও দিয়েছে। কিন্তু আমার মনে প্রাণে ছিল শহীদ জিয়ার আদর্শ জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভীত। তাই কলেজেই একদিন ছাত্রদল করার সিদ্ধান্ত নিলাম। তৎকালীন বিএনপির অন্যতম নেতা আশিকুর রহমান আশিক ভাইর পরামর্শ ও নির্দেশনায় একদিন আজিজ চাচার দোকানে আশিক ভাই, শিপলু ভাই, শহিদুল ভাই, ও ছাতকের ভূঁইয়া ভাই সহ আরো অনেকের উপস্থিতে গোবিন্দগঞ্জ কলেজের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আর আমি সেই কমিটির আহবায়কের দায়িত্ব পেয়েছিলাম। সেই থেকেই গোবিন্দগঞ্জ কলেজের ছাত্রদলের রাজনীতির শুরু এবং আমার রাজনীতির জীবনের হাতেখড়ি। একটি কথা আমি উল্যেখ করতে চাই যে আমি ছাত্রদলে যোগদান করিনাই, গোবিন্দগঞ্জ কলেজে ছাত্রদলের সাংগঠনিক যাত্রা আমার হাত দিয়ে হশুরু হয়, সেজন্য আমি আজও গর্ভবোধ করি।

প্রিয় নেতৃবৃন্দ:
অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি অতিক্রম করে শূন্যের কোটা থেকে শুরু করা ছাত্রদলকে তিলে তিলে গড়ে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলাম । সংগঠনকে বড় করার জন্য আমি এবং হেলাল (হেলাল ভাই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না তবে জাতীয়তাবাদী দলের অন্যতম একজন শুভাকাংখী ছিলেন এবং বন্দু হিসাবে আমাকে সহযোগিতা করেছিলেন } আমরা গ্রামে গ্রামে পাড়ায় মহল্লায় গিয়ে ছাত্রদের ছাত্রদলে যোগদান করিয়েছি। কিন্তু আজ যারা আমাকে সেই ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করচেন, আমার দুঃখ হয় তাদের এমন নির্বুদ্ধিতা দেখে। ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতে চলে। ইতিহাসকে চাইলেই কেউ এভাবে পালটে দিতে পারে না। যেখানে ১৫ দলীয় জোটের ছাত্র সংগঠনের ঘোষণা ছিল তাদের জোট ছাড়া অন্য কোন সংগঠন এই কলেজে রাজনীতি করতে পারবে না, সেখানে আপনাদেরকে নিয়েই আমি তাদের ঘোষিত চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করি এবং জীবন বাজি রেখে বাধা প্রতিবন্দকতার মুখে ছাত্রদল প্রতিষ্টিত করি।

১৫দল অঙ্গীকার করেছিল যেখানে শিবির সেখানেই প্রতিহত করা হবে। তাদের ঘোষণা মত মাঝে মধ্যে তারা ছাত্রশিবিরকে আক্রমণ করত। তেমনি একদিন তারা ছাত্রশিবির নেতাকর্মীকে ধরপাকড় শুরু করে, এবং ধারণ বাড়ি মাধবকে ধরে আটকে রাখে এবং তার উপর অমানবিক নির্যাতন করে । এদিকে গোয়াশপুরের মুহিত ভাই সহ তাদের অনেকই , এবং ছাত্রলীগের নেতা সুইত পুরের রেজা ভাই, লাল ভাই , জটির মনজুঃ ভাই সহ আরো অনেকের উপস্থিতিতে জাসদ নেতা সুইত পুরের বশর ভাই নিজাম উদ্দিন ভাসানীকে মমশর ভাইয়ের দোকানে টানা-হেচড়া করেন । আমি তাদের ভাসানীকে টানাহেঁচড়া করার কারণ জিজ্ঞাসা করি, কেন তাকে হেনস্থা করা হচ্ছে? তখন বশর ভাই বলেছিলেন এ শিবির করেএ একটা রাজাকার, আর আমি রাজাকারকে শায়েস্তা করছি। আমি তৎক্ষণাৎ যশোর ভাইকে বলেছিলাম, সে শিবিরের নয়, ছাত্রদলের নেতা। আমার সাহসী ভূমিকায় সেদিন ভাসানী রক্ষা পেয়েছিল। আর তখন থেকেই ভাসানী ছাত্রদল নেতা বলে পরিচিতি লাভ করে। এবং ছাত্রদলে ভাসানীর ভূমিকাও ছিল উল্যেখযোগ্য। এই ঘটনার পর বহিরাগত আরো চার পাঁচজন ছাত্র আমার কাছে এসে আশ্রয় চায় এবং আমি তাদেরকে তখনই ফ্রম পুরণ করিয়ে ছাত্রদলে যোগ দিতে আহবান করি এবং তারা আমার আহবানে সারা দিয়ে ছাত্রদলে যোগদান করে।

১৯৮৮ সালেরই ডিসেম্বরে আমি হংকং গিয়েছিলাম। জানুয়ারি মাসে আমি দেশে ফিরে শুনলাম আজাদ হোসেন মিঠুকে সভাপতি করে গোবিন্দগঞ্জ কলেজে ছাত্রদলের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারও সাপ্তা দুই এক পরে আশিক ভাইর আমন্ত্রণে ঢাকা ভার্সিটির গৌতম মিত্র আসেন গোবিন্দগঞ্জে। তাকে গোবিন্দগজ পয়েন্টে একটি সংবর্ধনা দেয়া হয়। সেই সংবর্ধনায় নেতৃত্বের চরম দায়হীনতার কারণে আশিক ভাই কমিটি পুনর্গঠন করেন এবং আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করেন।
(সহকর্মীদের শ্বরণ করে দিতে উল্যেখ করা প্রয়োজন, গৌতম মিত্রের সংবর্ধনা সভা শেষে মঞ্চ ভাঙার জন্য এবং মমশর ভাইর খাট ও আসবাবপত্র ফেরত দেয়ার কাউকে সেখানে খুঁজে পাওয়া যায়নি। যে কারণে নেতৃত্ব পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন আশিক ভাই এবং সাথে সাথে কমিটি করে আমাকে নেতৃত্বে আনেন। বিদেশ যাওয়ার কারণে মাত্র ৯ সাপ্তা আমি নেতৃত্বের বাহিরে ছিলাম )

আজ যারা ছাত্রদলের সিনিয়র নেতা বলে মুখে ফেনা তুলছেন, সেই সময়ে তাদের নেতৃত্ব কেমন ছিল তা তো আমি ভালো করেই জানি। তখন অনেকই নির্ধারিত সময়ে কলেজে আসতেন এবং ছুটি হলেই বাড়িতে চলে যেতেন। অথচ, আমি এবং আব্দুল হক আমাদের প্রাণপ্রিয় সংগঠন ছাত্রদলকে ঠিকিয়ে রাখতে সাধ্যাতীত চেষ্টা করেছি এবং মহান আল্লাহ তালার কৃপায় সংগঠনকে শক্তিশালী ভিত্তি দিতে সচেষ্ট হয়েছিলাম।

অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ১৯৯০ সালে আমরা গোবিন্দগঞ্জ কলেজে ছাত্রদলের একটি শক্তিশালী ভিত্তী তৈরি হয়। তখন এই ছাত্রদলের সাথে যাদের সবচে বেশি ভূমিকা ছিল আজ আমি তাদের নাম উল্লেখ না করলেই নয়, তারা হচ্ছেন ভিপি আলী নেওয়াজ, ওয়াতির আলী, নানু মিয়া, আতিক রহমান জিএস। এছাড়া ছাত্রদল না করেও যারা ছাত্রল গঠনে সহযোগিতা করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম গোবিন্দ নগরের সিরাজ ভাই, এবং বারের গাঁওয়ের আরজ ভাই।

প্রিয় নেতৃবৃন্দ:
কে আমার বিরুদ্ধে কিংবা কে আমার পক্ষের সেটাকে আমি আলাদা করে দেখছিনা, আমি শুধু দেখবো গোবিন্দগঞ্জ কলেজ ছাত্রদল প্রতিষ্টায় কার কি, কিংবা কতটুকু অবদান ছিল? তাদেড় গুনকীর্তন করতে আমি কোনভাবেই কুন্ঠাবোধ করবনা । যা সত্য তা চিরদিনই সত্য এবং সত্য বলাতে আমি কার্পণ্যও করব না। কারণ এই ইতিহাস ও ইতিহাসের সাক্ষ্য-প্রমান এখনও জীবন্ত। তাই যে কেউ মিথ্যা ও মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করলেই ইতিহাস বদলে যাবে না। বরং নিজেরাই ইতিহাসের কাছে মিথ্যাবাদী হিসাবে পরিচিতি লাভ করবে ।

অনেকের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিপরীতমুখী হলেও সেই অগ্নিঝরা দিনগুলোতে আমরা সবাই এক কাতারে ছিলাম। এখানে জাসদ ছাত্রলীগের আদিপত্যকে আমরা অত্যান্ত সাহসের সাথে মোকাবেলা করেছি । এরপর ১৯৯২তে আমি যেদিন সৌদিয়া চলে যাই সেদিন থেকেই গোবিন্দগঞ্জ কলেজ ছাত্রদলের উপর নেমে আসে ছাত্রলীগের আক্রমণ। ছাত্রলের নেতাকর্মীকে তারা বারবার আক্রমণ করে বিভিন্নভাবে হেনস্থা করেছে।

জাতীয় রাজনীতি অনেক সময় আপসের চোরাগলিতে প্রবেশ করলেও সেদিন ছাত্রদলই আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে বারবার। এখনও ছাত্র সংগঠনকে আগের মত শক্তিশালী ফ্লাটফর্মে তৈরি করতে পারলে দেশের এই দুর্যোগময় সময়ে বলিষ্ট ভূমিকা রাখতে পারতো এবং বাকশালী সরকারকে প্রতিহত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করত। কিন্তু বড় ভাইদের পছন্দ অপছন্দ কিংবা নিজের ছোট ভাইদের অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে ছাত্রদল আজ প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

প্রিয় নেতৃবৃন্দ:
আমার লেখার মাধ্যমে যদি কোন ভুল ত্র“টি থাকে তাহলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাইকে আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY