তুরস্কে গণঅভ্যুত্থানে ভেসে গেছে সামরিক অভ্যুত্থান

তুরস্কে গণঅভ্যুত্থানে ভেসে গেছে সামরিক অভ্যুত্থান

52
0
SHARE

তুরস্কে গত শুক্রবার রাতে সামরিক বাহিনীর একটি গ্রুপের এরদোগান সরকার উৎখাতে অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে ভেসে গেছে গুলেনিজপন্থীদের সামরিক অভ্যুত্থান। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতদের অধকাংশই বেসামরিক লোক। অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পর অধিকাংশ বিদ্রোহী সেনা সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত ও এরদোগান সরকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এদিকে অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়ে এরদোগান সরকারের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামাসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
তুর্কি টেলিভিশন এনটিভি শনিবার সকালে দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটির মুখপাত্রের বরাত দিয়ে অভ্যুত্থান নস্যাতের খবর দিয়েছে।
টেলিভিশনটি বলছে, ‘রাজধানী আঙ্কারায় অভ্যুত্থান চেষ্টার পক্ষে সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে সরকারি ফাইটার বিমান। সরকারি বাহিনী অভ্যুত্থানকারীদের হাত থেকে আঙ্কারার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা টিআরটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে।’
তুর্কি সরকারি সূত্র জানায়, অভ্যুত্থানে জড়িত এ পর্যন্ত উচ্চপদস্থ সেনাকর্মকর্তাসহ ২৮৩৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান শনিবার বলেছেন, সামরিক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের চড়া মূল্য দিতে হবে। ইস্তাম্বুল থেকে দেয়া সরাসরি ভাষণে এ কথা বলেছেন তিনি।
দেশের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, পরিস্থিতি এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং রাজধানী আঙ্কারার আকাশে বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এর আগে, রাষ্ট্রীয় একটি টেলিভিশন থেকে তুরস্কের সেনাবাহিনীর একটি অংশ দাবি করেছিল যে, তারা দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে’ সশস্ত্র বাহিনী তুরস্কের ক্ষমতা দখল করেছে বলে খবরে বলা হয়।
অভ্যুত্থানকারী সেনাদের বিবৃতিতে বলা হয়, এখন থেকে একটি ‘পিস কাউন্সিল’ দেশ পরিচালনা করবে। দেশে কারফিউ এবং মার্শাল ল’ জারি করা হয়েছে। রয়টার্স, সিএনএন, আলজাজিরা, গার্ডিয়ান, এএফপি।
জড়িতদের চড়া মূল্য দিতে হবে-এরদোগান
আতার্তুক বিমান বন্দরে প্রেসিডেন্ট এরদোগান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান গতকাল (শনিবার) বলেছেন, সামরিক অভ্যুত্থান  প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের চড়া মূল্য দিতে হবে। ইস্তাম্বুল থেকে দেয়া সরাসরি ভাষণে এ কথা বলেছেন তিনি।
তুর্কি সেনাবাহিনীর একটি অংশ অভ্যুত্থান  প্রচেষ্টার কয়েক ঘণ্টা পরে এরদোগানকে বহনকারী বিমান ইস্তাম্বুলের আতার্তুক আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করে। নামার আগে বিমানটি প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে ইস্তাম্বুলের আকাশে চক্কর দিয়েছে।
বিমানবন্দর থেকে দেয়া সরাসরি ভাষণে তিনি বলেন, যা ঘটেছে তা বিশ্বাসঘাতকতা এবং বিদ্রোহ। বিদ্রোহের জন্য তাদেরকে চড়া মূল্য দিতে হবে। তিনি তুরস্কের মানুষদের ছেড়ে কোথাও যাবেন না বলেও এ সময় জানান।
সেনাবাহিনীর ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠী এ অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা করেছে উল্লেখ করে এরদোগান বলেন, সামরিক বাহিনীতে শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে।
আত্মসমর্পণ
তুরস্কে অভ্যুত্থানের চেষ্টাকারী সেনাদের একটি অংশ ইস্তাম্বুলে আত্মসমর্পণ করেছে।শনিবার ইস্তাম্বুলের বসফরাস সেতুতে তারা আত্মসমর্পণ করেন।
শুক্রবার দিবাগত রাতে অভ্যুত্থানের চেষ্টার পর থেকেই রাতভর সেতুটিতে অবস্থান করছিলেন ওই সেনারা।বার্তা সংস্থা এফপি জানায়, সামরিক পোশাক পরা সেনাদের ট্যাংকের পেছনে দুই হাত ওপরে তুলে আত্মসমর্পণ করতে দেখা যায়।তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আন্দালু জানায়, ৫০ সেনা আত্মসমর্পণ করেছে।তুরস্কের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ছবিতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সমর্থকরা সেনাদের ফেলে যাওয়া একটি ট্যাংকের ওপর উঠে উল্লাস করছে। এ সময় ওই সমর্থকরা তুরস্কের পতাকা ওড়ায় এবং বিজয় চিহ্ন দেখায়। অনেকে আবার ব্রিজের এদিক ওদিকে ছুটে উল্লাস প্রকাশ করে। তুরস্কের টেলিভিশন চ্যানেলে জানানো হয়েছে, আংকারার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে শনিবার সকালে অভ্যুত্থানের চেষ্টাকারী সেনাদের লক্ষ্য করে বিমান থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। ওই এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।তুরস্কের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, দেশটির সামরিক বাহিনীর এফ-১৬ বিমান থেকে অভ্যুত্থানের চেষ্টাকারীদের লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে।তিনি আরো জানান, অভ্যুত্থানের চেষ্টায় ব্যবহার করা একটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করছিল, যা আংকারার গলবাসি এলাকায় ভূপাতিত করা হয়েছে।
অভ্যুত্থান প্রতিহত করতে রাজপথে জনতা
তুরস্কে সামরিক অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে প্রেসিডেন্ট তায়িব এরদোগানের ডাকে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার সমর্থক বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, পরিস্থিতি এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং রাজধানী আংকারার আকাশে বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সেনাদের পিটিয়ে পুলিশে দিলো
শেষ পর্যন্ত জনগণের প্রতিরোধের মুখে তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়ে যায়। দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর ট্যাংকের ওপর সাধারণ মানুষের দখল দেখা গেছে। এ ছাড়া ইস্তাম্বুলের সড়কে ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে সেনাসদস্যদের পোশাক, হেলমেটসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক দ্রব্য। কোথাও কোথাও সেনাদের পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সমর্থকরা।
শুক্রবার রাতে এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান অভ্যুত্থানে চেষ্টারত সেনাসদস্যদের প্রতিহত করতে জনগণকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান। তার ডাকে সাড়া দিয়ে শুক্রবার রাত থেকেই রাজপথে অবস্থান নেন তার সমর্থকরা। সেনাসদস্যদের ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইস্তাম্বুলের তাকসিম স্কয়ারে জাতীয় পতাকা হাতে জড়ো হন হাজারো সাধারণ মানুষ। তারা সেনাবাহিনী বিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। অনেকেই সেনাবাহিনীর ট্যাংকের ওপর উঠে বিক্ষোভ করেন। ইস্তাম্বুল ছাড়াও রাজধানী আঙ্কারাসহ অন্যান্য শহরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।সিএনএনের ফুটেজে দেখা যায়, ইস্তাম্বুলের বসফরাস সেতু এলাকায় সরকারি বাহিনীর কাছে হাত উঁচিয়ে আত্মসমর্পণ করছেন সেনাসদস্যরা। বিভিন্ন ট্যাংক থেকে বেরিয়ে সারিবদ্ধভাবে হেঁটে আত্মসমর্পণ করেন তারা।
এ ছাড়া ইস্তাম্বুলের বিভিন্ন স্থান থেকে সেনাসদস্যদের মারধর করে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় জনতা।এরদোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজপথে নেমে আসা সাধারণ মানুষকে সেনাবাহিনীর ট্যাংকের সামনেই নির্ভীকভাবে হেঁটে যেতে দেখা যায়। সেনাসদস্যদের ছোড়া ফাঁকা গুলির মুখেও তারা এগিয়ে যাচ্ছেন বলে সিএনএনের এক ভিডিওতে দেখা যায়।
ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান উমিত দুন্দার
সেনাবাহিনীর একাংশের অভ্যুত্থান চেষ্টার পর ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান নিয়োগ করেছে তুরস্ক। দেশটির জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।ওই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তুরস্কের স্থলবাহিনীর একটি অংশ ফার্স্ট আর্মির প্রধান উমিত দুন্দারকে ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
এরদোগানকে হত্যা চেষ্টা
শুক্রবার রাতে সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টাকালে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যেপ এরদোগানকে হত্যার জন্য সেনারা বোমা ফেলে।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটন স্থান মারমারিসে অবস্থান করার সময় এই ঘটনা ঘটে বলে জানান এরদোগান।
অভ্যুত্থানের খবর জানার পরপরই মারমারিস থেকে ইস্তাম্বুল রওনা দেন এরদোগান। গতকাল শনিবার সকালে ইস্তাম্বুলে কামাল আতাতুর্ক বিমানবন্দর থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি।
ভাষণের এক পর্যায়ে এরদোগান বলেন, ‘আমি মারমারিস থেকে চলে আসার কিছুক্ষণ পরই তারা (বিদ্রোহী সেনারা) সেখানে বোমা হামলা চালায়। আমার মনে হয়, বোমা ফেলার সময় তারা মনে করেছিল, আমি সেখানে অবস্থান করছি। তারা আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল।’
সেনাপ্রধান উদ্ধার
তুরস্কের সেনাপ্রধান হুলুসি আকারকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের পর তাকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমের টুইটার অ্যাকাউন্টে সেনাপ্রধানকে উদ্ধারের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান। শুক্রবার রাতে সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থান  প্রচেষ্টাকারী একটি অংশ হলুসি আকারকে জিম্মি করেছিল।
মাইকিং  মসজিদে মসজিদে
তুরস্কের ইজমির শহরে অবস্থানরত বাংলাদেশি একজন শিক্ষার্থী জানান, গভীর রাত থেকেই ইস্তাম্বুলে সংঘর্ষ শুরু হয়। তবে প্রথমে গুজবের মতো ছড়িয়ে পড়ে, ইউরোপ ও এশিয়ার কানেকটিং ব্রিজ দখল করে সেনারা বন্ধ করে দিয়েছে। শুরুতে নানা গুজব সৃষ্টি হলেও এক পর্যায়ে আমরা জেনে যাই, ইস্তাম্বুলে সেনাবাহিনীর একটি অংশ রাষ্ট্রপতি এরদোগানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। আমার বন্ধুদের (ইস্তাম্বুলে অবস্থারত) কাছে জানতে পারি, শেষরাতে ইস্তাম্বুল হয়ে পড়ে যুদ্ধক্ষেত্র। কারণ ততক্ষণে বিদ্রোহীরা বিমানবাহিনীর প্রধানকে জিম্মি করে হেলিকপ্টার নিয়ে আকাশে উড়তে থাকে।এসব ঘটনার এরদোয়ান ভিডিও বার্তায় জনগণকে রাস্তায় নেমে প্রতিহতের নির্দেশ দেন। সঙ্গে-সঙ্গেই তা দ্রুত সবগুলো শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশি ওই শিক্ষার্থী জানান, তিনি ইস্তাম্বুলে তার বন্ধুদের কাছে জানতে পেরেছেন, সেখানে মসজিদে মাইকিং করে এরদোয়ানের বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তার কিছুক্ষণ পরে তিনি শুনতে পান ইজমিরের মসজিদগুলো থেকেও মাইকে এরদোগানের আহ্বান প্রচার করা হচ্ছে। তিনি আরও যোগ করে বলেন, ইজমিরের মসজিদগুলো কখনোই সরকারের পক্ষে কিছু প্রচার করেনি। এই প্রথম এখানে এমনটা দেখেছি। তার মানে ধরে নেওয়া যায়, সারাদেশেই মসজিদগুলো থেকে মাইকিং করা হয়েছে।
ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ইজমিরে বসে পুরো তুরস্কের বিষয়ে বর্ণনা করা খুব কঠিন। ইজমিরের অধিকাংশ জনগণ এরদোগানকে পছন্দ না করলেও তারা সেনা বিদ্রোহের বিপক্ষে মাঠে নেমে পড়ে। যা অনেকটা এরদোগানের পক্ষেই কাজ করার মতো।
এ আন্দোলনে জনতার জয় হয়েছে বলে তুরস্কের জনগণ মনে করছে বলে জানান বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। কারণ সেনাদের এভাবে সাহসের সঙ্গে রুখে দিয়েছে জনগণই। তার অনেক বন্ধুও মনে করছেন, এই প্রতিরোধ করার সাহস তাদের ভবিষ্যতে নতুন কিছু করার দিশা দেখাতে পারবে।
অভিযোগ অস্বীকার গুলেনের
তুরস্কের বিশেষ এক মতের ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেন সেনা অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে তাঁকে জড়ানোয় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এর আগে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান অভ্যুত্থানের পেছনে গুলেনের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন।গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে গুলেন এক বিবৃতিতে বলেন, এই সেনা অভ্যুত্থানের সঙ্গে তাঁকে জড়িত করার চেষ্টা খুব অপমানজনক। তিনি বলেন, সরকারকে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জয়লাভ করতে হবে; শক্তি দিয়ে নয়। গুলেন বলেন, তিনি তুরস্কের জনগণের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছেন। তুরস্ক যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ও দ্রুত এই কঠিন সময় পার হতে পারে, এ জন্য প্রার্থনা করছেন। গুলেন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া রাজ্যের ফোকোনো পাহাড়ি এলাকার ছোট একটি শহরে বাস করেন। ৭৫ বছর বয়সী গুলেন একসময় এরদোগানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
গ্রিসে পালিয়েছে ৮ সেনা
তুরস্কের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া আটজন সামরিক কর্মকর্তা গ্রিসে পালিয়ে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছে।
একটি সামরিক হেলিকপ্টারে গিয়ে গ্রিসের উত্তরাঞ্চলে অবতরণ করে এসব সেনা কর্মকর্তা।
গ্রিসের পুলিশ জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেকজান্দ্রোপোলিসে তুরস্কের একটি সামরিক হেলিকপ্টার অবতরণ করে। সেখান থেকে আটজন ক্রুকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এরপর তারা রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে।
বিশ্ব নেতাদের সমর্থন
তুরস্কের ওই অভ্যুত্থান  নিয়ে ইতিমধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা। তারা এরদোগান সরকারের প্রতিও নিজেদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট রেসেপ তায়েব এরদোগানের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে বলেছেন,তুরস্কের সকল পক্ষের উচিত দেশটির নির্বাচিত সরকারকে সমর্থন করা। একই সঙ্গে তিনি দেশটির সকল পক্ষের প্রতি সরকার পরিবর্তনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন। একই বক্তব্য করেছেন মস্কো সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিও। তারা তুরস্কের নেতাদের প্রতি যে কোনো ধরনের রক্তপাত এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দিয়েছেন।
তুরস্কের সকল পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। দেশটির পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানিয়েছে ওই সংস্থাটি।
এরদোগান সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন ইউরোপীয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক। গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, তুরস্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রধান অংশীদার। এ কারণে দেশটিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি ইইউ-র পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।’ মঙ্গোলিয়ায় এক আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশ নেয়ার সময় ওই নেতা দেশটিতে দ্রুত সাংবিধানিক আইন প্রতিষ্ঠিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন।
তুরস্কের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি সেখানে অবস্থারত ব্রিটিশ নাগরিকদের পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত জনাকীর্ণ স্থানসমূহ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কমনওয়েল কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এক টুইটার বার্তায় তুরস্কের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফও। তিনি তুর্কি কর্তৃপক্ষের প্রতি দেশের স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও জনগণের নিরাপত্তার দিকে দৃষ্টি দেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।
তুরস্কে সামরিক অভ্যুত্থানের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর দেশটিতে অবস্থানরত রুশ নাগরিকদের ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লেভারভ।
এদিকে অভ্যুত্থানের নিন্দা করেছেন তুরস্কের সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুলও। তিনি মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন’কে বলেছেন, ‘তুরস্ক কোনো ল্যাটিন আমেরিকার দেশ নয় যে সেনাবাহিনী এভাবে ক্ষমতা দখল করে নেবে।’ তিনি ক্ষমতা দখলের চেষ্টায় লিপ্ত সেনাদের সেনাছাউনিতে ফিরে যাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।
তুরস্ক সরকারের প্রতি আরো সমর্থন জানিয়েছেন, স্লোভেকিয়া, কাতার, গ্রিস, বুলগেরিয়া ও মেক্সিমকোর নেতারা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY