২শ’ বছর ধরে মাছ ধরার টেটা বানানোই যাদের পেশা

২শ’ বছর ধরে মাছ ধরার টেটা বানানোই যাদের পেশা

168
0
SHARE

নারায়ণগঞ্জ বন্দরের লাঙ্গলবন্দের শতবর্ষী মারফত আলী (১০৫)। মাছ মারার টেটা বানানো যার তিন পুরুষের পেশা। টেটা বানানো পেশা হিসেবে একটু ব্যতিক্রম হলেও এতেই তার আনন্দ । এ কাজ করেই চলে তার ৭ সদস্যের সংসার। টেটার ফালাগুলো মোটা তার মুড়াতে মুড়াতে মারফত আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, বংশ পরম্পরায় তারা এখানে এ কাজ করছেন। বর্তমানে কাচা মালের দাম বেড়ে যাওয়া, জলাশয়, খাল বিল, ভরাট করে মাছের উৎস কমে যাওয়ায় বাজারে টেটার চাহিদা কমে গেছে। পাইকারী বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠানো দায় হয়ে পড়েছে। কিন্তু কি করা বাপ-দাদার পেশা বলেতো কথা। ১০ থেকে ১২ বছর বয়সে পিতা জবেদ আলী সানদারের কাছে টেটা বানানোর হাতে খড়ি। টেটা বানানোর পাশাপাশি তাঁত কলের সানা বানাতো। এভাবেই টেটা ও সানা বানিয়ে পাড় করেছেন জীবনের ৯০টি বছর। বর্তমানে ৪ ছেলে ২ মেয়ের মধ্যে ছেলেরা পিতাকে এ কাজে সহযোগীতা করেন। প্রতিদিন ১২৫ থেকে ১৫০ টি টেটা বানাতে পারেন। লাঙ্গলবন্দ এলাকায় বানানো টেটার বেশিরভাগই চলে যায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলে। এছাড়াও টাঙ্গাইল, বিক্রমপুর, ব্রাম্মনবাড়িয়ার পাইকাররাও আসেন টেটা নিতে। মারফত আলী মূলত বেদে সম্প্রদায়ভুক্ত। তিনি জানান, লাঙ্গলবন্দ তাজপুরে বেদে সম্প্রদায়ভুক্ত ১শ’ পরিবার প্রায় ২শ’ বছর ধরে বাস করছেন। তাদের পেশাই টেটা বানানো। তিনি আরো জানান, বর্ষা মৌসুমে টেটার চাহিদা বেশি থাকে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সপ্তাহে তিনদিন পাইকাররা আসেন। তখন প্রতিদিনই খুচরা ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকে। এ পেশায় তিনি পুঁজি খাটিয়েছেন ৩৫-৪০ হাজার টাকা। ১ লাখ টাকা খাটাতে পারলে ব্যবসার প্রসার লাভ করতো বলে জানান তিনি। ক্ষুদ্রঋণ সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই নেই বলেও তিনি জানান।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY