আওয়ামী সন্ত্রাসের নমুনা; কুষ্টিয়ায় এমপির বাড়িতে যুবককে আটকিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

আওয়ামী সন্ত্রাসের নমুনা; কুষ্টিয়ায় এমপির বাড়িতে যুবককে আটকিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

88
0
SHARE

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে স্থানীয় এমপির বাড়িতে চুরির অভিযোগ হাসান (২৩) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার লাশ উপজেলার তারাগুনিয়া ডাক বাংলো চত্বর থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত হাসানের বাবার নাম আবুল কাসেম। উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের সোনাইকুন্ডি পশ্চিমপাড়া গ্রামে তাদের বাড়ি বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে চুরির অভিযোগে হাসানকে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরীর বাসায় আটক করা হয়। এরপর তার বাড়ির সামনেই এমপির ছোট ভাই মিন্টু চৌধুরী ও তার লোকজন হাসানকে বেধড়ক নির্যাতন করে। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ ডেকে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়।
এরপর সকাল ১০টার দিকে দৌলতপুর থানা পুলিশ তাকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে ভর্তি না করে ফেরত পাঠান। এরপর পুলিশ তাকে একটি ভ্যানে করে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
পরে স্থানীয়রা তারাগুনিয়া ডাক বাংলো চত্বরে হাসানের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।
তারাগুনিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে একটি ভ্যান তাকে ডাক বাংলো চত্বরে ফেলে যায়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পায়ে ব্যান্ডেজ ছিল। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুল ইসলাম শাহিন শীর্ষ নিউজকে বলেন, হাসান মাদক সেবন ও চুরি করতো। আজ সকালে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে সাংসদের বাড়িতে নিয়ে গেলে সেখানকার লোকজন তাকে মারপিট করে। এরপর এমপির ভাই মিন্টু চৌধুরী হাসানকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। আহত অবস্থায় তাকে পুলিশের পিকআপ ভ্যানে করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। সেখানকার চিকিৎসকগণ তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠায়।
তিনি আরো বলেন, হাসানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকায় স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। একটি যে ভ্যান গাড়িতে তাকে নেওয়া হয়। ওই গাড়িতে সে মারা গেলে ভ্যান চালক ভয়ে তারাগুনিয়া ডাকবাংলো চত্বরে রেখে গেছেন বলে জানান তিনি।
অপরদিকে সাংদের ভাই মিন্টু চৌধুরী হাসানকে পেটানোর কথা সাংবাদিকদের অস্বীকার করে বলেছেন,‘স্থানীয়রা তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে আমার বাড়ির সামনে নিয়ে এসে। পরে আমি তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেই। আমি কোনো ধরনের মারধর করিনি।’
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছ। তারা বলেন, কোন ব্যক্তি অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী তার সাজা হবে। পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে যাওয়ায় এর বিচার দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY