সিলেটে ছাত্রলীগ-কারারক্ষী সংঘর্ষে আহত ২০

সিলেটে ছাত্রলীগ-কারারক্ষী সংঘর্ষে আহত ২০

88
0
SHARE

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কারারক্ষীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৫ কারারক্ষীসহ প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। এসময় প্রায় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল ও বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিরন মাহমুদ নিপুর কারাগার থেকে মুক্তিলাভ নিয়ে এ সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুটি মামলায় কারাবন্দি হিরন মাহমুদ নিপু বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। জামিননামা কারাগারে আসার পর সংশ্লিষ্টরা এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন।
এদিকে সন্ধ্যায় নিপু মুক্তি পাচ্ছেন, এই সংবাদে তার অনুসারী শতাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানাতে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে উপস্থিত হন। এক পর্যায়ে তারা নানা শ্লোগান দিয়ে রাস্তা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে কারা ফটকের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে।
কারারক্ষীরা তাদেরকে শ্লোগান বন্ধ এবং কারাফটকের বাইরে অবস্থান করতে বলেন। এ নিয়ে কারারক্ষীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে প্রায় ১৫ জন কারারক্ষীসহ ২০ আহত হন। বিক্ষুব্ধ কারারক্ষীরা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রায় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাংচুর চালায়।
এতে মহানগরীর বন্দর বাজার থেকে নয়াসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আতংকে আশপাশের লোকজন ছুটোছুটি করতে থাকেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে ৩২টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সংঘর্ষ শেষে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা চলে যাওয়ার পর কোতয়ালী থানার ওসির জিম্মায় নিপুকে মুক্তি দেয়া হয়।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সগীর মিয়া জানান, দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে কারাগার এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল নিয়ে কারাগারের গেটের ভেতর ঢুকতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
জেলার মাসুদ পারভেজ  বলেন, উচ্ছৃংখল ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলায় আহত কারারক্ষীদের কারাগারের অভ্যন্তরে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি রহমত উল্লাহ জানান, এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY