সুনামগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দী

সুনামগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দী

86
0
SHARE
SAMSUNG CAMERA PICTURES
সুনামগঞ্জে পাঁচটি উপজেলার অনেক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বন্যা কবলিত উপজেলাগুলো হচ্ছে, সুনামগঞ্জ সদর, দোয়রাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর ও শাল্লা। পাহাড়ি ঢল, টানা বৃষ্টিপাত, ভারি বর্ষণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীতে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ২৭ সেন্টিমিটার।
বন্যা পরিস্থিতি অবনতির কারণে পাঁচ উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ পনিবন্দী হয়ে পড়েছেন। জেলা সদরের সঙ্গে অনেক উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বন্যায় বিপুল পরিমাণ আমনের বীজতলা, মাছের খামার ও সবজি বাগান ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। দেখা দিয়েছে গবাদিপশুর খাবার সঙ্কট।
সুনামগঞ্জ শহরের নবীনগর, কাজির পয়েন্ট ও তেঘরিয়া এলাকা দিয়ে সড়ক উপছে শহরে পানি ঢকুছে। দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমন্ত এলাকার সুরমা, বুগলা ও লক্ষীপুর ও বাংলাবাজার ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি  বেশি অবনতি হয়েছে। ওই সকল এলাকার বেশিরভাগ সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলা সদরের সঙ্গে গত তিনদিন ধরে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মহব্বতপুর বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ জানান, মঙ্গলবার পাহাড় খাসিয়ামারা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। বাজারের সড়কে দুই তিন ফুট পানি রয়েছে। তিনি জানান, বন্যার পানিতে দোয়ারাবাজার-ভোগলা সড়কের অনেক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান জানান, বন্যা কবলিত পাঁচ উপজেলার প্রতিটিতে ৫ টন করে ত্রাণের চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া পাঁচ উপজেলার জন্য নগদ আরো পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আরো ত্রাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ মোকাবেলা ও প্রস্তুতি কমিটির বৈঠকে এ বন্যা মোকাবেলা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY