সরকার ভারতের প্রতি গদগদ আত্ননিবেদন করতে গিয়ে দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে

সরকার ভারতের প্রতি গদগদ আত্ননিবেদন করতে গিয়ে দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে

225
0
SHARE

সরকার ভারতের প্রতি গদগদ আত্ননিবেদন করতে গিয়ে দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে

ব্রিফিং ঃ এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি


সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আপনাদের সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। আশা করি সবাই ভাল আছেন।
ভোটারবিহীন সরকারের প্রতিহিংসা পূরণে বেকসুর খালাস পাওয়া মামলায় বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে সাজা দেয়ার প্রতিবাদে আজ বিএনপি ঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল কর্মসূচি বানচাল করার জন্য সরকারের পেটোয়া বাহিনীতে পরিণত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা গতকাল রাত থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ীতে জঙ্গীদের মতো হামলা চালাচ্ছে। এই হামলা চালিয়ে বাড়ীঘরে লুটতরাজ, ভাংচুর এবং ধরপাকড়ের এক বিভিষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যের আহবান, দেশের শান্তি ও স্থিতি, জঙ্গীদের সহিংস দানবীয় কর্মকান্ড দমন এবং মৃত্যুভয়ে সন্ত্রস্ত জনগণকে নিরাপত্তা বিধান সরকারের মূখ্য লক্ষ্য নয়। সরকার বিদ্যমান জঙ্গী তৎপরতা টিকিয়ে রেখে অরাজকতার পরাক্রম থেকে দেশবাসীকে নিস্তার দিতে ইচ্ছুক নন। কারন এই পরিস্থিতি একটি অবৈধ সরকারের জন্য পরমপ্রাপ্তি। সরকার দৃঢ়ভাবে মনে করে এই পরিস্থিতি বজায় থাকলেই অনির্বাচিত এই সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহমান থাকবে। জঙ্গীবাদ টিকে থাকলে বিরোধী দলের ওপর ক্রমাগত দায় চাপিয়ে যেতে পারলে এই ভোটারবিহীন অবৈধ সরকারের জন্য লাভজনক। তাই জঙ্গী দমনে সরকারের কোন কার্যকর পদক্ষেপ তো ছিলই না এবং তারা নিজেদের ব্যর্থতাও কখনো স্বীকার করেনি। তাদের এই নির্লিপ্ততায় উগ্রবাদীরা আরো বলশালী হয়েছে এবং শিকড় আরো গভীরে গেছে।
কিন্তু সরকারের সকল অপকৌশল অকার্যকর হয়ে জঙ্গী পরিস্থিতির দরুন দেশে-বিদেশে এই বেআইনী সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। দেশ-বিদেশের মানুষ আরো মনে করে যে, বাংলাদেশের সরকার ও সরকার প্রধানের কোন বক্তব্যেরই তল-অতল পাওয়া ভার। এটি বিভ্রান্তি তৈরীর এক অভিনব কৌশল। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কয়েক বছর পর থেকেই বলতেন তিনি দেশ থেকে জঙ্গীবাদ দমন করেছেন, দেশে জঙ্গীদের কোন অস্তিত্ব নেই, আইএস-এর কোন চিহ্ন নেই এদেশে, সরকারের  ইত্যাদি কথাবার্তা সবাই শুনেছেন। নিজেদের সীমাহীন ব্যর্থতা প্রধানমন্ত্রী কখনোই মানতে চান না। একের পর এক জঙ্গী তৎপরতায় দেশের নানা মতের মানুষের জীবনহানির পরও সরকার জঙ্গীদের অস্তিত্ব স্বীকার করেনি। কিন্তু সরকারের সকল অস্বীকৃতি, অন্যের ওপর দায় চাপানোর পরও একের পর এক চাঞ্চল্যকর উগ্রবাদীদের হামলা সংঘটিত হয়ে আসছে।
বন্ধুরা,

সুতরাং উগ্রবাদী জঙ্গীগোষ্ঠী নিয়ে সরকারের রহস্যজনক আচরণে মানুষের মনে যে তীব্র সন্দেহ এবং প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে সেটিকে ঢেকে দিতেই বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মুদ্রা পাচারের মিথ্যা মামলায় বিচারিক আদালত কর্তৃক খালাস পাওয়ার পরও সরকার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে তাঁকে সাজা দেয়া হয়েছে। জনাব তারেক রহমানকে এই সাজা দেয়া সরকারের অন্ধহিংসার বহি:প্রকাশ। বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্রকে পরকালে পাঠিয়ে একদলীয় দু:শাসন বজায় রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানে সরকার নিজেদের লোকজন বসিয়ে গায়ের জোরে দেশের সমগ্র জনগণকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে।
জনগণের ওপর সরকারের কোন প্রভাব নেই বলেই রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন আওয়ামী ক্যাডারদের দ্বারা পরিচালিত। কারন এদেশে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দায়ের হয় বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হাজার হাজার বিরোধী দলীয় নেতাকর্মী কারাগারে দু:সহ জীবনযাপন করতে হয়। আর প্রকাশ্য দিবালোকে যারা ক্রসফায়ারে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করছে, উপজেলা চেয়ারম্যান, কাউন্সিলরসহ জনপ্রতিনিধিদেরকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করার পরেও শুধুমাত্র শাসকদলের ক্যাডার হওয়ার কারনে নি:শর্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমা পেয়ে যায়। সুতরাং কারা প্রভাব বিস্তার করতে পারে সেটি এখন দেশ-বিদেশের সকলেই জেনে গেছে।
সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

বর্তমান ভোটারবিহীন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকারের প্রতি কারো কোন সমর্থন নেই। দেশের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন এই সরকার সারাবিশ্বের সমর্থন থেকেও বঞ্চিত। শুধুমাত্র জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে গিয়ে সরকার যে বর্বর নীতির ওপর দেশ চালাচ্ছেন তাতে এই সরকার একেবারেই একা হয়ে গেছে। এই একাকীত্বে ভারতের সহায়তা ছাড়া এই সরকারের আর কোন অবলম্বন নেই। পরনির্ভরশীল এই সরকার দেশের স্থিতিশীলতা আসুক সেটি কখনোই চাইবে না। কারন সরকার ভারতের প্রতি গদগদ আত্মনিবেদন করতে গিয়ে দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়েছে
গতকাল আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন-ভারতের সাথে তাদের নাকি আত্মার সম্পর্ক, তিনি ঠিকই বলেছেন, কারণ যাদের দেশের মানুষের সাথে কোন সম্পর্ক নেই তারা তো একটি বিশেষ শক্তির নিকট অনুগ্রহভাজন হয়েই থাকবেন, আত্মাকে বিক্রি করে দিবেন। কারন দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করে তারা বাংলাদেশের বনাঞ্চল ধ্বংস করতে রামপাল বিদ্যূৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছে, অপমানজনকভাবে ট্রানজিটের নামে করিডোর দেয়া হয়েছে, তিস্তার ন্যায্য পানির হিস্যা পাওয়া যায়নি, অন্যায়ভাবে সমূদ্রসীমা নির্ণয় করতে গিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্ভাগ দখল করা হয়েছে, প্রতিদিন সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নির্বিচারে বাংলাদেশী হত্যা অব্যাহত আছে, সীমান্তে একের পর এক কাঁটাতারের বেড়া নির্মান অব্যাহত আছে, ভারতের বাজারে বাংলাদেশী পন্য প্রবেশের ব্যাপারে শুল্ক অশুল্ক বাধা বজায় আছে, অথচ বাংলাদেশের বাজার ভারতীয় পন্যে সয়লাব। এসমস্ত বিষয়ে সরকার একটুও টু শব্দ করে না।
নতজানু শাসকগোষ্ঠীর এইসমস্ত কর্মকান্ড ও কথাবার্তায় দেশের মানুষ লজ্জিত ও ক্ষুব্ধ। দেশের মানুষকে সহিংস অরাজকতার বাতাবরণে একটি অস্থির অরাজকতার কাল এই সরকার টিকিয়ে রেখেছে। সুতরাং এরা ঐক্যের কথা শুনবে না, দেশে শান্তি ও স্বস্তি আসুক সেটি চাইবে না। সেজন্য মানুষের নাগরিক স্বাধীনতাকে রক্তাক্ত পন্থায় পিষ্ট করে নিজেরা টিকে থাকার আয়োজন করে চলেছে। এদের ভ্রান্তনীতির কারনে রাজনৈতিক সঠিকতা অন্ধকারে দিক হারিয়ে ফেলেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ না ঘটলে জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।
বার্তা প্রেরক

 

(আসাদুল করিম শাহীন)

সহ-দফতর সম্পাদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY