আইসিসি বাংলাদেশের কর্মশালা বৈদেশিক বাণিজ্যে ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্টরিং বাস্তবায়নের সুপারিশ

আইসিসি বাংলাদেশের কর্মশালা বৈদেশিক বাণিজ্যে ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্টরিং বাস্তবায়নের সুপারিশ

89
0
SHARE

 আন্তর্জাতিক লেন-দেনের ক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্টরিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের রফতানি আয় দ্রুতহারে বাড়ছে এবং আরও বেশিহারে রফতানি প্রবৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক লেন-দেনের ক্ষেত্রে এলসি জনপ্রিয়ভাবে ব্যবহার হয়। কিন্তু অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতা এবং অতিরিক্ত খরচের কারনে আমদানিকারকরা এখন আর এলসির মাধ্যমে আমদানি করতে চায়না। বরং ওপেন একাউন্টের মাধ্যমে আমদানিকারকরা আমদানি করতে চায়। যেহেতু ওপেন একাউন্টের মাধ্যমে লেন-দেনের ক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়েছে, তাই ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্টরিং, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ওপেন একাউন্টের ঝুঁকি দূর করতে সহায়তা করে।
বুধবার আইসিসি বাংলাদেশ এর উদ্যোগে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্টরিং ফর ফরেন ট্রেড’ শীর্ষক কর্মশালায় বাণিজ্য সচিব হেদায়েতউল্লাহ আল-মামুন প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। আইসিসি বাংলাদেশ ব্যবসায়ী খাত এবং ব্যাংকিং খাতের মধ্যে অনুঘটক হিসাবে কাজ করায় বাণিজ্য সচিব আইসিসি বাংলাদেশ সভাপতিকে ধন্যবাদ জানান।
আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ওপেন একাউন্ট লেন-দেনে ব্যাংক এবং কর্পোরেট হাউজগুলো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। ওপেন একাউন্টের ক্ষেত্রে পেমেন্ট পাওয়া যায় রফতানিপণ্য ডেলিভারির কয়েক সপ্তাহ বা মাসখানিক পরে। ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্টরিং নন-এলসি পেমেন্টের ক্ষেত্রে সমাধান দিয়ে থাকে। যেহেতু ইন্টারন্যানাল ফ্যাক্টরিং রফতানিকারককে নিরাপদ প্রতিযোগী ক্রেডিট টার্ম অফার করতে সহায়তা করে, তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে লেন-দেনের এ কলাকৌশল আমদানিকারক এবং রফতানিকারক উভয়ের মধ্যেই জনপ্রিয়। এটা ধারণা করা হয় যে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের মোট লেন-দেনের ৮০ শতাংশ ওপেন একাউন্টের মাধ্যমে হয়ে থাকে।
মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেন, আইসিসির গত বছরের ফ্যাক্টরিং সেমিনারের সুপারিশের প্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রফতানি নীতি ২০১৫ তে ফ্যাক্টরিংকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে লেন-দেনের একটি মেথড হিসাবে যুক্ত করেছে। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংককে ফ্যাক্টরিং বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।
আইসিসি বাংলাদেশের ব্যাংকিং কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ. (রুমী) আলী তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বিজেএমইএ ২০২১ সালের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আয় ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য পেমেন্ট পদ্ধতি মসৃণ এবং আধুনিক হওয়া প্রয়োজন। এতে আমদানি-রফতানি ব্যয়ও কমে আসবে বলে তিনি বলেন।
বিজেএমইএ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাসির বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক শিল্পের চাহিদা ৬৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হবে, সুতরাং এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের।
ফ্যাক্টরস চেইন ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া ডাইরেক্টর লী খেং লিয়ং, বিআইবিএম এর ডাইরেক্টর ড: প্রশান্ত ব্যানার্জি এবং আইসিসি বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল আতাউর রহমানও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন।
ট্রেনিংটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর আহমেদ জামাল, ফ্যাক্টরস চেইন ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া চাপ্টার ডাইরেক্টর লী খেং লিয়ং, বিআইবিএম এর ডাইরেক্টর ড: প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জি এবং সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট এম. ইমতিয়াজ ফারুক। রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান থেকে ১১৮ জন অংশগ্রহণ করেছিল ট্রেনিংএ। আজ বৃহস্পতিবার একই বিষয়ের উপর আরও একটি কর্মশালা খামারবাড়ী কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে অনুষ্ঠিত হবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY