অবৈধ আওয়ামী সরকারের ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি;

অবৈধ আওয়ামী সরকারের ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি;

30
0
SHARE

অবৈধ আওয়ামী সরকারের ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি; আইন করেও দুর্নীতি কমানো যায়নি :অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দেশে দুর্নীতি না কমায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকার দুর্নীতি দমনে খুব একটা এগুতে পারেনি। আইন-কানুন করেও দুর্নীতি কমানো যায়নি। তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
অর্থমন্ত্রী এর আগেও বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির বিষয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) দুর্নীতির ধারণা সূচক প্রকাশের পরও অর্থমন্ত্রী বলেছেন, দুর্নীতি কমানোর বিষয়টি স্পর্শই করতে পারিনি। এক্ষেত্রে কোনো উন্নতি করতে পারিনি। গত বছরের ৯ জুলাই উন্নয়ন সহযোগীদের স্থানীয় পরামর্শক সভায়ও তিনি বলেছেন, দুর্নীতির কারণে দেশে জিডিপির দুই থেকে তিন শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে। এই ক্ষতি মোকাবেলায় সরকারের নেয়া পদক্ষেপ পর্যাপ্ত নয়।
ব্যাংকিং খাতের লুটপাট নিয়েও অর্থমন্ত্রীর সরল স্বীকারোক্তি আলোচিত হয়। তিনি গত ৩ ফেব্রুয়ারি জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সভায় বলেন, সোনালী ব্যাংকে ডাকাতি হয়েছে। বেসিক ব্যাংকে শীর্ষ পদস্থরা লুটপাট করেছে। বেসিক ব্যাংকে হরিলুট হয়েছে বলেও গত ৭ জুলাই ২০১৫ তারিখে তিনি মন্তব্য করেছেন।
নিকট অতীতে দুর্নীতি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্য আলোচনার খোরাক যুগিয়েছিল। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বরাবরই সরব অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সর্বশেষ গতকাল রবিবার ঢাকায় এক হোটেলে ‘বৈষম্য-দারিদ্র্য নিরসনে বাজেট ও অন্যান্য নীতি-কাঠামোর ভূমিকা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে দুর্নীতির সমালোচনা করেন। সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ এ সংলাপের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. দীপু মনি। তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম প্রমুখ এতে বক্তৃতা করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. বিনায়ক সেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা হতে পারে অনলাইনে অর্থ লেনদেন ও অনলাইন টেন্ডার প্রক্রিয়া। সরকারের সব ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা চালু করা হলে দুর্নীতি কমানো সম্ভব হবে। তিনি সরকারের সব বিভাগকে যার যার জায়গা থেকে যতটা সম্ভব কাজের ক্ষেত্রে অনলাইন পদ্ধতি চালু করার আহ্বান জানান। সিলেটের একটি কলেজের সভাপতি থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই কলেজে আগে যেখানে ভর্তি কার্যক্রম থেকে আয় হতো আট লাখ টাকা, সেখানে যখন অনলাইন পদ্ধতি চালু করা হলো, সেই আয় বেড়ে হলো ৮৩ লাখ টাকা। অনলাইনে লেনদেন হলে চুরি ঠেকানো যায়, চোর ধরা যায় এবং অর্থ যার কাছে যাওয়ার কথা তার কাছেই যায়। ফলে সরকার পরিচালনায় বাজেটের অপচয় হয় না।
উচ্চাভিলাষী আখ্যা দিয়েও তিনি সরকারের চলতি মেয়াদে নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা বিশ লাখে উন্নীত করার কথা জানান। বর্তমানে নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ। তার মধ্যে প্রতি করবর্ষে গড়ে ১২ লাখ করদাতা তাদের আয়কর বিবরণী জমা দেন। শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রাথমিক ও উচ্চ শিক্ষার পদ্ধতি ভালো; কিন্তু মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা ভালো নয়। এ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও সংলাপে অবহিত করেন।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, কাঠামোর ভেতরে যে অন্যায্যতা আছে, সেটা দূর করা একটি চ্যালেঞ্জ। তবে এসব দূর করতে হলে মানব সম্পদের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এছাড়া এক কোটি টাকা কর দিতে পারেন, এমন ৩০ হাজার করদাতা চিহ্নিত করার পরামর্শ দেন তিনি।
সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) দারিদ্র্য নিরসনকে এক নম্বরে রাখা হয়েছে। আর এখানেও আমরা সাফল্য অর্জন করতে পারবো। তিনি বলেন, ধানের উত্পাদন খরচ প্রতিমণে ৭০০ টাকা পড়ে; কিন্তু ধান কাটার সময় কৃষককে প্রতি মণ ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। তাই এখানে কিভাবে আরো জোর দেওয়া যায়, সেটা আমাদের ভাবতে হবে। তা না হলে কৃষক ধান উত্পাদনে উত্সাহ হারিয়ে ফেলবে।
মূল প্রবন্ধে বিনায়ক সেন বলেন, দারিদ্র্য কমলেও সম্পদের বৈষম্য বাড়ছেই। লোকজন যখন গ্রাম থেকে শহরে চলে আসে, তখন তাদের আয় বাড়ে। এর ফলেও গ্রামের সঙ্গে আয় বৈষম্য বেড়ে যায়। তবে এক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ শিক্ষা-স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটিয়ে বৈষম্যকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এছাড়া শিক্ষিত নারীর জন্য কাজের সুযোগ তৈরিরও পরামর্শ দেন তিনি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY