জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় আ.লীগের ভূমিকা ইতিবাচক নয়:নোমান

জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় আ.লীগের ভূমিকা ইতিবাচক নয়:নোমান

119
0
SHARE

আব্দুল্লাহ আল নোমান চট্টগ্রাম তথা দেশের অন্যতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি একাত্তরে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশমাতৃকার মুক্তি আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দণ্ড কার্যকর হওয়া দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পর বর্তমানে চট্টগ্রামে বিএনপির কাণ্ডারীর ভূমিকা পালন করছেন। তিনি বর্তমানে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

আরটিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমানে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আরটিএনএনের নিজস্ব প্রতিবেদক এসএম আতিক হাসান

 

সাম্প্রতিক জঙ্গিবাদের উত্থান এবং এর বিরুদ্ধে আপনাদের প্রতিক্রিয়া কী?

 

নোমান: একটি  দেশে অনেক সমস্যা থাকে।  আমাদের দেশেও অনেক সমস্যার মধ্যে অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো জঙ্গিবাদ। এই জায়গায় আমরা বলেছি, দল মত নির্বিশেষে আমরা জাতীয় ঐক্য চাই এবং জাতীয় কনভেনশনের মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে আমরা সমাধানের পথ খুঁজবো। কিন্তু এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের ভূমিকা ইতিবাচক নয়। তারপরও আমরা মনে করি, যে সমস্যায় আমরা পরেছি তা অনেক বড় সমস্যা। আমাদের বিশ্বাস ক্ষমতাসীনরা এটা উপলব্ধি করতে পারবে এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা হবেই।

 

যদি আমরা প্রকৃতই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করতে চাই তাহলে এটা এককভাবে সম্ভব না। সরকারের যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আছে সেগুলোর উপর প্রধানমন্ত্রী হয়তো নির্ভর করছে। কিন্তু এটা পুলিশ, র‌্যাব, সামরিক বাহিনী কিংবা কোনো সরকারী যন্ত্রের একক কোন কাজ নয়। এখানে জনগণের বিরাট ভূমিকা আছে। যারা ভুল পথে অথবা নির্দিষ্ট একটা মতবাদের পক্ষে কাজ করছে; তাদেরকে সঠিক পথে আনার জন্য জনগণ, সুশীলসমাজ এবং রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সহযোগিতা ছাড়া শুধু সরকারী যন্ত্র দিয়ে কাউকে গ্রেপ্তার করে জঙ্গিবাদ দমন হবে না।

 

‘জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্য হয়েছে’ প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

নোমান: আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য জাতিকে বিভক্ত করবে। তার এধরনের বক্তব্য জাতির কাছে স্পষ্ট করা দরকার। তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে জাতি ঐক্যবদ্ধ না হয়ে বরং আরো বিভক্ত হবে। কেননা জাতীয় ঐক্য হয় সংগঠনের ভিত্তিতে। আমার মনে হয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্য বলতে শুধু জনগণের সমর্থনকে বুঝিয়েছেন। হ্যাঁ, এদেশের ১৬ কোটি মানুষ এই জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সমর্থন দিয়েছে কিন্তু জনগণকে বাদ দিয়ে, জনগণকে সংগঠিত না করে কখনো জাতীয় ঐক্য হতে পারে না।

 

 

জাতীয় ঐক্যে জামায়াতের অবস্থানের বিষয়ে আপনার মতামত:

নোমান: আমার মনে হয় জাতীয় ঐক্যে এই মুহুর্তে জামায়াতের প্রসঙ্গ আসবে না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াতকে ডাকলে তখন তারা তাদের মতো করে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করবে। সেখানে সবাই মিলে আলোচনা হবে। রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে এখানে সংকট তৈরি করার কোনো অর্থ হয় না। জামায়াতকে রাখা না রাখা এটা আলোচনার বিষয়। আলোচনার ভিত্তিতেই সবকিছু হতে পারে। এছাড়া এখনো পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বা সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেনি এবং তারা তাদের কিছু কর্মকাণ্ডও চালিয়ে যাচ্ছে। তারপরেও আমি মনে করি, জাতীয় ঐক্যে জামায়াতের বিষয়টি দ্রুত মীমাংসা করা দরকার।

 

কবে নাগাদ দলের স্থায়ী কমিটি ঘোষণা হতে পারে?   

নোমান: স্থায়ী কমিটি কবে নাগাদ ঘোষণা করা হবে সেটা তো আর সুনির্দিষ্টভাবে দিন, তারিখ বলা যাবে না। কারণ স্থায়ী কমিটি করার জন্য আমাদের দলের চেয়ারপারসনকে সকল ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তবে আমরা আশা করছি যে, খুব শিগগিরই স্থায়ী কমিটির ঘোষণা করা হবে।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY