জাল টাকাসহ ৪ পুলিশ আটকে রণক্ষেত্র মুরাদনগর

জাল টাকাসহ ৪ পুলিশ আটকে রণক্ষেত্র মুরাদনগর

124
0
SHARE

জাল টাকাসহ ৪ পুলিশ সদস্যকে হাতে নাতে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনতা-পুলিশ সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় মুরাদনগর। পুলিশের ছোড়া গুলিতে এক বৃদ্ধসহ আহত হয় অন্তত ১০ জন।
সোমবার সকালে মুরাদনগর উপজেলার হায়দরাবাদে এ ঘটনা ঘটে। মাসুদা আক্তার নামে গুরুতর  ্আহত একজনকে পুলিশ উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্যে হাসপাতালে পাঠায়।

সাদা পোশাকে অভিযানের নামে ব্যবসায়ীকে জাল টাকা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে উত্তেজিত এলাকাবাসী ৪ পুলিশকে অবরুদ্ধ করার পরেই বেঁধে যায় ওই সংঘর্ষ।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সকালে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার একদল পুলিশ হায়দরাবাদ বাদামতলী বাজারে জামিলা ভেরাইটিজ স্টোরে গিয়ে বডিস্প্রে কিনতে চায়। এসময় দোকান মালিক সোহেল রানা বডিস্প্রে আনতে দোকানের এক পাশে যান। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ সময়েই মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে থাকা দুই লাখ টাকার জাল নোটের একটি ব্যাগ দোকানের ক্যাশবাক্সের পাশে রাখা হয়। এরপর বাইরে থাকা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোসলেম উদ্দিন দোকানের ভেতর প্রবেশ করে দোকান মালিক সোহেলকে জাল টাকা রাখার অভিযোগে আটক করেন।

আটক দোকান মালিক সোহেল বাদামতলী বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক। তিনি বাদামতলী গ্রামের জিতু মিয়ার ছেলে। এদিকে সোহেল রানাকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই সহস্রাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা জাল টাকাসহ চার পুলিশ সদস্যকে আটক করে। তারপর পুলিশের কাছ থেকে সোহেলকে মুক্ত করে তাকে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
এক পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এসে পুলিশ সদস্যদের জনরোষ থেকে উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে বসিয়ে রেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়া হয়। ঘণ্টা দেড়েক পর বাঙ্গারা বাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর নির্বিচার গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এভাবে জালটাকাসহ আটক পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে।
এব্যাপারে ঘটনার শিকার ব্যবসায়ী সোহেল রানা  বলেন, সম্প্রতি জালনোটসহ একটি চক্রকে পুলিশের হাতে তুলে দিই। পরে ওই চক্রটি আমাকে হুমকি দিয়ে আসছিলো যে আমাকেও জাল টাকা দিয়ে আটক করা হবে। ওই চক্রটির সাথে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশের কতিপয় সদস্যদের যোগ সাজস রয়েছে বলেও সোহেল দাবি করেন। তিনি বলেন, ওই হুমকির পরই পরিকল্পিত ভাবে পুলিশ আমাকে জাল নোট নিয়ে আটকের চেষ্টা করছিলো। তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে আন্দিকোট ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক  বলেন, এলাকার একটি জাল টাকা ব্যবসায়ী চক্র এর আগেও ওই ব্যবসায়ীর দোকোনে জাল টাকা ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে আটক করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়।
এদিকে মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও হায়দরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা হারুন আল রশিদ মোবাইল ফোনে  জানান, এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের ব্যাপারে তিনি অবগত আছেন। এরা এলাকার অপরাধীদের সাথে যোগসাজসে ভালো মানুষদের জড়িয়ে টাকা আদায় করে থাকে।
চক্রান্তকারী পুলিশ সদস্যরা কার ইন্ধনে ব্যবসায়ী সোহেল রানাকে জাল টাকা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন হায়দরাবাদ এলাকার লোকজন।
আটক পুলিশ সদস্যদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে যাওয়া কর্মকর্তাসহ পুলিশের কেউই সাংবাদিকদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তৎক্ষণিকভাবে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, পুলিশের জাল নোটসহ আটকের ঘটনাটি সত্য নয়।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুলাই এ এলাকা থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জাল নোটসহ মুখলেস মিয়া (২৪) নামের একজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছিলো বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY