সোনাগাজীর সবগুলো স্লুইস গেইট অকেজো বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা, জনদুর্ভোগ চরমে

সোনাগাজীর সবগুলো স্লুইস গেইট অকেজো বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা, জনদুর্ভোগ চরমে

131
0
SHARE

সোনাগাজী উপজেলায় ১৯৬৫ সালে নির্মিত ১২টি স্লুইস গেইট সংস্কারের অভাবে অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলেই পুরো উপজেলায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফেনী সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে সাগরস্নাত সোনাগাজী উপজেলার অবস্থান। পূর্ব দিকে কালিদহ ও বড় ফেনী নদী, পশ্চিমে উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে ছোট ফেনী নদী। এ বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে রক্ষা ও পয়:নিষ্কাশন করার লক্ষ্যে ১৯৬৫সালে তৎকালীন সরকার উপজেলা ঘিরে উপকুলীয় অঞ্চলে ১২টি স্লুইস গেইট নির্মাণ করে। ২০০২ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খামখেয়ালী-ব্যবস্থাপনা ও সংস্কারের অভাবে ২০ গেইট বিশিষ্ট কাজির হাট স্লুইস গেইটটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। কাজির হাট স্লুইস গেইটটি বিলীন হওয়ার কারণে ২০০৬সালের ৮ মার্চ কাজির হাট স্লুইস গেইটের ২০ কি:মি: পিছনে ছোট ফেনী নদীর মোহনায় মুছাপুর নামক স্থানে ২৩ ভেল্টের একটি ক্লোজার ড্যাম নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। উক্ত ক্লোজার ড্যামটি ২ বছরের মধ্যে নির্মাণ করার কথা থাকলেও অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে ২০১৪সালে মুছাপুর ক্লোজার ড্যামটি নির্মাণ কাজ শেষ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তুু সোনাগাজী উপজেলা ঘিরে যে আরো ১২টি স্লুইজ গেইট রয়েছে তা দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকার কারণে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি হলেই উপকুলীয় অঞ্চলসহ পুরো উপজেলায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। যার ফলে উপজেলার কৃষকেরা বর্ষা মৌসুমে আমন ধান উৎপাদন করতে পারে না।
উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে কৃষকের ফসলী জমি,আমনের বীজ তলা, মাছের ঘেরসহ বহু ঘর বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিতে চরাঞ্চলের মানুষের বাড়ি ঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন ধরনের পানি বাহিত রোগ বালাইয়ের সৃষ্টি হয়। উপকুলীয় অঞ্চলে গবাদি পশু, হাঁস মুরগির খাদ্য সঙ্কট দেখা দেয়।
চরদরবেশ ইউনিয়নের ১০নং স্লুইস গেইট সংলগ্ন কৃষক আবুল কাসেম জানান, এ স্লুইস গেইট দিয়ে চরসাহাভিকারী গ্রাম সহ কয়েকটি গ্রামের পানি বর্ষাকালে নিস্কাশন হতো। গত ২০ বছর যাবত স্লুইস গেইটটি অকেজো থাকার কারণে ইউনিয়নের গ্রাম গুলোর পানি যেতে পারেনা। যার ফলে গ্রাম গুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তিনি আরও জানান, আমরা আগে বছরে দুটি ফসল উৎপাদন করলেও এখন একটি ফসল উৎপাদন করতে পারি না।
চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট সংলগ্ন বেড়িবাঁধের উপর নির্মিত হয় ৭নং স্লুইস গেইট। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, স্লুইজ গেইটটি নির্মাণ করার পর কোন মেরামত বা সংস্কার না করার কারণে জোয়ারের লোনা পানি স্লুইজ গেইট দিয়ে গ্রামাঞ্চলে প্রবেশ করে হাজার হাজার একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়। আমিরাবাদ ইউনিয়নে অবস্থিত ১নং স্লুইস গেইটটিরও একই অবস্থা। জোয়ারের লোনা পানির প্রভাবে এলাকার দালান কোঠা সহ মসজিদ, মন্দির ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন গুলো দ্রুত দূর্বল হয়ে খসে পড়ছে। উপজেলার সবকটি স্লুইস গেইটের একই অবস্থা হওয়ায় কৃষক ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ বিশেষ করে বর্ষার মৌসুমে ফসল উৎপাদন ও স্বাভাবিক জীবন-যাপন নিয়ে সংকিত থাকেন। তাদের অনুরোধ অকেজো স্লুইস গেইটগুলোর সংস্কার কাজগুলো যেন বর্ষা আসার আগেই করা হয়। চরচান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মিলন উপকুলীয় অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য খাল ও স্লুইজ গেইটগুলো সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানান।
উপজেলা চেয়ারম্যান জেড.এম কামরুল আনাম জানান, দ্রুত স্লুইস গেইটগুলো সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ ব্যাপারে ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী কর্মকর্তা আফছার হোসেন জানান, আগামী অর্থ বছরে স্লুইস গেইটগুলো মেরামত ও সংস্কারের কাজ করা হবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY