জঙ্গিবাদের উত্থানে সরকারই সহযোগিতা করছে : ড. মোশাররফ

জঙ্গিবাদের উত্থানে সরকারই সহযোগিতা করছে : ড. মোশাররফ

142
0
SHARE

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, অনির্বাচিত সরকার মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এজন্য এখন বিএনপি নেতাদের দাবিয়ে রাখতে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলক মামলায় সাজা দিচ্ছে। অর্থপাচার মামলায় নিম্ন আদালতে খালাস পাওয়ার পরও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আবারো সাজা দেয়ায় সেটা প্রমাণিত হয়েছে।

বুধবার এক সভায় তিনি বলেন, অপরাধীদের মন যেমন পুলিশ পুলিশ করে, তেমনি তাদের (সরকার) মনও পুলিশ পুলিশ করছে। কারণ তারা মানসিকভাবে দুর্বল। জনপ্রিয়তাও শূন্যের কোটায়।

ড. মোশাররফ বলেন, গণতন্ত্রহীণতার কারণে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে। দেশে এই পরিস্থিতি তৈরি করে সরকার জঙ্গিবাদ উত্থানে সহযোগিতা করছে। কারণ যেখানে গণতন্ত্র থাকেনা, সেখানে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়। সরকারই জঙ্গিবাদের উত্থানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিয়েছে।

আজ বিকেলে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলায় ষড়যন্ত্রমুলক রায়ে’র প্রতিবাদে এই সভার আয়োজন করে ‘৯০-এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য’।

ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা নাজিম উদ্দিন আলমের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাবেক ছাত্রনেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, মুস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, খন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান, শিরিন সুলতানা, হেলেন জেরিন খান, রেহানা আখতার রানু, অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার, জাগপা ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম সহ নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের আলোচিত নেতারা।

সরকার বিএনপি ও জিয়াউর রহমানের পরিবারকে ভয় পায় বলেই ষড়যন্ত্র করছে মন্তব্য করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, অর্থপাচার মামলায় নিম্ন আদালত থেকে খালাস পাওয়ার পরও তারেক রহমানকে উচ্চ আদালতে সাজা দেয়ায় প্রমাণিত হয়েছে, এটি সেই ষড়যন্ত্রের অংশ। কিন্তু যতই ষড়যন্ত্র হোক জাতীয়তাবাদী শক্তিকে অতীতেও নিশ্চিহ্ন করা যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না।

তিনি বলেন, আধিপত্যবাদীরা মনে করেছিলো- জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নি:শেষ করে দেয়া যাবে। কিন্তু তা হয়নি। জীবিত জিয়ার চেয়ে মৃত জিয়া আরো জনপ্রিয় হয়েছেন। বিএনপি হচ্ছে গ্রিক রূপকথার ফিনিক্স পাখির মতো। এই দলকে নির্মুল করা যাবে না।

দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা চলছে মন্তব্য করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আজ দেশের গণতন্ত্র ভুলুণ্ঠিত, বাকস্বাধীনতা নেই, অলিখিত বাকশাল চলছে। ক্ষমতাসীনরা সীমা লঙ্ঘন করছে। কিন্তু সীমা লঙ্ঘন করে তারা পার পাবে না।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশকে রক্ষা করতে হবে। এর মাধ্যমেই জঙ্গিবাদকে দমন করা সম্ভব। সেজন্য খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। আওয়ামী লীগসহ আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দল জাতীয় ঐক্যের ডাকে সাড়া না দিলেও জনগণকে সাথে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়া হবে। সেই ঐক্য দেশ রক্ষা করবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY