হাসিনার উন্নতির জোয়ারে ভাসছে দেশ; সারাদেশে বন্যায় ৬০ জনের মৃত্যু

হাসিনার উন্নতির জোয়ারে ভাসছে দেশ; সারাদেশে বন্যায় ৬০ জনের মৃত্যু

76
0
SHARE

সারাদেশে চলমান বন্যায় এ পর্যন্ত ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৩৫০০ জন।

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা দেশের ১৬টি জেলার বন্যায় এই ঘটনা ঘটেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের দেয়া তথ্য মতে, বানের পানিতে ডুবে নয়দিনে শিশুসহ ৫৫ জন ও সাপে কাটায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে উপদ্রুত এলাকায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে তিন হাজার মানুষ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানায়, ১৬ জেলার ৭২ উপজেলার ৩৭৮ ইউনিয়নের ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৯১৪টি পরিবার এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার ১১২টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

দুর্গত এলাকায় পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের রোগবালাই। ডায়রিয়া, চর্মরোগ, চোখের প্রদাহ, শ্বাসনালির প্রদাহসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বানভাসিরা।

এদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যার পানি কমতে থাকলেও দেখা দিয়েছে বন্যা-পরবর্তী নানা সমস্যা। সিরাজগঞ্জের যেসব অঞ্চল গো-খামারের জন্য বিখ্যাত, সেখানে দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট।

বগুড়ায় স্থগিত করা হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা। অন্যদিকে দক্ষিণে পদ্মা ও মেঘনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চাঁদপুরে দেখা দিয়েছে নতুন করে বন্যার আভাস।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

সিরাজগঞ্জ
জেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দেখা দিয়েছে মানুষ ও গবাদি-পশুর খাদ্য সংকট। বন্যার কারণে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফলে প্রয়োজনমতো খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারছে না বানভাসি মানুষ।

এদিকে বন্যার পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকার গো-চারণ ও তৃণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় দেশের দুগ্ধ এলাকাখ্যাত শাহজাদপুরে দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট। বানভাসি মানুষ কিছু ত্রাণসামগ্রী পেলেও প্রাণিসম্পদের জন্য কিছুই জুটছে না; যার কারণে গরু-মহিষ নিয়ে মহাবিপদে রয়েছে বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষ।

শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রেশমবাড়ী গ্রামের খামারি সুলতান মাহমুদ বলেন, বন্যার কারণে এমনিতে নিজেরাই বিপদে আছি। তার ওপর গবাদি পশু রাখার জায়গা ও গো-খাদ্য নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে সংকট। বন্যার পানিতে গো-চারণভূমি তালিয়ে যাওয়ায় গরুকে কাঁচা ঘাস খাওয়াতে পারছি না। ফলে দুধ উত্পাদনও কমে গেছে।

কই উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের ব্রজবালা গ্রামের আব্দুস সাত্তার জানান, এলাকায় খৈল, খড়, ভুসিসহ গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে অত্যধিক। সব মিলিয়ে মহাসংকটে আছেন বন্যা এলাকার খামারিরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, বেলকুচি, চৌহালী ও সদর উপজেলায় বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে সাত লাখ গরু, দেড় হাজারেরও অধিক মহিষ, ১৮ হাজার ছাগল, প্রায় সাত হাজার ভেড়া ও প্রায় ৫০ হাজার মুরগি।

শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল হাই জানান, বন্যায় শাহজাদপুরের ৩ লাখ ৭০ হাজার গবাদি পশু আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলার সব গো-চারণভূমি ডুবে গেছে, যার কারণে গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। এ সুযোগে ব্যবসায়ীরা গো-খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

চাঁদপুর
দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দক্ষিণের চাঁদপুর জেলায় দেখা দিয়েছে নতুন করে বন্যার আভাস। পদ্মা আর মেঘনা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ফলে চাঁদপুর শহরের নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

শহর এলাকার রহমতপুর আবাসিক এলাকা, বঙ্গবন্ধু সড়ক, দর্জিঘাট, মাতব্বরবাড়ী, মাঝিবাড়ী, তরপুরচণ্ডী, হানারচর, চান্দ্রা ও বালিয়া ইউনিয়নের নিচু এলাকা পানিতে থৈ থৈ করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের গ্রেড রিডিংম্যান মো. সেলিম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মেঘনা নদীর পানি বিপত্সীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে সদর উপজেলার চরাঞ্চল ও শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মেঘনা নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধে প্রবল স্রোত এসে আঘাত হানছে। তাছাড়া শহর রক্ষা বাঁধের সিসি ব্লকের ভেতরে পানি প্রবেশ করছে।

বগুড়া
বন্যার কারণে বগুড়ায় ৪৯৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার থেকে জেলার সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলার এসব প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু বন্যার কারণে বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষা কমিটির বৈঠক থেকে এসব পরীক্ষা স্থগিত করার ঘোষণা দেয়া হয়।

সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় বন্যার পানি প্রবেশ করায় সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বুধবার দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার কথা থাকলেও বন্যার পানি প্রবেশ করায় সেখানে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি না। সংগত কারণেই উপজেলার ১৬৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

লালমনিরহাট
জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গদ্দিমারী, সিন্দুর্ণা, ডাউয়াবাড়ী, পাটিকাপাড়া, কালীগঞ্জের তুষভাণ্ডার, কাকিনা, ভোটমারী, আদিতমারীর মহিষখোচা, লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুণ্ডা, রাজপুর ও খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ বন্যার কারণে চরম সংকটে দিন যাপন করছে। ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যেরও সংকট চলছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY