দিঘলিয়ায় ওয়াপদার বেড়িবাঁধে ভাঙ্গন হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী

দিঘলিয়ায় ওয়াপদার বেড়িবাঁধে ভাঙ্গন হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী

125
0
SHARE

প্রবল বর্ষণ এবং ভৈরব ও আতাই নদের জোয়ারের পানির চাপে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার দক্ষিণ চন্দনীমহলে ওয়াপদার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পাঁচ শতাধিক ঘর বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়া পুকুর ও মৎস্য ঘের ভেসে কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অপরদিকে দিঘলিয়া ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়ে বসত বাড়িসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও নদীতে জোয়ারের পানির চাপে ওই এলাকার আবুল হাওলাদার, বিকাশ বিশ্বাস, রামভদ্র, হরিচাঁদ সরকার, আওয়াল হাওলাদারসহ আরও কয়েক জনের বাড়ি সংলগ্ন ওয়াপদার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করেছে। পানিতে ভুইপাড়া, মালোপাড়া, কাঁটাবনসহ দক্ষিণ চন্দনীমহলের পাঁচ শতাধিক পরিবার জোয়ারের পানিতে ডুবে আছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। জোয়ারে অর্ধ শতাধিক পুকুর, মৎস্য ঘের ও ফসলী জমি তলিয়ে গেছে। বর্তমানে প্লাবিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে।
পাবেল সরদার জানান, তার তিনটি মাছের ঘের ভেসে গেছে। এতে তার প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আজাহার মল্লিকের চিংড়ি ঘের, কালি দাশের পাঙ্গাসের ঘেরসহ বেশ কয়েকটি ঘের তলিয়ে গেছে। এতে করে মৎস্য চাষিরা আর্থিক ভাবে ব্যাপক ক্ষতির মধ্যে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মিলন বিশ্বাস, রাজ কুমার, খোকন দাস, রশিদ শেখসহ স্থানীয় আনেকে জানান, ভাঙন প্রতিরোধে এখনি কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জনবহুল সেনহাটী ইউনিয়নের চন্দনীমহলসহ ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ব্যাপারে সেনহাটী ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জিয়াউর রহমান জানান, তিনি ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
কাউখালী (পিরোজপুর) : কাউখালীতে  উজানের পানি নেমে আসায় ২৫ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অমাবস্যার ও উজানের পানি অব্যাহতভাবে ধেয়ে আসায় এবং ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে কচা ও সন্ধ্যা নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় গত তিন দিনে  উপজেলার অন্তত ২৫ গ্রাম ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।
প্লাবিত গ্রামের মধ্যে রয়েছে আমরাজুড়ি, আশোয়া, জব্দকাঠী, কুমিয়ান, সোনাকুর, রঘুনাথপুর, ধাবরী, মেঘপাল, বেকুটিয়া, সুবিদপুর, নিলতী, পাঙ্গাসিয়া, জোলাগাতী, শিয়ালকাঠী, চিরাপাড়া, বিড়ালজুরি, আসপদ্দি, জয়কুল, বৌলকান্দা, রোঙ্গাকাঠী, গন্ধর্ব। গ্রামগুলোর ঘর ডুবে যাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধরা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেনা। গ্রামগুলোর কাচা রাস্তাগুলো পানির তোড়ে ধসে গেছে। এদিকে উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের ১১ কিলোমিটারের ৭ কিঃ মিঃ বেড়ীবাঁধ কচা নদীতে ভেসে গেছে। ফলে ওই সকল এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির সহ অর্ধ শতাধিক ভবনে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে।
অমাবস্যার  জোয়ার ও ভারি  থেকে মাঝারি বৃষ্টিতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। খেটে খাওয়া মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। বেকুটিয়া ফেরি ঘাট ও আমরাজুরি ঘাটের গ্যাংওয়ে তলিয়ে থাকায় ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY