নরমে গরমে চলছে হাসিনার “জঙ্গি দেশ বানানো মিশন!”

নরমে গরমে চলছে হাসিনার “জঙ্গি দেশ বানানো মিশন!”

73
0
SHARE

নরমে গরমে চলছে হাসিনার “জঙ্গি দেশ বানানো মিশন!”
========================
পশ্চিমা বিশ্বে চলমান তথাকথিত ইসলামী জঙ্গিবাদ, আইএস হামলায় যখন তটস্থ, তখন হাসিনাও বাংলাদেশে ‘ইসলামী জঙ্গিবাদ’ ইস্যূ তৈরী করে বিনা ভোটে ক্ষমতায় থাকার তরিকা হাতে নিয়েছে। বিশেষ করে ২০১৪ বিনা ভোটে ক্ষমতায় বসার কিছুকাল আগে থেকেই হাসিনার পুলিশের ডিবির মনিরুলের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থান থেকে জেএমবি, হুজি, আনসার আল ইসলাম, বাংলা-৭ নানান নামের জঙ্গিবাদ জন্ম দিতে থাকে! এক পর্যায়ে মনিরুল নিজেই বার বার আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় দাবী করে- “আল কায়েদা এবং আইএস ধরেছি।” কিন্তু বাস্তবে এরকম কোনো সংগঠনের কার্যক্রম না থাকলে ডিসিডিবির নিজস্ব ব্যবস্থায় এগুলো সৃষ্টি করে ক্রেডিট নিতে থাকে।

২০১৩ সালে শাহবাগী তান্ডব শুরু হলে ব্লগার নামধারী কয়েকটা ছেলেকে হত্যা করে মনিরসৃষ্ট বাংলা-৭ নাম দিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করা হয়। আসলে এসব খুন ডিবির কিলার গ্রুপ দিয়ে করিয়ে টেবিলে বসে গল্প বানায়। কিছু শাহবাগী বুঝতে পারে যে, তারা সরকারের শিকার হচ্ছে, তাই জীবন বাঁচাতে দেশ ছাড়ে। এরপরে একই কায়দায় হত্যা করা হয় তাভেল্লাসহ কয়েকজন বিদেশী। হত্যাকান্ডগুলি এমনভাবে ঘটানো হয় যে, সিসিটিভি ফুটেজ হারিয়ে যায়, কোনো সাক্ষীপ্রমান থাকে না! ফলে হাত-বানানো গল্পই গিলানো হয় মিডিয়াকে। দেশ বিদেশে প্যানিক চরমে উঠে। তখন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমারা চাপ দেয়- “তোমাদের ওখানে আইএস আছে। আমরা ঢুকতে চাই।” এতে প্রমাদ গুণে হাসিনা- “না না, আইএস নাই- এরা দেশীয় জঙ্গি!” উর্ধতন আবাল পুলিশকর্তাদের আস্কারা পেয়ে গোপালী মনিরও তার কর্মকান্ড চালাতে থাকে প্রবল বেগে। পরে সে স্ট্রং-তদবীর করে ৫ বছরের সিনিয়রিটি বাইপাস করে ডিআইজি পদ বাগিয়ে সিটিটিসি সেল খুলে সেটার দায়িত্ব নিয়ে বসে।

এরি মধ্যে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাও তাদের স্বার্থে হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখাতে এ তরিকাটিকে উপাদেয় মনে করে নানা পরামর্শ ও পরিকল্পনা দিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য পুরনে কাজ চালাতে থাকে। গোপালী মনিরের সাথে পরিপুরক হিসাবে থাকে তারই গুরু আরেক গোপালি বেনজির। মূলত বেনজির, মনিরুল, নিহত ওসি সালাউদ্দিন, মিরপুরের ওসি মাহবুব এরা সবই একই এলাকার, একই স্কুলের ছাত্র। বেনজির এদের সিনিয়র, সে-ই তাদের গুরু ও প্রমোটার। দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য মুফতি মাহমুদ খান নামে এক সেনা অফিসারকে র্যা বের মিডিয়া ও লিগাল সেলের কমান্ডার বানিয়েছে বেনজির। সে কোনো ইসলামী মুফতি নয়, ওটা তার নাম! এই লোককে দিয়ে সাজানো গুছানো গল্প প্রকাশ করে বেনজির, যাতে পাবলিক মনে করে এগুলো সত্যি কথা! শঠতা ও প্রতারণার কত প্রকার আছে, হাসিনার এই পঙ্গপালদের না দেখলে বোঝা যায় না।

গুলশানের হামলাটি তেমনই একটি পরিকল্পিত ঘটনা। খুব চৌকস কিলার দিয়ে ঘটনাটি ঘটিয়ে অতি দ্রুত ২০/২২টি খুন করিয়ে কিলারদের বের করে আনা হয়, এলাকা খালি করে নিজেদের হাতে থাকা কিছু ছেলের হাতে অস্ত্র ধরিয়ে পরে নির্মমভাবে হত্যা করে জঙ্গি ট্যাগ লাগানো হয়। খুনখারাবির ছবি আইএস সাইটে প্রকাশ করে ভয়াবহতা বাড়ানো হয়, কিন্তু এতে আন্তর্জাতিক মহল তটস্থ হয়ে উঠলে হাসিনা লোকজন আবার কোরাস ধরে- এরা আইএস নয়, লোকাল জেএমবি! আগে মাদ্রাসার বিরুদ্ধে সজীব জয়ের প্রোপাগান্ডা থাকলেও এবারে ভারতীয় পরিকল্পনায় টার্গেট করা হয় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও নামীদামী ইংলিশ স্কুলগুলি। এসব স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ধর্মপ্রাণ কয়েক’শ ছেলে বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করে র্যা ব-পুলিশের গুপ্ত জেলে আটকে রাখে দীর্ঘদিন। পরে তাদের দিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানান গল্প সৃষ্টি করে বিভিন্ন অপারেশন করা হয়, কোথাও আটক, কোথাও হত্যা করা হয়। মূলত, এসকল সাজানো জঙ্গি অপারেশন। শোলাকিয়া ও কল্যাণপুরেও তাই ঘটেছে। পুলিশের হাতে আটক থাকা ছেলেদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে মনিরুল্যার বাহিনী, সেটা বিভিন্ন ভাবে প্রমান হয়েছে। মূলত, গুলশানের ঘটনাটি আইএসের নয়, সেটা বিদেশীদেরকে বিশ্বাস করানোর জন্যই ঘটানো হয় কল্যাণপুর, তদন্ত শরু হওয়ার আগেই আইজিপি শহীদ ও ডিএমপি কমিশনার আসাদু বলতে থাকে- এরাও গুলশানের মতই, এরা আইএস নয়, এরা লোকাল জঙ্গি!! কি বোকার দল- মানুষ কি এসব বোঝে না?

তবে এসব মারাত্মক ঘটনার বাই-প্রোডাক্ট হিসাবে দেশের সর্ববৃহদ বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ-সাউথের উপরে চলছে সরকারী খবরদারী- ছাত্র কমে যাচ্ছে, মাস্টারমাইন্ড স্কুল বন্ধ, পিস স্কুল গুলি বন্ধের আদেশ দিয়েছে নাহিদ, নানান যায়গায় যুবক তরুনদের ধরপাকড় করে জঙ্গি ট্যাগ লাগানো হচ্ছে, পুলিশের হাতে আটক হওয়া বেশ কিছু ছেলেদের নাম দিয়ে “নিখোঁজ তালিকা” প্রকাশ করা হয়েছে। অবস্থা এত দুর্বিসহ যে, কারো সন্তান আটক হলে বা খোঁজ না পাওয়া গেলেও পুলিশী হয়রানির ভয়ে সেটা কাউকে বলতেও ভয় পাচ্ছে!! ভয়াবহ এসব ঘটনাল ফল পেতে শুরু করেছে ভারত- বাংলাদেশের গার্মেন্ট অর্ডার ভারতে চলে গেছে, বাংলাদেশের মেট্রোরেল থেকে জাইকা চলে যাওয়ার অবস্থা তৈরী হয়েছে- শেষে এই কাজ নিবে ভারত! বাংলাদেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ভালো করায় ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশী ৬০ ভাগ ছাত্র কমে গেছে; এখন বাংলাদেশের এই কৃত্রিম জঙ্গিবাদ দিয়ে নর্থসাউথের মত বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে খোড়া করায় আবার ছাত্ররা হবে ভারতমুখি!

আজ বৃটিশরা বলেছে আরও বড় হামলা হবে। কূটনীতিকরা তাদের পরিবার দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। আলামত দেখে বোঝা যাচ্ছে, আরও ঘটনা ঘটবে। সোর্স বলছে, পুলিশের হাতে আরও কিছু আটককে দিয়ে নাটক সৃষ্টি করবে। মানুষকে বিশ্বাস করানোর জন্য আরও ভীষন চমক সৃষ্টি করা হবে। মূলত ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, কেননা ২ বছরের মধ্যে ইলেকশন দেয়ার জন্য বিদেশীদেরকে কথা দিয়েছিল হাসিনা। এটা থেকে বাঁচতে হাসিনা কৃত্রিম জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে এখন বিদেশীদের বোঝাতে চেষ্টা করছে- “দেখো, দেশে কত ইসলামি জঙ্গি, মানুষ খুন করতেছে। এদের দমন করতে আমাকেই দরকার! ইলেকশনের কি কাজ?” কিন্তু এই অকাজ করতে গিয়ে সে অলরেডি দেশী বিদেশী বহু হত্যা করে ফেলেছে। জাপানি ৭ ইঞ্জিনিয়ার এডভাইজার, ইতালির ৯ গার্মেন্ট বায়ার হত্যা এ দু’টি দেশ মারাত্মক ক্ষিপ্ত। এসব ভয়াবহ ঘটনার পেছনের গল্প ও সূত্র ইতোমধ্যেই বিদেশীরা জেনে গেছে। তাই সম্ভবত শেষ রক্ষা হচ্ছে না হাসিনার। “হয় ইলেকশন, নয় বিদায়”- পশ্চিমাদের সেই সূত্র ধরেই কাজ চলছে। আগামীতে সরকার পরিবর্তন হলে যেনো অসুবিধা না হয়, সে জন্য ভারতও তৈরী হচ্ছে- খুব দ্রুত হাসিনার সাথে গোপন চুক্তি সেরে ফেলছে। পরিস্থিতি খারাপ দেখে হাসিনাও এবার একটু টোন টাউন করেছে, বেনজির-মনিরা আবার নতুন করে জীবিত হুজি ধরা জেএমবি ধরার নাটক শুরু করছে। এরি মাঝে বিএনপির ‘ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐকমত’ চেষ্টাও আগাচ্ছে- চেষ্টা হবে এখান থেকে বড় একটা কিছু করার। সব মিলিয়ে ফলাফল কি হবে তা দেখতে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নাই।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY