হাসিনার রাজত্বে সর্বনিকৃষ্ট কুকাজ

হাসিনার রাজত্বে সর্বনিকৃষ্ট কুকাজ

116
0
SHARE

হাসিনার রাজত্বে সর্বনিকৃষ্ট কুকাজ- বিসিএস চাকরি পেতে হলে লাগে ইউনিয়ন আ”লীগ সভাপতির সুপারিশ!

৩৭ তম বিসিএসের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হয়ে গেলো। এতে বিভিন্ন ক্যাডারে ১৩০০টি পদে নিয়োগের জন্য আহবান করা হয়েছে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগ নিয়ন্ত্রিত মহাজোট সরকার ৭টি বিসিএসে ২০,৭৮৩ জন নিয়োগ দিয়েছে। ৩৫ ও ৩৬ বিসিএসে আরো ৪ হাজার নিয়োগ প্রকৃয়াধীন। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ২৭ হাজার বিসিএস অফিসার নিয়োগের দাবীদার আ’লীগ।

এ সময়ে ৩ জন পিএসসি চেয়ারম্যান বদল হয়েছে। এরমধ্যে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরে পিএসসি চেয়ারম্যান ছিলেন ডঃসাদত হুসাইন। নীতিবান আমলা হিসাবে পরিচিত সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাদত হুসাইনকে নিয়া হাসিনার সরকার বড্ড বেকায়দায় ছিলো। তদবীর এবং লীগের হুকুম আহকাম প্রতিপালনে তিনি ছিলেন কঠোর। ফলে বার বার তার কাছে ফোন যেতো- পদত্যাগ করুন। ব্যর্থ হয়ে ডঃ সাদতকে পদে পদে আটকাতে থাকে সরকার। বাধ্য হয়ে বছর দু’য়েক পরে বিদায় নেন তিনি। আসেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আহমেদুল হক, পরে ইকরাম আহমেদ এবং সবার শেষে আসেন সাবেক সচিব ডঃ মোঃ সাদিক বর্তমান।

আহমেদুল হক ছিলেন শেখ হাসিনার সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা, ইকরাম আহমেদ হলেন তারানা হালিমের দুলাভাই, বর্তমান চেয়ারম্যান সাদিক চরম আওয়ামী কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত। এছাড়া এ সময়ে সদস্য হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ছাত্রলীগ ব্যাকগ্রাইন্ড অথবা আত্মীয়স্বজন। এরা নিয়োগ প্রকৃয়াকে ক্রমাগতভাবে দলীয়করন করতে করতে এমন অবস্থায় পৌছেছে যে, এখন বিসিএস নিয়োগ লাভ করতে হলে আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তান হতে হবে। নিয়োগের জন্য দরকার হয় আ’লীগের ইউনিয়ন কমিটির সভাপতির সুপারিশ। সেই সুপারিশ লাভ না করতে পারলে যত বড় মেধাবীই হোক না কেনো, ভাইবায় পাশ করুক না কেনো চুড়ান্ত ফলাফলে বাদ পড়বেন। মূলত ভাইবার রেজাল্ট প্রকাশের পূর্বে সম্ভাব্য পাশ হবে এমন প্রার্থীদের জন্য একটি কুইক ভেরিফেকেশনে পাঠানো হয় সংশ্লিষ্ট থানায়। থানার ওসি আ’লীগের থানা সভাপতিকে ডেকে প্রার্থী সম্পর্কে মতামত জানতে চান, তিনি সেটা পাঠিয়ে দেন ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতিকে। ইউনিয়ন সভাপতি লিখিত প্রত্যায়নপত্র দিলে সেটা সহ ওসি উপরের দিকে পাঠান। যাদের যাদের আ’লীগ পজিটিভ রিপোর্ট আসবে, কেবল তাদের নামেই নিয়োগের চুড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। অনেক সময় টাকা পায়সা বা ভিন্ন প্রকৃয়ায় ইউনিয়ন সভাপতির প্রতায়নেও বিসিএস পার হওয়ার নজির আছে। এমনকি এসব কারনে ২৯ বিসিএস পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথম হওয়ার পরেও নিয়োগ পায়নি কুমিল্লার আউয়াল, তিন বছর পরে হাইকোর্ট করে চাকরি পেতে হয়েছে।

এসব দেশে প্রক্তিন পিএসসি চেয়ারম্যান ডঃ সাদত হসাইনে বলছেন- ‘আজকে গণমাধ্যম অভিযোগ করছে, মেধাশূন্যদের দিয়ে প্রশাসন চলছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে বলছেন, সচিবদের সহযোগিতা পাই না। এর কারণ হচ্ছে, পিএসসি পরীক্ষার নামে মুড়ি-মুড়কি এক করে ফেলছে। প্রশাসনের কেউ কেউ সচিব তো দূরের কথা সেকশন অফিসার হওয়ারও যোগ্যতা রাখে না।’

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY