ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি ছিল মীরজাফরের মতো অসম ও দাসত্বের চুক্তি

ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি ছিল মীরজাফরের মতো অসম ও দাসত্বের চুক্তি

4175
0
SHARE

প্রান্তিক চাষী, নিউজবিডিসেভেন:

১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ স্বাক্ষরিত হয় তথাকথিত ভারত-বাংলাদেশ পঁচিশসালা মৈত্রী চুক্তি। বাংলাদেশের মানুষের কাছে মুজিবের স্বাক্ষর করা এই চুক্তি দাসত্ব এবং বশ্যতামূলক চুক্তি হিসেবেই পরিচিত। ১৭৫৭ সালের ৩ জুন ক্লাইভ ও মীরজাফরের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির মতোই এটিও একটি অসম ও তাবেদারি চুক্তি। ১৯৫৭-এর চুক্তি মোতাবেক ইংরেজরা যেমন মীরজাফরকে সিংহাসন রক্ষায় সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে নি, তেমনি ১৯৭২ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রতি ভারতীয়রা এক কানাকঁড়ি মূল্যও প্রদর্শন করে নি। একদিকে, চুক্তিটিই ছিল অসম তারউপর চুক্তির অনুচ্ছেদগুলো বাংলাদেশ একপক্ষীয়ভাবে অক্ষরে অক্ষরে পালন করলেও সে চুক্তির অধিকাংশই স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও পালন করেনি ভারত।

 

মুজিব- ইন্দিরা চুক্তির ১ নম্বর অনুচ্ছেদে- একে অপরের ভৌগলিক অখন্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কথা বলা থাকলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী চাকমা যুবক ও তথাকথিত বঙ্গভূমি দাবিওয়ালাদের ভারত আশ্রয়, প্রশ্রয় ও প্রশিক্ষণ দিয়ে চুক্তি ভঙ্গ করেছে প্রথমদিকেই। বর্তমানেও পাহাড়ীদের নেপথ্য পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে দেশটি। এ অনুচ্ছেদে আরও ছিল- এক দেশ আরেক দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে। তবে বাংলাদেশের জন্য সত্য ও বাস্তবতা হলো ভারত সরাসরি এবং অসরাসরি বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতিসহ সাংস্কৃতিক বিষয়েও হস্তক্ষেপ করছে। এমনকি রীতিমত আগ্রাসন চালাচ্ছে। যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্যও হুমকিস্বরূপ। এছাড়াও, সীমান্ত এলাকাগুলোতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে নিরিহ, নিরপরাধ বাংলাদেশিদের ধরে নিয়ে হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন করা হচ্ছে। কাঁটাতারে ঝুলন্ত ধর্ষিত শিশু ফেলানীর লাশটিই যথেষ্ট; প্রমাণের জন্য যে ভারত কোনভাবেই চুক্তি মেনে চলছে না। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবেশিসুলভ আচরণতো দূরের কথা। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, আওয়ামীলীগের ক্ষমতার ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ)হাতে হত্যা হয়েছিল কমপক্ষে ১২৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক। আওয়ামীলীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর সীমান্তে হত্যা আরও বেড়েছে। নিউইয়র্কের হিউম্যান রাইটস ফোরামের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১০ বছরে ৯০০ জন বাংলাদেশ নাগরিক হত্যা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) এর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ২৭ জন, ২০১৪ সালে ৩৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। আসক ও অধিকারের প্রতিবেদন এবং ভারতীয় পত্রিকা দ্য হিন্দুর সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালেই কমপক্ষে ৫৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। আর অপহরণের শিকার হয়েছে ৮৭ জন।

৫ নং অনুচ্ছেদে সম-অধিকারের ভিত্তিতে বাণিজ্যের কথা থাকলেও ভারত- বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ছিল ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এ অর্থবছরে স্বাভাবিকভাবেই আরও বাড়বে। ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদী অববাহিকার উন্নয়নে যৌথ সমীক্ষার কথা বলা হলেও ফারাক্কায় এক তরফাভাবে গঙ্গার পানি প্রবাহ পরিবর্তনসহ-বিভিন্ন নদ-নদীর উৎসমুখে বাঁধ ও স্পার নির্মাণে ভারতীয় দূরভিসন্ধি বাংলাদেশের মানুষ এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। মুজিবতো দূরের কথা তার কন্যা হাসিনা সরকারও সর্বোচ্চ তাবেদারি করেও নদীতে পানি আনতে সক্ষম হয়নি। মমতার বরফই গলাতে পারেনি হাসিনা। সেবাদাসী মনোভাবের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে রাষ্ট্রপরিচালনা করলে কোন ন্যায্য হিস্যা আদায় করা যায় না। ভারত-বাংলাদেশের অভীন্ন সবগুলো নদীই এখন বালুচর ও খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। আর বর্ষাকালে ভারত পানি ছেড়ে দেয় আর বাংলাদেশ ডুবে যায়। বাংলাদেশের চুক্তির ৮,৯ ও ১০ অনুচ্ছেদে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে অবমাননাকর ও পীড়াদায়ক এবং ধারাগুলোর সামার্থ মীরজাফর স্বাক্ষরিত চুক্তির ২ নম্বর ধারার অনুরূপ। মীরজাফরের স্বাক্ষরিত চুক্তির ৩ নম্বর ধারার মতই ৭১ সালে ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশের পাকিস্তানীদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র-শস্ত্র- গোলাবারুদ নিয়ে যায়। মীরজাফরের স্বাক্ষরিত চুক্তির ৮ নম্বর ধারার মতই শেখ মুজিব চুক্তি করেই বাংলাদেশের বেরুবাড়ী ইউনিয়ন ভারতকে দান করে কিন্তু প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ভারত তিন বিঘা জমি বাংলাদেশকে স্বাধীনতার ৪৪ বছরে দেয়নি। সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় বিষয় যে, মীরজাফর ও শেখ মুজিব স্বাক্ষরিত উভয় চুক্তিই ১২ টি অনুচ্ছেদে বিভক্ত।

 

পাঠকের সুবিধার্থে ক্লাইভ-মীরজাফর ও মুজিব- ইন্দিরা স্বাক্ষরিত চুক্তি দুইটি নিম্নে প্রকাশ করা হলো।

 

ইন্দিরা- মুজিব চুক্তি:

১ নম্বর অনুচ্ছেদ- উভয় দেশের জনগণ যে উদ্দেশ্য সম্মিলিত সংগ্রাম ও আত্মোৎসর্গ করেছে, সেই উদ্দেশ্যে ও লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষদ্বয় ঘোষণা করেছে যে, তাদের দুটি দেশ এবং দুইদেশের জনগণের মধ্যে স্থায়ী শান্তি বজায় থাকবে। প্রত্যেক পক্ষ অপর পক্ষের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগলিক অখন্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং অপর পক্ষের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে। চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষদ্বয় উপরে বর্ণিত নীতিমালা এবং সমতা বিরাজমান বন্ধুত্বপূর্ণ সুপ্রতিবেশিসুলভ ও সকল ক্ষেত্রের সহযোগিতা আরও জোরদার ও সুদৃঢ় করবে।

২ নম্বর অনুচ্ছেদ- জাতি, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল জনগণ ও রাষ্ট্রের সম-অধিকারের নীতিমালায় উজ্জীবিত ও পরিচালিত হয়ে চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষদ্বয় সকল প্রকার উপনিবেশবাদ, বর্ণবাদ এবং বৈষম্যকে নিন্দা করে এবং এসবের সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত নির্মূলের লক্ষ্যে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে তারা বদ্ধপরিকর।

উপরোক্ত লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য চুক্তিস্বাক্ষরকারীপক্ষদ্বয় অপরাপর রাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতা করে যাবে এবং উপনিবেশবাদ ও বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত বিশ্বের সকল অঞ্চলের জনগণের ন্যায়সঙ্গত আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি এবং তাদের জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের প্রকি সমর্থন দিয়ে যাবে।

৩ নম্বর অনুচ্ছেদ- চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষদ্বয় জোট নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতির প্রতি তাদের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করছে এবং তারা এই বিশ্বাস পোষণ করে যে, বিশ্বে উত্তেজনা হ্রাস, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং জাতীয় স্বার্বভ্যেমত্ব ও স্বাধীনতা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রেই উপরোক্ত নীতিই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

৪ নম্বর অনুচ্ছেদ- চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষদ্বয় সকল পর্যায়ের বৈঠক ও মতবিনিময়েল মাধ্যমে উভয় রাষ্ট্রের স্বার্থের ক্ষেত্রে প্রভাব সৃষ্টিকারী প্রধান প্রধান আন্তর্জাতিক সমস্যাবলী নিয়ে একে অপরের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করবে।

৫ নম্বর অনুচ্ছেদ- চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষদ্বয় অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সুযোগ- সুবিধা প্রদান ও সার্বিক সহযোগিতা জোরদার ও সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখবে। এই দুটি দেশ সম-অধিকার, পারস্পরিক কল্যাণ ও সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত জাতির নীতির ভিত্তিতে নিজের মধ্যে বাণিজ্য, পরিবহন ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে।

৬ নম্বর অনুচ্ছেদ- চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষদ্বয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং পানি বিদ্যুৎ শক্তি ও সেচের উন্নয়ন ও বিকাশে যৌথ সমীক্ষা চালাতে এবং যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণেও সম্মত হয়েছে।

৭ নম্বর অনুচ্ছেদ- চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষদ্বয় আর্ট, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সম্পর্ক বৃদ্ধি করবে।

৮ নম্বর অনুচ্ছেদ- দুদেশের মধ্যে বিরাজমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অনুযায়ী চুক্তিস্বাক্ষরকারী পক্ষদ্বয়ের প্রত্যেকে ঘোষণা করছে যে, সে অপর পক্ষের বিরুদ্ধে যে কোন ধরনের আগ্রাসন থেকে বিরত থাকবে এবং অপরপক্ষ সামরিক দিক দিয়ে ক্ষতি কিংবা নিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টি হতে পারে এমন যে কোন ধরনের কার্যের জন্য নিজস্ব ভূখন্ড ব্যবহার করার অনুমতি দিবে না।

৯ অনুচ্ছেদ- চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষদ্বয়ের প্রত্যেকে অপরপক্ষের বিরুদ্ধে যে কোন ধরনের সামরিক সংঘর্ষে অংশগ্রহণকারী কোন তৃতীয় পক্ষকে যে কোন প্রকারের সহায়তা প্রদান থেকে নিবৃত্ত থাকবে। এই চুক্তি স্বাক্ষরকারী দুই পক্ষের মধ্যে কোন এক পক্ষ যদি কখনও আক্রান্ত হয় তবে অথবা আক্রমণের হুমকির সম্মুখীন হয়, তাহলে সেই হুমকি নির্মূলের উদ্দেশ্যে যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থাদি গ্রহণের জ্যে চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষদ্বয় অবিলম্বে পারস্পরিক শলাপরামর্শে মিলিত হবে এবং এইভাবে তাদের দুই দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

১০ নম্বর অনুচ্ছেদ- চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষদ্বয়ের প্রত্যেকে ঘোষণা করছে যে, সে গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে, এক বা একাধিক রাষ্ট্রের সাথে এমন কোন অঙ্গীকারে আবদ্ধ হবে না- যা এই চুক্তির সাথে অসংগতিপূর্ণ।

১১ নম্বর অনুচ্ছেদ- এই চুক্তি পঁচিশ বছর মেয়াদের জন্য স্বাক্ষরিত হলো এবং চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষদ্বয়ের পারস্পরিক সম্মতিক্রমে তা নবায়নযোগ্য।

স্বাক্ষরিত হেওয়ার তারিখ থেকে এই চুক্তি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

১২ নম্বর অনুচ্ছেদ- এই চুক্তি কোন অনুচ্ছেদ বা অনুচ্ছেদসমূহের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষদ্বয়ের মধ্যে কোন মতানৈক্যের সৃষ্টি হলে তা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার চেতনায় শান্তিপূর্ণ উপায়ে দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করতে হবে।

(১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ তারিখে সম্পাদিত। এবং ভারত প্রজাতন্ত্রের পক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও বাংলাদেশের পক্ষে শেখ মুজিব চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন।)

 

ক্লাইভ- মীরজাফরের চুক্তি

‘‘আমি আল্লাহর নামে ও আল্লাহর রাসূলের নামে প্রতিজ্ঞা করিতেছি যে, আমার জীবনকালে আমি এই চুক্তিপত্রের শর্তাবলী মানিয়া চলিব।’’

ধারা-১: নবার সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে শান্তিচুক্তির যেইসব ধারা সম্মতি লাভ করিয়াছিল, আমি সেইসব ধারা মানিয়া চলিতে সম্মত হইলাম।

ধারা-২: ইংরেজদের দুশমন আমারও দুশমন, তারা ভারতবাসী হোক অথবা ইউরোপীয়।

ধারা-৩: জাতিসমূহের স্বর্গ বাংলা, বিহার ও উড়ষ্যায় ফরাসীদের সকল সম্পত্তি এবং ফ্যাক্টরিগুলো ইংরেজদের দখলে থাকিবে এবং আমি কখনো তাহাদিগকে (ফরাসীদেরকে) এই তিনটি প্রদেশে আর কোন স্থাপনা প্রতিষ্ঠা করিতে দিব না।

ধারা-৪: নবাব সিরাজ কর্তৃক কলিকাতা দখল ও লুন্ঠনের ফলে েইংরেজ কোমাপআনি যেইসব ক্ষতির সম্মুখীন হইয়াছে তাহার বিবেচনায় এবং তন্নিমিত্তে মোতায়েনকৃত সেনাবাহিনীন জন্য ব্যয় নির্বাহ বাবদ আমি তাগাদিগকে এক ক্রোড় তঙ্কা প্রদান করিবো।

ধারা-৫: কলিকাতার ইংরেজ অধিবাসীদের মালামাল লুন্ঠনের জন্য আমি তাহাদিগকে পঞ্চাশ লক্ষ তঙ্কা প্রদান করিতে সম্মত হইলাম।

ধারা-৬: কলিকাতার জেন্টু (হিন্দু) মূর (মুসলমান) এবং অন্যান্য অধিবাসীকে প্রদান করা হইবে বিশ লক্ষ তঙ্কা। (ইংরেজরা হিন্দুদেরকে ‘জেন্ট’ এবং মুসলমানদের ‘মূর’ ও ‘মেহোমেটান’ নামে অভিহিত করতো।)

ধারা- ৭: কলিকতার আর্মেনীয় অধিবাসীদের মালামাল লুন্ঠনের জন্য তাহাদিগকে প্রদান করা হইবে সাত লক্ষ তঙ্কা। ইংরেজ, জেন্টু, মূর এবং কলিকাতার অন্যান্য অধিবাসীকে প্রদেয় তঙ্কার বিতরণ-ভার ন্যস্ত রহিল এডমিরাল ওয়াটসন, কর্নেল ক্লাইভ, রজার ড্রেক, ওয়াটস, জেমস কিলপাট্রিক এবং রিচার্ড বীচার মহোদয়গণের উপর। তাঁহারা নিজেদের বিবেচনায় যেমন প্রাপ্য তাহা প্রদান করিবেন।

ধারা-৮: কলিকাতার বর্ডার বেষ্নকারী মারাঠা ডিচের মধ্যে পড়িয়াছে কতিপয় জমিদারের কিছু জমি; ঐ জমি ছাড়াও আমি মারাঠা ডিচের বাইরে ৬০০ গজ জমি ইংরেজ কোম্পানিকে দান করিবে।

ধারা-৯: কল্পি পর্যন্ত কলিকাতার দক্ষিনস্থ সব জমি ইংরেজ কোম্পানির জমিদারীর অধীনে থাকিবে এবং তাহাতে অবস্থিত যাবতীয় অফিসাদি কোম্পানির আইনগত অধিকারের থাকিবে।

ধারা-১০: আমি যখনই কোম্পানির সাহায্য দাবি করিব, তখনই তাহাদের বাহিনীর যাবতীয় খরচ বহনে বাধ্য থাকিব।

ধারা-১১: হুগলীর সন্নিকট গঙ্গা নদীর নিকটে আমি কোন নতুন দুর্গ নির্মাণ করিব না।

ধারা-১২: তিনটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হইবা মাত্র আমি উপরিউক্ত সকল তঙ্কা বিশ্বস্তভাবে পরিশোধ করিবে।

 

পাঠক, উপর্যুক্ত দুটি চুক্তিকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে অনুধাবন করা যায় যে, মুজিব মূলত ক্ষমতালোভী ছিলেন, দেশপ্রেমিক ছিলেন না। ক্ষমতার লোভে তিনি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা না চেয়ে অখন্ড পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। যে কারনে তিনি ২৫ মার্চ রাতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানে নিরাপরাধ আশ্রয়ে চলে যান। তারপরও মুজিবকে ছাড়াই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেলে তিনি পরবর্তীতে পাকিস্তান থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। বাংলাদেশে এসে প্রথমেই অবৈধভাবে প্রধানমন্ত্রী হোন। ভারতকে খুশি করতে ইন্দিরা- মুজিব চুক্তির নামে দেশবিরোধী অসম ও সেবাদাসত্বমূলক চুক্তিটি করে মুজিব। ভারতের দয়ায় যাতে প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারে সে খায়েশ পূরণের নিমিত্তে। আর এ সুযোগে ভারত বাংলাদেশের উপর সাম্রাজ্যবাদ ও আগ্রাসন চালাতে সক্ষম হয়েছে। যার ধারাবাহিকতা আজও চলছে।

 

 

 

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY