অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

 অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

15853
0
SHARE

তাজউদ্দীন:

এবার অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ দ্বিতীয় দিনের মত ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন তিনি। বিক্ষোভের মুখে পরে অল্পের জন্য তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন বলে জানা গেছে।

 আজ টানা দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকে যুক্তরাজ্য বিএনপি নির্ধারিত হোটেলের সামনে বার্কিংহামশায়ারস্থ স্টোক পার্কে সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে নিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। ঝাড়ু, কালো পতাকা প্রদর্শন ও স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত ছিল স্টোক পার্ক হোটেলের আশেপাশের অলিগলি। তীব্র প্রতিরোধের মুখে শেখ হাসিনা বের হতে না পেরে অতিরিক্ত পুলিশের সাহায্য নিয়ে একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়ির গার্ডেন দিয়ে পালিয়ে বের হবার সুযোগ করে দেয়া হয়।

বিপরীতে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য। ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী সাথে নিয়ে বিক্ষোভের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন আনোয়ারুজ্জামান। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান নেতাকর্মীদের এরকম নগণ্য উপস্থিতি দেখে মানসম্মান নিয়ে পালিয়ে যান।

যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ এবার যে মূর্খতার পরিচয় দিয়েছে সেটা শেখ হাসিনা ক্ষোভের সাথেই প্রকাশ করলেন। লন্ডন শহরে এই সংগঠনটি ভালো একটি হোটেলেও বুকিং দিতে পারেনি।

আওয়ামীলীগ সূত্রমতে, ২টি ৫স্টার হোটেলে বুকিং দেয়ার পরও বুকিং রাখেনি হোটেল কর্তৃপক্ষ। কারণ এর আগে হাসিনা যতবারই লন্ডনে এসেছেন তাকে ব্যাপক বাঁধার সম্মূখীন হতে হয়েছে। যুক্তরাজ্য বিএনপি হাসিনার হোটেলের সামনে দিনের পর দিন অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। ফলে হাসিনার হোটেলে প্রবেশ কিংবা বের হওয়া রীতিমত বিপদজনক ছিল। এমনকি আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাও শেখ হাসিনার সাথে দেখা করতে এসে হেনস্তার শিকার হয়েছেন। সে কারণে আহুত ঝামেলা এড়াতে হোটেল কর্তৃপক্ষ শেখ হাসিনাকে রাখার বিষয়ে অসম্মতি জানায়।

এদিকে, শেখ হাসিনার করা নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিএনপির মোকাবেলায় ন্যূনতম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সমর্থ হয়নি আওয়ামীলীগ। এর ফলে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগকে অসন্তুষ্ট শেখ হাসিনার কটুবাক্য শুনতে হয়েছে।

এবার লন্ডনে আসার আগেই কয়েকজনকে তার নিরাপত্তার দায়িত্বটি দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। বলেছিলেন বিএনপির মোকাবেলা করতে হবে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে একাধিক সভাও হয়েছে। সভা শেষে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছিলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। আওয়ামীলীগের মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় যুক্তরাজ্যের এ নেতা বেশ কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণসহ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপিকে। বলেছিলেন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা এবার মালিকসহ বিএনপির দাঁতভাঙ্গা জবাব দিবে। কিন্তু তার ঢাকে সাড়া দেয়নি যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীগণ।

যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সিনিয়র এক নেতা জানান, লন্ডনে হোটেল না পেয়ে অক্সব্রিজের কাছে গ্রামের একটি স্পা হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য রুম ভাড়া করা হয়।

তবে বিক্ষোভকারীরা জানান, অত্যন্ত সরু রাস্তার পাশে হোটেলটির প্রবেশ এবং বের হবার রাস্তা ছিল মাত্র একটি। এ যেন ইচ্ছে করেই খাঁচায় বন্দি করা হয়েছিল। হাসিনার জন্য বিএনপির বিক্ষোভ অবস্থান ডিঙ্গিয়ে এই রাস্তা দিয়ে হোটেলে প্রবেশ কিংবা বের হওয়া ছিল অনেকটা অসম্ভব। যদি না বাড়ির গার্ডেন ব্যবহার করা যেত তাহলে হয়তো শেখ হাসিনা কে উদ্ধার করতে হেলিকপ্টারের প্রয়োজন পড়তো। অল্পের জন্য তিনি বি্ক্ষোভকারীদের রোষানল থেকে বেঁচে গেছেন।

দ্বিতীয় দিনের মত বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক, ব্যারিস্টার এম এ সালাম, সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদ, সহ সভাপতি আখতার হোসেন, সাবেক যুগ্ন সম্পাদক নাসিম আহমেদ চৌধুরী,যুগ্ন সম্পাদক তাজ উদ্দিন সাবেক ছাত্রনেতা পারভেজ মল্লিক, কামাল উদ্দিন,সাংগঠনিক সম্পাদক খছরুজ্জামান খছরু। বিএনপি নেতা আশরাফুল ইসলাম হীরা, মুজিবুর রহমান মুজিব, , লন্ডন মহানগর বিএনপি আহবায়ক তাজুল ইসলাম, সদস্য সচিব আবেদ রাজা, আব্দুল কুদ্দুস কদর উদ্দিন খালেদ চৌধুরী,আব্দুর রাশিদ, ফয়ছল আহমদ,তারেক চৌধুরী,এড নুর উদ্দিন আহমদ,সৈয়দ জিয়াঊর রহমান, নজরুল ইসলাম মাসুক,শরিফ ইদিদন বাবু,রোমেল আহমদ, আব্দুস সামাদ আজাদ,তুহিন ইসলাম,রবিউল আলম, হাবিবুল গফফার,এমাদুর রহমান,রাজু চৌধুরী,নাসির আহমদ শাহীন, আবুল হোসেন, অঞ্জনা আলম,  যুক্তরাজ্য জাসাস সভাপতি এম এ সালাম,  যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছা সেবক দলের সহ সভাপতি ডালিয়া বিনতে লাকুরিয়া,হেভেন খান, দেওয়ান নিয়াজ, রহিম উদ্দিন, সোয়ালিহিন করিম চৌধুরী, আফজল হোসেন, দুলাল উদ্দিন,জুল আফরোজ, নুরুল আলী রিপন, জাহাঙ্গীর আহমদ শিমু, জিয়াউর রহমান, জাহেদ আহমদ তালুকদার, আজিম উদ্দিন, সিদ্দিকুর রহমানসহ বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, মহিলাদল, জাসাস, আইনজীবি ফোরাম ও অঙ্গসহযোগি সংগঠনের হাজার হাজার নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY