গণমাধ্যমবান্ধব শহীদ জিয়ার একটি অপ্রকাশিত গল্প…

গণমাধ্যমবান্ধব শহীদ জিয়ার একটি অপ্রকাশিত গল্প…

1960
0
SHARE

তাজউদ্দীন:

সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের উপর আজ ভয়াল কালো থাবা। স্বাধীনতার পর থেকে যতবার আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় বসেছে ততবারই সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের উপর দলন, নিষ্পেশন সকল অতীত ইতিহাসকে ছাপিয়ে গেছে।

সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর সংগ্রহের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে পরের দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুল। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষ চলাকালে সাংবাদিক শিমুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালান জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়র হালিমুল হক মিরু। এর আগে ২০১৫ সালের জুলাই মাসে নিজ বাসার শয়নকক্ষে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে সমকালের জীবননগর উপজেলা প্রতিনিধি আবু সায়েমকে (৩৫) হত্যা করা হয়েছে।

হাসিনার রক্তাক্ত দু:শাসনে সাংবাদিক হত্যা যেন ছেলেখেলায় পরিণত হয়েছে। সাগর রুনিদের মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। রাজধানীতে রামপাল বিরোধী হরতালে পুলিশলীগকে দিয়ে সাংবাদিকদের পশুর মতো পিটানোর এক সপ্তাহের মধ্যেই সাংবাদিক শিমুলকে হত্যা করা হলো। আজ সরকারের তোষামদকারীরাও সামান্য সত্য প্রকাশ করতে গেলে লাশ হয়ে ফিরছে।

কিন্তু বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন গণমাধ্যমবান্ধব। তাঁর ধারাবাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি গণমাধ্যম নিপীড়নের সকল কালো আইন বাতিল করেন। বিএনপির আমলে গণামাধ্যম প্রকাশে জোয়ার দেখা দেয়। খালেদা জিয়াই স্যাটেলাইট গণমাধ্যমের নতুন যুগ চালু করেন।

আজকে আমরা শহীদ জিয়ার সাংবাদিকবান্ধব একটি গল্প প্রতিভাসিত করবো-
১৯৮০ সালের ২৩ মে শুক্রবার। বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গনে খন্দকার মোশতাক আহম্মেদের ডেমোক্রেটিক লীগের জনসভায় প্রচন্ড বোমা বিস্ফোরণের ফলে একজন সাংবাদিকসহ সাতজন নিহত হয়েছিল আর আহত হয়েছিল প্রায় একশজন।

আহতদের মধ্যে পাচঁজন সাংবাদিক ছিলেন। সাংবাদিকরা হলেন-কাজী মোস্তাফিজুর রহমান নিহত (দৈনিক বাংলা),জনাব মাশির হোসেন (দৈনিক বাংলা), জহিরুল হক (দৈনিক বাংলা), আবু সালেহ (দৈনিক দেশ), কামরুজ্জামান (দৈনিক বাংলা), মাহবুবুল আলম (মুক্তিবানী), বাঙাল আব্দুল কুদ্দুস (দৈনিক আকবর), আব্দুল মান্নান (দৈনিক সংগ্রাম)।

আহতদের আর্তচিতকারে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগ ভারী হয়ে উঠেছিল। অনেক রক্তের প্রয়োজন আহতদের বাঁচাতে। ঐ সময় সচেতনতার অভাবে রক্ত সহজলভ্য ছিল না। এ সময় জরুরি বিভাগে এসে উপস্থিত হলেন স্বরির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্বাধীনতার ঘোষক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি ঢাকার নামকরা হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ওই রাতেই মেডিকেলে সমবেত করলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতাদের ডেকে পাঠালেন রক্তের ব্যবস্থা করতে।

সিএমএইচসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বিশুদ্ধ রক্ত আনলেন। পরিচালকের রুমে বসে তিনি সারারাত চিকিৎসাসংক্রান্ত ব্যবস্থাদি মনিটরিং শুরু করলেন। ওই রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল যেন বঙ্গভবনে রূপান্তরিত হলো।

সাংবাদিকদের জন্য দিলেন বিশেষ নজর। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশেষ ব্যবস্থায় অনেক সাংবাদিকদের বাবা-মাকে গ্রাম থেকে আনলেন। শুধু ঐ দিনই দায়িত্ব পালন করে ক্ষান্ত হননি ৩ দিন পর আবার সকল কেবিন কেবিন ঘুরে সাংবাদিকদের শারীরিক খবর, পারিবারিক খবর নিলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতাল, পিজি হাসপাতালসহ লন্ডনের হারমি স্ট্রিট এবং হেমার স্মিথ হাসপাতালে বড় বড় সকল হাসপাতালে রাষ্ট্রীয় খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন।
যখনি আহত সাংবাদিকদের সাথে রাষ্ট্রপতি জিয়ার দেখা হতো, কাছে ডেকে নিতেন। পরিবারের খবর নিতেন। শরীরের খবর নিতেন। স্প্রিন্টার নিয়ে বেঁচে থাকা আহত সাংবাদিক গণকৃতজ্ঞতা জানাতেন হাসি মুখে।

-এই হলো শহীদ জিয়ার গল্প। আর বাকশাল মুজিবের ধারাবাহিকতায় হাসিনা পুরো গণমাধ্যমের কণ্ঠ চেপে ধরেছে। সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন, হাজার হাজার সাংবাদিককে বেকার করা এবং গণমাধ্যম বন্ধে পৃথিবীর সব স্বৈরাচারকে হার মানিয়েছে হাসিনা।

সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনারা হাসিনার তোষণ বন্ধ করুন। নচেত একে একে আপনাদেরও শিমুলের ভাগ্য বরণ করতে হবে। হাসিনা রক্তের খেলায় মেতে উঠেছে। হাসিনাকে রুখতে না পারলে রক্তের মিছিল কাউকে নিস্তার দিবে না।

taj pic new

তাজউদ্দীন

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY