ওবায়দুল কাদেরের নারী ড্রাইভার ও রসলীলা

ওবায়দুল কাদেরের নারী ড্রাইভার ও রসলীলা

57
0
SHARE

তাজউদ্দীন:

শেখ হাসিনার ইদানিং মৃণালকান্তিদেরই পছন্দ। সৈয়দ আশরাফকে সরিয়ে তিনি পাশে বসিয়েছেন ওবায়দুল কাদেরকে। যাকে বলা হয় নারীখোর কাদের। ছাত্রলীগের নেত্রীদের কাছে ওবায়দুল কাদের একজন প্লে বয় হিসেবেই পরিচিত। বিশেষ করে ইডেনের ছাত্রলীগ নেত্রীরাতো কাদেরের রসের গল্প বলতে বলতেই তাদের রাজনৈতিক সময় কাটায়। সেই কাদের এবার প্রকাশ্যেই তার নারীদের প্রতি আকর্ষণের কথা স্বীকার করলেন।

তিনি জানিয়েছেন, ছে‌লে‌দের মাথা গরম, নারী ড্রাইভার চাই।

নারী চালক‌দের সংখ্যা বাড়া‌নোর কথা জানিয়ে সড়ক প‌রিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ব‌লে‌ছেন, ছে‌লেদের মাথা গরম, এবার নারী ড্রাইভার চাই।

অনুষ্ঠানের প্রধান ‍অতিথি ওবায়দুল কাদের ব‌লেন, নারী চালক‌দের সংখ্যা বাড়া‌তে হ‌বে, কারণ তাদের মাথা ঠাণ্ডা থা‌কে। আর ছে‌লে‌দের মাথা গরম থাকে।

যোগাযোগমন্ত্রীর এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় পরমাণু বিজ্ঞানী ও মেডিকেল ফিজিসিস্টের কাছে। তিনি বলেন, মস্তিষ্কই মানুষের শরীর ও মনের চালিকাশক্তি। ‘পজিট্রন এমিশন টমোগ্রাফি (পেট)’, ‘ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (এমআরআই)’, ‘ব্রেইন টপোগ্রাফিক ইলেকট্রো এনসিফ্যালোগ্রাফি (ইইজি)’ ইত্যাদি ইমেজিং পদ্ধতির প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে মস্তিষ্কের দ্বিমাত্রিক এবং ত্রিমাত্রিক বিশ্লেষণ সম্ভব হওয়ায় মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের ক্ষেত্রফল, আয়তন, পুরুত্ব নিউরনের সংখ্যা ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়।

গত ১০ বছরে বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানীদের পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, পুরুষ ও মহিলাদের মস্তিষ্কে গঠনগত পার্থক্য ছাড়াও আছে তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতির ভিন্নতা। তাই তাদের উপলব্ধি, কল্পনা, স্বভাব ও পারদর্শীতার ক্ষেত্রগুলোও ভিন্ন।

শারীরিক কাঠামোর দিক দিয়ে পুরুষরা অধিক শক্তিশালী এবং পেশিশক্তিও তাদের বেশি। সাধারণভাবে পুরুষদের মস্তিষ্কের ওজন মহিলাদের তুলনায় ১০০ গ্রাম এবং মস্তিষ্কের কোষকলার সংখ্যা ৪% বেশি।

শরীরবৃত্তীয় কারণেই পুরুষ ও মহিলাদের অনুভূতির ক্ষেত্রেও পার্থক্য বিদ্যমান। পুরুষদের মধ্যকরোটিগত লোব যা গণনা সংক্রান্ত কার্য সম্পাদন করে থাকে, তা অপেক্ষাকৃত বড় হওয়ায় তারা সাধারণভাবে অংক, জ্যামিতি ইত্যাদিতে পারদর্শী হয়। স্থান সম্পর্কিত ধারণা বেশি থাকায় তারা অনেকটা সহজে মানচিত্রের ভাষা বুঝতে পারে।

এখন প্রশ্ন হলো নারীরা হলো আবেগপ্রবণ জাতি। নরম ও কোমল স্বভাবের। নারীরা ড্রাইভিংয়ের মতো জটিল বিষয়ে কিভাবে ভাল করবে? নাকি কাদের সাহেবের রসিক মন আর বাঁধ মানছে না?

ইডেন কলেজের একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী জানায়, যেখনেই ললনা সেখানেই ওবায়দুল! ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার আগে থেকেই ওবায়দুলের এই লুতুপুতু কাজকর্মের সুনাম ছিল! নানা ঘাট পার হয়ে আ’লীগের সাধারন সম্পাদক হওয়ার পরও অভ্যাস ছাড়তে পারছেন না।

কারনে অকারনে নারীদের সাথে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়। এরকম অসংখ্য তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। মেয়েদের চরিত্র হনন হওয়ায় ভয়ে তাদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করছি না। কারণ এদের মধ্যে অনেককেই জোর করে এবং বাধ্য করে ব্যবহার করা হয়েছে।

রোকেয়া হলের একজন ছাত্রলীগ কর্মী নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, আমি নিতান্ত গরীব পরিবার থেকে এসেছি। ঢাকায় মেসে বা বাসায় থেকে পড়ালেখা করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই হলে থাকাটা জরুরী। হলে থাকতে গিয়ে আমাকে ছাত্রলীগের বড় আপুদের নির্দেশ মেনে চলতে হয়েছে। আমাদের জোর করে ও বাধ্য করে বিভিন্ন মন্ত্রী, এমপি ও নেতাদের কাছে পাঠানো হতো। এরমধ্যে কাদের ভাই অন্যতম। তার সুনজর ছাড়া কারও নেতা হওয়া আকাশের চাঁদ ধরার মতো দুষ্কর।

এখন সেই ওবায়দুল যখন বলছেন পুরুষদের মাথা গরম, তাই তিনি নারী গাড়ি চালক চান। তার আগে আমাদের মনে রাখতে হবে, ২০১৩ সালে ইডেন কলেজে ছাত্রলীগ নেত্রীদের দ্বারা জোর করে সাধারণ ছাত্রীদেরকে দিয়ে দেহব্যবসা এবং দলীয় নেতাদের মনোরঞ্জনে পাঠানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার সময় তখন অনেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ওবায়দুল কাদেরেরও নাম বলেছিল। অন্য আরো কয়েকজন নেতার মতো মনোরঞ্জনের জন্য ওবায়দুলের বাসায়ও সুন্দরী ছাত্রীদের পাঠানো হতো। এছাড়াও কারনে অকারেনে ওবায়দুলের নারীসঙ্গপ্রিয়তার কথা সাংবাদিক মহলের সবাই ভালই জানেন।

এমনকি রোগী দেখতে গিয়েও হাসপাতালে মহিলাদের জাপটে ধরার চিত্র ক্যামেরাবন্দী হয়ে আছে। আওয়ামীলীগের সদ্য হওয়া সাধারণ সম্পাদকের এখন নারী ড্রাইভারের বিষয়টিকে সবাই ভিন্নভাবে দেখছেন।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY