হে বাংলাদেশ, তুমি হিন্দুস্থান হতে আর কতটুকু বাকি? আবারও হাসিনার পড়নে ভারতের...

হে বাংলাদেশ, তুমি হিন্দুস্থান হতে আর কতটুকু বাকি? আবারও হাসিনার পড়নে ভারতের পতাকার রঙের ডিজাইন করা শাড়ি

826
0
SHARE

 

তাজউদ্দীন:

হে বাংলাদেশ, তুমি ভারত হতে আর কতটুকু বাকি? রাস্তার বারবণিতারা সামান্য পেটের চাহিদা মেটাতে যেমন অল্প পয়সায় নিজের শরীর জনে জনে বিলিয়ে দেয়, শেখ হাসিনাও তেমনি ভারতের কাছে বিলিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের শরীর। নিজের শরীরতো দাদাদের কাছে বিলাতে বিলাতে ধোত্রা দিয়ে গেছে। এখন বাংলাদেশটাকে দাদাদের ভোগের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। ভারতের ঘুণে ধরে গেছে বাংলাদেশের নরম শরীর। বাংলাদেশ যেন ভারতের বাণিজ্যাগারে পরিণত হয়েছে।

বারবার শেখ হাসিনা জাতীয় অনুষ্টানসহ বিভিন্ন সভা সমাবেশে ভারতের পতাকার আদলে ডিজাইন করা শাড়ি শাড়ী পড়েন । শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের আয়োজনে ডাকা সমাবেশে শেখ হাসিনা ভারতীয় পতাকার ডিজাইনের শাড়ি শাড়ী পড়ে আসেন। এর আগে ২০১৪ সালে দুইবার একই কাণ্ড করেছিলেন তিনি। একবার জানুয়ারি মাসে ভারতের সাথে বাংলাদেশের ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে ভারতীয় পতাকা ডিজাইন করা শাড়ি শাড়ী পড়ে স্টেডিয়ামে গিয়েছিলেন তিনি।

অন্য আরেকটি উপলক্ষে একই বছরের ডিসেম্বরে একই রংয়ের শাড়ি পরেছিলেন।
বাংলাদেশের পতাকা লাল-সবুজ । সাদার বালাই নাই। ভারতীয় পতাকায় সাদা আছে । মজার ব্যপার হচ্ছে শেখ হাসিনার শাড়ীতে ভারতীয় পতাকার অশোক চক্রের আদলে চক্রও আছে। এতো কিছুর মিল হয় কিভাবে? দেশের প্রধান মন্ত্রীর শাড়ীর ডিজাইনরা কারা? তারা কি জেনে বুঝেই এসব করছেন? বার বার করছেন? গত ডিসেম্বরে করেছেন। এবারও করছেন।

প্রধানমন্ত্রী ড্রেসকোড অনুযায়ী, এক শাড়ি দুইবার পরার কথা নয়। এর অর্থ তিন বছর পরে ইচ্ছা করেই আগের শাড়ির হুবহু নকল করে নতুন শাড়ি বানানো হয়েছে শেখ হাসিনার জন্য। হয়তো আগামী ১৬ ডিসেম্বরেও তিনি এমন শাড়ি পরবেন!

ওরে হাসিনা, তুই আর কত নির্লজ্জ ও দেশদ্রোহী হলে এমনটা করতে পারিস? তোর বাবার দাবি অনুযায়ি ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে কেনা বাংলাদেশের জন্য তোর এবং তোর দল ও জোটের বিন্দুমাত্র দায়বোধ নেই? দিতে দিতেতো পুরো দেশটাই বিকিয়ে দিলিরে হারামজাদী—মনে চায় এরকম ভাষায় হাসিনাকে চিঠি লিখি। কিন্তু হাসিনার মতো খিস্তি খেউড়তো সভ্যলোকের মুখে মানায় না।
বাংলাদেশের নদী, মাছ, ট্রানজিট, সুন্দরবন, ব্যবসা, ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব, গার্মেন্টস, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও প্রতিষ্ঠান সবই ভারতকে দিয়ে দিয়েছে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত রেলওয়েতে হাত না দিলে কী হতো না? বাংলাদেশের বিজয় দিবসের দিন হাসিনা শাড়ি পরে ভারতের পতাকা রঙসদৃশ শাড়ি। ট্রেনের ক্ষেত্রেও তাই।

ভারতের পতাকা রঙসদৃশ ট্রেনগুলো ভারত থেকে আমদানি করা। ভারতের তৈরি ট্রেনগুলো ঢাকা-রাজশাহীসহ বিভিন্ন রুটে চলছে। বাংলাদেশের জন্য তৈরিকৃত ট্রেনের রঙ কেন ভারতের পতাকার রঙ-সদৃশ হবে? শুধু কী তাই? ট্রেনের বগির ভিতরের যাত্রীদের জন্য উৎকলিত নির্দেশনাগুলো হিন্দীতে লেখা। লেখা রয়েছে Indian Railways!! ট্রেনের পরিদর্শকরাও ভারতের নাগরিক।
বায়ান্নের রক্তাক্ত ভাষা আন্দোলন কী হিন্দীকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য? এই কী সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ি সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর উদাহরণ? এই কী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা? এই কী মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির নেতৃত্ব?
বাংলাদেশের ট্রেনগুলো কর্মচারী, কর্মকর্তার অধিকাংশই ভারতের, ট্রেনের নির্দেশনার ভাষা হিন্দী তাহলে আমরা কী বাংলাদেশে রয়েছি? নাকি হিন্দুস্তানে?

যেভাবে হাসিনার অবৈধ সরকার পাল্লা দিয়ে সবকিছু ভারতীয়করণের প্রতিযোগিতায় নেমেছে তাতে আজ বাংলাদেশের নাগরিক শব্দটি উচ্চারণ করতেও কষ্ট হচ্ছে। আদৌও কী বাংলাদেশ নামের স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্রটি আর স্বাধীন ও সার্বভৌম আছে?
ন্যূনতম দেশপ্রেম, ৫২ ও ৭১ এর শহীদদের প্রতি সামান্য সম্মান ও দায় থাকলে, দেশের প্রতি কিঞ্চিত প্রেম থাকলে আর উট পাখির মতো ঘুমিয়ে থাকার সময় নেই। জাগুন। জাগুন। বাংলাদেশকে যেভাবে পাকি মুক্ত করেছিল পূর্বপ্রজন্ম তেমনি হিন্দুস্তান মুক্ত করতে হবে এই বর্তমান প্রজন্মকে।

এদিকে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রতিবেশী সাম্রাজ্যবাদী ভারতের পতাকা গায়ে দিয়ে সমাবেশ করছেন! বারবার এমন ঘটনায় বিস্মিয় প্রকাশ করছেন অনেকে। সামাজিক মাধ্যম থেকে এমন কয়েকটি মন্তব্য তুলে ধরা হল।

শামসুল আলম নামে একজন লিখেছেন, “এ মুহুর্তে বাংলাদেশের ক্ষমতার চেয়ারে বসে আছেন যে ব্যক্তি তার নাম শেখ হাসিনা। উনি জনগনের ভোটে ক্ষমতায় বসেননি, তা সবাই জানে। কিন্তু গতকাল তিনি ভারতীয় পতাকা সদৃশ শাড়ি পড়ে খিস্তি খেউড় করলেন, তার দ্বারা জনগনকে কি বোঝাতে চাচ্ছেন? তারেক রহমানের একটি কথারও উনি তথ্য প্রমান দিয়ে খন্ডন করতে পারেননি। কিন্তু ভারতীয় পতাকা পরিধান করে তিনি কি বাংলার জনগনকে ভয় দেখাচ্ছেন যে, উনি বাংলাদেশের কেউ নন, বরং ভারতের নাগরিক? নাকি উনি বাংলার লেন্দুপ দরজি?

ভারতের কোনো মুখ্যমন্ত্রী বা সরকারের ব্যক্তি কি এখন পর্যন্ত এভাবে ভারতীয় জাতীয়তাবোধ দেখাতে পেরেছেন? এরপরে উনি কি আর বাংলাদেশ থাকার অধিকার রাখেন? প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে এহেন কাজ করা কি রাষ্ট্রদ্রোহিতার পর্যায়ে পড়ে না। আপনার বিচারে কি বলে?”

এডভোকেট আফজাল লিখেছেন, “বাংলাদেশের জনগণ তাকে ভোট দেয়নি। ভারতের চানক্ক বাবুরা তাকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। তাই ভারতপ্রেমে মাতাল হাসিনা।”
জাকির লিখেছেন, “ভারতের কমান্ডে এই দেশ বিভক্ত। ভারতীয় পতাকা আবৃত শাড়ী পরতে লজ্জা থাকবে কেন?”
আরেকজন লিখেছেন, “আচ্চা বুবুর পরনের এই শাড়িটি কোন দেশের পতাকা ?? তিনি মুদির জন্য এত পাগল কেন?? আজকের কথিত নাগরিক সমাবেশে ভারতীয় পতাকার রঙের শাড়ি পরে বক্তব্য দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী লেন্দুপ হাসিনা। এর আগে বাংলাদেশের বিজয় দিবসে ভারতীয় শাড়ি পরেছিল রাজাকার নেত্রী।”

আখতার লিখেছেন, “ভারতের পতাকার রঙের সাড়ি পরে জনতাকে হাসিনা কি বার্তা দিতে চায়?”
সাকিব লিখেছেন, “বাংলাদেশকে সিকিম বানাতে কত দেরি পানজেরি?

রুহুল লিখেছেনঃ বাংলাদেশকে ভারত বানাতে আর কত দেরি ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY