পরিবার নয়, তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজনীতিবিদ- তারেক রহমান

পরিবার নয়, তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজনীতিবিদ- তারেক রহমান

128
0
SHARE
তাজউদ্দীন:

দেশনায়ক তারেক রহমান হাসিনা বা জয়ের মতো উড়ে এসে বসা বা ঘটনাচক্রে আমদানি হওয়া রাজনীতিবিদ নয়। যারা বলেন তারেক রহমান জিয়া পরিবারের সন্তান বলেই বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন তাদের ধারণা ভুল। তারেক রহমান এমন একটি পরিবারে জন্ম নিয়েছেন যে পরিবার থেকেই তিনি রাজনীতির নানামাত্রিক দীক্ষা অর্জন করেছেন। তবুও তিনি তৃণমূলের রাজনীতি থেকে তাঁর রাজনীতি শুরু করেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতির ময়দানে তৃণমূল রাজনীতির প্রবক্তা দেশনায়ক তারেক রহমান।
তৃণমূলের হাজার হাজার মাইল হেঁটে হেঁটে ছুটে চলা রাজনীতির ধারায় যার রাজনীতির জন্ম তিনি তারেক রহমান। পরিবারের দীক্ষা ও বাস্তব জীবনের শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতায় পূর্ণ নেতা তারেক রহমান। ওয়ান ইলেভেনের মধ্যদিয়ে তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত হয়েছিল। তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে পারলেই দুর্নীতি, লুটপাট ও দেশবিক্রির রাজনীতি করা যায়। আর সে কারনেই তাকে আজ পর্যন্ত প্রবাস জীবন যাপন করতে হচ্ছে। যে নেতা তৃণমূলের মানুষের, প্রান্তিক মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন সে মানুষটিকে জনবিচ্ছিন্ন করে রাখার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
কিন্তু এসব ঘটনা তারেক রহমানকে আরও প্রজ্ঞাবান করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের গুণাবলী সৃষ্টিতে সহায়ক হয়েছে। তারেক রহমান রাজনীতির আলো- অন্ধকারের স্বরূপ অনুধাবন করতে শিখেছেন। বন্ধুর পথে রাজনীতি করার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তিনি সঞ্চয় করেছেন। শত্রু-মিত্র চিনেছেন। ইরানের ইমাম খোমেনিও প্রবাস থেকেই নেতৃত্ব দিয়ে ইরানকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছিলেন। তারেক রহমানও ইনশা আল্লাহ সেই পথেই হাঁটছেন। আজ ১৭ কোটি মানুষ তাঁর দিকে তাকিয়ে আছেন।
বর্তমান রংহেডেড হাসিনা সরকারের প্রধান আতঙ্ক এখন তারেক রহমান। প্রবাসে থাকা তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রধান ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সে কারনেই তাঁর নামের সাথে দুর্নীতিবাজ ট্যাগ লাগানো চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে এখন গেজেটেড কেরানি বুদ্ধিবেশ্যাদের দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবন নিয়ে মিথ্যাচার করাচ্ছে। বলা হচ্ছে, তারেক রহমান পারিবারিকভাবে রাজনীতির মসনদে বসেছেন। তাঁর নিজস্ব কোন যোগ্যতায় নয়। পরিবারতন্ত্রের অজুহাত তোলা হচ্ছে। কিন্তু হাসিনা পুত্র জয়ের ব্যাপারে তারা অন্ধ। যাহোক, তারেক রহমান যে পারিবারিকভাবে নয়, তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বা ভবিষ্যৎ প্রধান হতে যাচ্ছেন- সে বিষয়টি আজ আলোচনা করবো।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের শুরু:
১৯৮৮ সালে বগুড়া থেকে রাজনীতি শুরু করা তারেক রহমান ২০০২ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নিযুক্ত হোন। এক যুগেরও বেশি সময় তিনি তৃণমূলের সাধারণ কর্মী হিসেবে রাজনীতি করেছেন। রাজনীতি শিখেছেন। বাস্তব অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন।
‘তারেক রহমান : অপেক্ষায় বাংলাদেশ’ গ্রন্থের পর্যালোচনা মতে, তিনি ১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হন। ’৯১-র সংসদ নির্বাচনের সময় ক্যাম্পেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে বনানীতে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে নিয়মিত সক্রিয় হন। ২০০১ সালে বিএনপির ঐতিহাসিক বিজয়ের পেছনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির গবেষণা, মনিটরিং ও নির্বাচন পরিচালনা সেলটির অগ্রণী ভূমিকা সবারই জানা। চাইলে সরকারেও যোগ দিতে পারতেন, কিন্তু দলকে সুসংগঠিত করতেই তার প্রচণ্ড আগ্রহ। ২০০২ সালের ২২ জুন চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তাকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নিযুক্ত করেন। তৃণমূল-সঞ্চারী এই তরুণ বিভাগীয় প্রতিনিধি সভাগুলো করে রাজনীতিতে নতুন গতি যোগ করেন। তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে ২০০৯-এ বিএনপির কাউন্সিল অধিবেশন ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’—এই স্লোগানের প্রবল উচ্চারণে তারেক রহমানকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেছে। শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার সন্তান রূপে নয় বরং এই দলের পরীক্ষিত, অপরিহার্য এবং অনিবার্য সেনাপতি হিসেবে দল তাকে চেয়েছে।
তারেক রহমানের আগমন বা উত্থানকে উপ-মহাদেশের পারিবারিক উত্তরাধিকার থেকে আসা রাজনীতিকদের সঙ্গে তুলনা করা চলে না। সোনিয়া-রাজীব, বেনজীর-আসিফ-বিলওয়াল বা শেখ হাসিনার মতো তারেক রহমান শূন্যতার সুযোগে নেতা হননি। তিনি ১৪ বছর কেন্দ্রিয় নেতৃত্বের বাইরে প্রান্তিক নেতা হিসেবে দেশ, মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করেছেন। পিতার মতো হাজার হাজার মাইল পথ হেঁটে মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুঁটেছেন। মানুষের সুখ ও দুঃখের সাথী হয়েছেন।
যারা বলেন তারেক রহমান বয়সের আগে পারিবারিক সুবিধায় রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন তাদের উপমহাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের রাজনীতি শুরুর ইতিহাসই জানা নেই। শেখ মুজিব রাজনীতি শুরু করেন কত বছর বয়সে? ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল শহীদ জিয়া যখন প্রেসিডেন্ট হন তার বয়স ছিল ৪১ বছর ৩ মাস। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার মধ্য-মঞ্চে তিনি যখন আবির্ভূত হন তখন তিনি ৩৯ বছর ১০ মাসের টগবগে তরুণ। অতদূরে যাওয়ার দরকার নেই। যারা বেঁচে আছেন তারা কবে থেকে রাজনীতি শুরু করেছেন?
১৯৮৪ সালের ১০ মে বিএনপির চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় বেগম খালেদা জিয়ার বয়স ৩৯ বছর। অন্যদিকে শেখ হাসিনাকে যখন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী করা হয় তখন তার বয়স ৩৪। ভারতের রাজীব গান্ধী ৪০ বছর বয়সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।
আর তারেক রহমান এমন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন যে পরিবারই তার রাজনীতি শিখার এক বড় বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি শুধু পারিবারিকভাবে নয়, তিনি যোগ্যতা অনুযায়িই বিএনপির দায়িত্ব নিয়েছেন। সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন। বিএনপিতে তাঁর চেয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন ও জনপ্রিয় নেতা আর কে আছেন?
সবশেষে যে প্রশ্নটি ওঠা জরুরি, আগামীতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন এমন কোনো রাজনীতিকের কোনো ঘোষিত স্বপ্নের জানান পেয়েছি কি আমরা? নির্দ্বিধায় বলতে পারি তারেক রহমানের কাছ থেকে আমরা জানতে পেরেছি। মাটি ও মানুষকে জাগিয়ে বাংলাদেশকে আপন সম্পদে স্বয়ম্ভর করা, আধুনিক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে দাঁড় করানো, প্রান্তিক মানুষকে অগ্রে রেখে রাজনীতিকে বিকাশ করা, গণতন্ত্রের আত্মাকে সজীব-সচল করা—সবই তার ঘোষিত স্বপ্ন। শহীদ জিয়ার স্বপ্নেরই এক সময়োচিত সমপ্রসারণ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অথবা এর সুঠাম-স্বনির্ভর অভিযাত্রার সঙ্গে জিয়া পরিবারের যে আত্মিক বন্ধন, তার ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান আজ অজেয় উত্তরাধিকারে স্থিত হয়েছেন। তিনি লণ্ডনে থেকেও বাংলাদেশের জন্য উন্নয়নমূলক রূপরেখা তুলে ধরেছেন। ভবিষ্যতে কিভাবে দেশটাকে একটি স্বনির্ভর ও আকাঙ্ক্ষিত উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করবেন সে রূপরেখা তিনি থুলে ধরেছেন। ওনার মতো করে আর কোন নেতা কী বাংলাদেশকে গড়ার লক্ষ্যে কোন রূপরেখা তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন???
তিনি যখন মুক্ত স্বাধীন ছিলেন তখনও তিনি উন্নয়নের রূপকল্প নিয়ে কাজ করেছেন। ২০০৫ সালে একটি জাতীয় দৈনিক আয়োজিত গোলটেবিল সংলাপে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার বিশ্বাস ২০২৫ সালের বাংলাদেশ হবে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, অর্থনৈতিকভাবে সফল, উন্নত একটি গণতান্ত্রিক দেশ—যাকে অন্যরা শ্রদ্ধা করবে, বিশ্ববাসী সম্মানের সঙ্গে তাকাবে। এই হচ্ছে আমার এবং আমার প্রজন্মের সব বাংলাদেশী তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন।’ কৃষির উন্নয়ন এবং তাকে ভিত্তি করে শিল্পের বিকাশ সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রযুক্তির উন্নয়ন, কৃষকের জন্য ভালো বীজ দেয়া, গরিবের সঙ্গে হাঁস-মুরগির প্রতিপালনসহ অসংখ্য কাজে তিনি হাত বাড়িয়েছেন আগ্রহ ভরে। গ্রামে গ্রামে জরিপ চালিয়েছেন কত মাছ, ফল, ধান হয় প্রতি গ্রামে। সাগরে ও নদীতে জেগে ওঠা পলিকে সোনা বানানোর রূপকল্পও তার নাগালের বাইরে নয়। ‘একটু উদ্যোগ, একটু চেষ্টা, এনে দেবে সফলতা’—এই কর্তব্যতন্ত্রকে ছড়িয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন প্রতিটি জনপদে মানবিকতার বিকাশ হোক, সবাই সবার জন্য হয়ে উঠুক। রাজনীতি এবং উন্নয়নে এ উচ্চারণের নেতা তারেক রহমানই। বাংলাদেশের বাঁচা এর ওপরই নির্ভর করছে।
এখন তিনি আরও পরিপক্ক হয়েছেন। উন্নত রাষ্ট্রে বাধ্য হয়ে হলেও দীর্ঘকাল বসবাস করছেন। এবার তিনি আরও প্রগ্রেসিভ রূপকল্প তুলে ধরেছেন। তুলে ধরেছেন তাঁর রাজনৈতিক দর্শন। দলকে তিনি কোথায় নিতে চান, কিভাবে দলকে নেতৃ্ত্ব দিতে চান সে বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেছেন। তিনি দেশকে কোন ভিশনে নির্মাণ করতে চান সে বিষয়ে রূপকল্প প্রকাশ করেছেন। এসবতো অভিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিকের গুণ। আর একমাত্র তিনিই এই গুণ অর্জন করেছেন।
সুতরাং, বলা যায়, যারা তারেক রহমানকে কলুষিত করতে, ছোট করতে বলে বেড়াচ্ছেন যে, তিনি পারিবারিক সুবিধা থেকেই রাজনীতির মঞ্চে স্থান পেয়েছেন বা তাঁর বয়স হয়নি রাজনীতি করার- তারা দেশের স্বাধীনতাবিরোধী, সার্বভৌমত্ব বিনষ্টকারী, গণতন্ত্র হরণকারী ও উন্নয়নেবিরোধী বুদ্ধিবেশ্যা। এরা টিভি টকশো ও পত্রিকায় কলাম লিখে দেশনায়ক তারেক রহমানকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেয় করতে চান। তবে সে চেষ্টায় তারা সফল হবেন না। ইনশা আল্লাহ। বরঞ্চ, তারেক রহমান তাদের এ মিথ্যাচারের মধ্যদিয়ে ইতিবাচক রাজনীতির ধারা তৈরি করে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY