৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন না- ইতিহাসের দ্বিতীয় মীরজাফর শেখ মুজিব

৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন না- ইতিহাসের দ্বিতীয় মীরজাফর শেখ মুজিব

337
0
SHARE

তাজউদ্দীন:

১৯৭১। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচে উল্লেখযোগ্য ও গৌরবোজ্জ্বল বছর। যে বছরের শুরুতেই স্বাধীনতার প্রশ্নে উত্তাল হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশের জনপদ। ৭১ এর মার্চ মাসে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ, জুলুম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছিল পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী জনগণ। গোপনে গোপনে বিদ্রোহের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল সেনাবাহিনীতে কর্মরত অধিকাংশ বাঙালি অফিসার ও সৈনিকরাও। সাত কোটি মানুষের অপেক্ষা- শুধু একটি ঘোষণার। ৭ মার্চ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখ লাখ মানুষের কন্ঠে প্রকম্পিত বজ্রনিনাদ স্বৈরাচারী ইয়াহিয়া সরকারকে জানান দিয়ে দেয়- বাংলাদেশ আর পরাধীন থাকবে না। শোষণ, জুলুম আর বৈষম্যের বেড়াজালে আবদ্ধ রাখা যাবে না বাংলাদেশের সাত কোটি বাঙালিকে।

কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ পলাশীর মীর জাফরের মতো বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয় মুজিব নামক নব্য মীর জাফরকে বিশ্বাস করে। ৭ মার্চ, পাকিস্তানের জেনারেল ইয়াহিয়ার সাথে ফোনালাপের মাধ্যমে আঁতাত করে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া থেকে বিরত থাকেন এই ভীতু কাপুরুষ ভন্ডনেতা। বরঞ্চ ‘জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান’ বলে তার বক্তব্য শেষ করেছিলেন তিনি। যদিও এদিন সারা বাংলার মানুষ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েই রাজপথে নেমে এসেছিল। পাকিস্তানের দালাল মুজিব আলোচনার নামে প্রহসন করে সময় ক্ষেপণের কৌশল বেছে নেয়। এর ফলে, একদিকে বাঙালিরা নেতৃত্বশূন্য ও যুদ্ধের জন্য অপ্রস্তুত হয়ে পরে। আর উল্টো দিকে, ইয়াহিয়াকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে হাজার হাজার সৈন্য ও যুদ্ধ সরঞ্জাম বাংলাদেশে নিয়ে আসার সুযোগ করে দেয় মুজিব নামক কুটকৌশলী চরিত্রটি। ৭ মার্চ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণাটি দিলে ২৫ মার্চ পাকিস্তানিরা সংগঠিত হয়ে নিরিহ ঘুমন্ত বাঙালিদের উপর নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালাতে পারতো না। কারণ তখন বাঙালি সৈনিকরা বিদ্রোহের জন্য প্রস্তুত ছিল এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষও প্রস্তুত ছিল। ৭ মার্চের আগে ও পরে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কর্মকর্তা মুজিবকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আসন্ন গোপন যুদ্ধের প্রস্তুতি এবং বাঙালি সৈনিকদের বিদ্রোহের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি থাকার বিষয়টি বারবার অবগত করার পরও তিনি আলোচনার নামে প্রহসন চালিয়ে যান। এমনকি ২৫ মার্চ বিকেলে ইয়াহিয়া বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ দিয়ে পাকিস্তানে চলে গিয়েছে- এরকম সংবাদ বারবার অবগত হবার পর এবং রাত ১২ টা পরযোন্ত তাজউদ্দীনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও বাঙালি সেনাঅফিসারদের দাবির পরও স্বাধীনতার ঘোষণা না দিয়ে ২৭ মার্চ শুধু হরতাল ডেকে নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে থাকার নির্দেশ দেয় এই মীর জাফর মুজিব। আর সে রাতেই বর্বর হানাদারদের নির্মম আক্রমণে বাংলাদেশ মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়। ঘটে ইতিহাসের সবচে ভয়াবহ, নারকীয় ও নির্মম গণহত্যা এবং ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন লেখা ও তথ্যচিত্রতে এন্থনি মাসকারেনহাস, হুমায়ূন আহমদ, মঈদুল, হাবিবুর রহমান, শামসুর রাহমান ও নির্মল সেনসহ অসংখ্য রেফারেনস তুলে ধরে প্রমাণ করা হয়েছে শেখ মুজিব ৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়নি। সে বিষয়ে আজ লিখবো না।

শেখ মুজিব যদি ৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন না অখন্ড পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে, তেমনি তার কন্যা হাসিনা অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এশিয়া কাপের ফাইনালে ম্যাচে বাংলাদেশকে ভারতের কাছে বলি দেয়। এই হলো মুজিব পরিবারের দেশপ্রেম। এই তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY